Bengal Liberty : কলামিস্ট নয়ন বিশ্বাস রকি
_সাবেক ছাত্রলীগ নেতা, সমাজকর্মী ও মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের কর্মী
বাংলাদেশের অর্থনীতি আজ আইসিইউতে। বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর যৌথ তথ্য বলছে – ভয়াবহ এক ধসের সামনে দাঁড়িয়ে দেশ। যেকোন সময়, যেকোন মুহূর্তে নতুন করে গরিব হতে পারে দেশের ৩ কোটি মানুষ। এটি কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, এটি আন্তর্জাতিক সংস্থার সতর্কবার্তা।
এই ৩ কোটি মানুষ কারা? এরা ভিক্ষুক নয়। এরা সেই মধ্যবিত্ত, নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষ – যারা শেখ হাসিনার ১৫ বছরে কোনোমতে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছিল। যার ঘরে ফ্রিজ ছিল, ছেলেটা কলেজে পড়ত, মাস শেষে ৫ হাজার টাকা সঞ্চয় থাকত। আজ তারাই আবার দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাচ্ছে।
আরও খবর
কেন এই ৩ কোটি মানুষ গরিব হচ্ছে
আয় কমেছে, ব্যয় বেড়েছে দ্বিগুণ শেখ হাসিনার আমলে মাথাপিছু আয় ছিল ২,৮২৪ ডলার। আজ তা কমে ২,২০০ ডলারে নেমেছে। অপরদিকে চাল ৯০ টাকা, ডাল ১৪০ টাকা, সয়াবিন তেল ২০০ টাকা, ডিম ৬০ টাকা হালি। মানুষের আয় কমেছে ৩০% আর খরচ বেড়েছে ৮০%। এই ঘাটতি পূরণ করতে মানুষ ঋণ করছে, সঞ্চয় ভাঙছে।
কর্মসংস্থানে ধস: গত দেড় বছরে দেশে ৪৭ লাখ মানুষ চাকরি হারিয়েছে। গার্মেন্টসের ২০০+ কারখানা বন্ধ, উন্নয়ন প্রকল্প বন্ধ, বিদেশে শ্রমবাজার বন্ধ। বেকারত্বের হার ৪.৫% থেকে বেড়ে ৯% হয়েছে। একটি পরিবারে একজন বেকার মানে পুরো পরিবার গরিব।
টাকার মান পতন ইউনুস সরকার ডলারের দাম বাজারভিত্তিক করার নামে টাকার মান ৩০% কমিয়ে দিয়েছে। ডলার এখন ১২৪-১২৬ টাকা। ফলে আমদানি খরচ দ্বিগুণ। ছোট ব্যবসায়ী, দোকানদার পুঁজি হারিয়ে পথে বসেছে।
স্বৈরাচার ইউনুস ও তার উত্তরসূরী কারা
ইতিহাস সাক্ষী দেবে, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ধ্বংসের বীজ বপন করেছিল স্বৈরাচার ইউনুস সরকার। তিনি ক্ষমতায় এসেই আইএমএফের ৪৭০ কোটি ডলারের শর্তের নামে জনগণের উপর ছুরি চালান। ভর্তুকি প্রত্যাহার, বিদ্যুতের দাম তিন দফা বৃদ্ধি, জ্বালানি তেলের দাম ২৬ টাকা বাড়ানো – সবই তার সময়ে শুরু।
তিনি ৪৮ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভকে ১৯ বিলিয়নে নামিয়ে আনেন। ১১টি ব্যাংককে দেউলিয়া করে দেন। আইএমএফ নিজেই তাদের রিপোর্টে বলেছে – “Governance failure in Bangladesh banking sector.”
আর আজ তার উত্তরসূরীরা, অর্থাৎ বিএনপি-জামাত জোট সরকার সেই ধারাবাহিকতাই রক্ষা করছে। তারা ইউনুসের রেখে যাওয়া ফাঁদেই দেশকে আরও গভীরে ডুবাচ্ছে।
বাংলাদেশ বিক্রেতা বিএনপি ও জামাতের প্রেমের সম্পর্ক
বিএনপিকে কেন বাংলাদেশ বিক্রেতা বলা হয়? কারণ ২০০১-২০০৬ সালে তারা দেশকে বিক্রি করেছিল। দুর্নীতিতে ৫ বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, হাওয়া ভবনের লুটপাট, ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলা, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা – এগুলোই তাদের ইতিহাস।
আর তাদের জন্মজন্মান্তরের প্রেম হলো জামাত-শিবিরের সাথে। এই প্রেম ১৯৭১ সালের। যখন জামাত পাকিস্তানের প্রেমে দেশ বিক্রি করেছিল, তখন থেকেই বিএনপি তাদের উত্তরসূরী। আজকের সরকার আসলে তারেক রহমানের মুখোশে জামাতের সরকার।
প্রমাণ কি
শিক্ষা সিলেবাস থেকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলা হচ্ছে। দেশের বন্দর, সেন্টমার্টিন, করিডোর নিয়ে বিদেশি শক্তির সাথে গোপন দর কষাকষি চলছে।সংখ্যালঘু, মাজার, বাউলদের উপর হামলা বেড়েছে ৩০০%। মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বন্ধের পায়তারা চলছে। এগুলো কার এজেন্ডা? জামাতের। আর বাস্তবায়ন করছে বিএনপি।
খেসারত দিচ্ছে ১৮ কোটি জনগণ
এই অবৈধ প্রেমের খেসারত দিচ্ছে সাধারণ জনগণ। যে কৃষক শেখ হাসিনার আমলে ১৬ টাকায় সার পেত, আজ তাকে ৪০ টাকায় কিনতে হচ্ছে, তাও পাচ্ছে না। যে শ্রমিক ২০ হাজার টাকায় সংসার চালাত, আজ তার ৪০ হাজারেও চলছে না।
শেখ হাসিনা দারিদ্র্যের হার ৪০% থেকে ১৮% এ নামিয়েছিলেন। মানুষ স্বপ্ন দেখত – ছেলে ডাক্তার হবে, মেয়ে শিক্ষক হবে। আজ মানুষ স্বপ্ন দেখে – কাল দু’মুঠো ভাত জুটবে তো?
৩ কোটি মানুষের গরিব হওয়া মানে ৩ কোটি পরিবারের স্বপ্ন ভাঙা। এই পাপের দায় ইউনুস এবং তার উত্তরসূরি বিএনপি-জামাত জোটকেই নিতে হবে।
জনগণ এখন বুঝে গেছে, এই বাংলাদেশ বিক্রেতাদের হাতে দেশ নিরাপদ নয়। দেশকে বাঁচাতে হলে আবার সেই নেত্রীর কাছেই ফিরতে হবে, যিনি গরিবের মুখে হাসি ফুটিয়েছিলেন।
শেখ হাসিনা ছাড়া এই ধ্বংস থেকে কেউ আমাদের বাঁচাতে পারবে না।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।


