Bengal Liberty : কলামিস্ট: প্রাইমা হোসেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মেরিল্যান্ড স্টেট আওয়ামী লীগের সংগ্রামী সহ-সভাপতি বিশিষ্ট সমাজ সেবিকা ও সংগঠক. বর্তমান সরকারের পায়ের নিচে মাটি নেই। কথাটা আজ দেশের ১৮ কোটি মানুষের মুখে। যেদিকে তাকানো যায়, সেদিকেই একই চিত্র – জনসমর্থন শূন্য, জনগণের আস্থা শূন্য, আর রাষ্ট্র পরিচালনায় চরম ব্যর্থতা।
ক্ষমতা দখলের পর দুই বছর পার হলেও এই সরকার আজও বৈধতা পায়নি। ভোট ছাড়া, জনগণের ম্যান্ডেট ছাড়া জোর করে ক্ষমতায় বসে থাকা যায়, কিন্তু দেশ চালানো যায় না। আজ সেটাই প্রমাণিত হচ্ছে।
টিক্কা খানের ফর্মুলায় দেশ চালানো
১৯৭১ সালে পাকিস্তানি জেনারেল টিক্কা খান বাংলাদেশে এসেছিল অপারেশন সার্চলাইট নিয়ে। তার ফর্মুলা ছিল – হত্যা করো, জ্বালাও, দখল করো। বুদ্ধিজীবী হত্যা করো, গ্রাম পুড়িয়ে দাও, মানুষকে ভয় দেখাও। তাহলেই দেশ শান্ত থাকবে। আজ ৫৪ বছর পর আবার সেই একই ফর্মুলা দেখছি। টিক্কা খান যেমন বাঙালিকে দমাতে পারেনি, ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে, এই সরকারও পারবে না।
আরও খবর
আজ দেখুন : টিক্কা খান যেমন গণগ্রেপ্তার করত, এরাও তেমন প্রতিদিন ৫০০-১০০০ মিথ্যা মামলায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নিরীহ নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করছে- টিক্কা খান যেমন বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিত, এরাও তেমন সারা দেশে আওয়ামী লীগের নেতাদের বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, অফিস ভাঙচুর ও লুটপাট করছে. টিক্কা খান যেমন বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করত, এরা তেমন শিক্ষক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিকর্মীদের চাকরিচ্যুত, গ্রেপ্তার ও নির্যাতন করছে।টিক্কা খান যেমন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মুছে দিতে চেয়েছিল, এরাও তেমন বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ, ৭১ এর স্মৃতিচিহ্ন ধ্বংস করছে। তাহলে পার্থক্য কোথায়? কোনো পার্থক্য নেই। পোশাক বদলেছে, কিন্তু চরিত্র একই। কেন বলছি পায়ের নিচে মাটি নেই?
সরকারের পায়ের নিচে মাটি নেই, তার তিনটি বড় প্রমাণ আছে।
প্রথম প্রমাণ – অর্থনীতি ধ্বংস: শেখ হাসিনার আমলে রিজার্ভ ছিল ৪৮ বিলিয়ন ডলার। আজ তা ১৯ বিলিয়নে নেমে এসেছে। ব্যাংকগুলো ফাঁকা। ১১টি ব্যাংক দেউলিয়ার পথে। জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২৬ টাকা বাড়ানো হয়েছে। বিদ্যুতের দাম তিন দফা বাড়ানো হয়েছে। মানুষ বাজারে গিয়ে চাল, ডাল, তেল কিনতে পারছে না। যে সরকার মানুষের পেটে ভাত দিতে পারে না, তার পায়ের নিচে মাটি থাকে কিভাবে?
দ্বিতীয় প্রমাণ – আইনশৃঙ্খলা ধ্বংস: দেশে এখন আইনের শাসন নেই। আছে মোব লিঞ্চিংয়ের শাসন। প্রতিদিন গড়ে ৩-৪টি মোব লিঞ্চিং হচ্ছে। পুলিশ নীরব দর্শক। থানায় মামলা নেয় না। আদালতে জামিন দেয় না। জেলখানায় ৯০ হাজার ধারণক্ষমতার জায়গায় ২ লাখ মানুষ বন্দি। এই ভাবে কি দেশ চলে?
তৃতীয় প্রমাণ – জনগণের ঘৃণা: আপনারা গ্রামে যান, গঞ্জে যান, চায়ের দোকানে বসুন। মানুষ কী বলছে শুনুন। একজন মানুষও এই সরকারকে সমর্থন করে না। কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র, শিক্ষক, ব্যবসায়ী – সবাই আজ অতিষ্ঠ। ফেসবুকে কমেন্ট বক্স দেখুন। ৯৯% কমেন্ট এই সরকারের বিরুদ্ধে। যে সরকারকে জনগণ ঘৃণা করে, তার পায়ের নিচে মাটি থাকতে পারে না।
শেষ পরিণতি কী হবে
টিক্কা খান ভেবেছিল সবকিছু শেষ করে দেবে। বাঙালি জাতিকে নিশ্চিহ্ন করে দেবে। কিন্তু শেষ করতে পারেনি। উল্টো নিজেই শেষ হয়ে গেছে। বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে।
আজ যারা টিক্কা খানের মতো সবকিছু শেষ করে দিতে চায় – শিক্ষা ব্যবস্থা শেষ, অর্থনীতি শেষ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা শেষ, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ শেষ – তারাও শেষ হয়ে যাবে।
ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না।
আজ যারা মিথ্যা মামলা দিচ্ছে, বাড়িঘর পোড়াচ্ছে, মানুষ মারছে – তাদের প্রত্যেকের বিচার একদিন বাংলার মাটিতেই হবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, মানবাধিকার আদালত তাদের ছাড়বে না।
উপসংহার
আমরা আর টিক্কা খান দেখতে চাই না। আমরা শান্তি চাই। আমরা সেই বাংলাদেশ চাই, যেখানে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মানুষ নিরাপদে ছিল, উন্নয়ন ছিল, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছিল।
পায়ের নিচে মাটি না থাকলে বেশিদিন ক্ষমতায় থাকা যায় না। জনগণের স্রোত যখন আসবে, তখন টিক্কা খানের মতোই সবকিছু ভেসে যাবে।
সেই দিন আর বেশি দূরে নয়।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।


