Bengal Liberty : কলামিস্ট ,নয়ন বিশ্বাস রকি সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সমাজসেবক ও মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে কর্মী।
বাংলাদেশে যখনই বিএনপি সরকার গঠন করে, তবে তার কূটনৈতিক ভবিষ্যৎ কখনোই ভালো হবে না। এটা শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, এটা বাস্তবতা। আন্তর্জাতিক রাজনীতি, ভূ-রাজনীতি এবং বাংলাদেশের সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলেই এই সত্য স্পষ্ট হয়ে যায়।
প্রথম কারণ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিপরীত অবস্থান।
বিশ্বে বাংলাদেশ পরিচিত একটি অসাম্প্রদায়িক, উদার ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার দেশ হিসেবে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এই পরিচয় বিশ্বে প্রতিষ্ঠিত করেছিল। কিন্তু বিএনপির জন্ম ও রাজনীতি সবসময় মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তির সাথে আপোষ করে চলেছে। তাদের প্রধান মিত্র জামায়াতে ইসলামী, যারা ১৯৭১ সালে গণহত্যার সাথে জড়িত ছিল।
আরও খবর
যখনই বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে, তখনই রাজাকার, আলবদরদের মন্ত্রী বানিয়েছে, গাড়িতে জাতীয় পতাকা তুলে দিয়েছে। এই ইতিহাস বিশ্ব ভুলে যায়নি। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার সংস্থাগুলো সবসময় এই উগ্রবাদী পুনর্বাসনকে ভালো চোখে দেখে না। তাই একটি বিএনপি-জামায়াত সরকারকে পশ্চিমা বিশ্ব কখনোই আস্থার সাথে গ্রহণ করবে না।
দ্বিতীয় কারণ জঙ্গি ও উগ্রবাদের পৃষ্ঠপোষকতা।
২০০১-২০০৬ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে বাংলাদেশ জঙ্গি রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিল। বাংলা ভাই, শায়খ আব্দুর রহমানের উত্থান, ৬৪ জেলায় একযোগে বোমা হামলা, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা – সবই তাদের আমলে ঘটেছে।
আজও আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা রিপোর্টে বলা হচ্ছে, দেশে মৌলবাদী উগ্রপন্থীদের তৎপরতা বেড়েছে। হিযবুত তাহরীর, আনসার আল ইসলাম প্রকাশ্যে মিছিল করছে। এমন একটি পরিস্থিতিতে বিএনপি ক্ষমতায় এলে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন কেউই বাংলাদেশকে নিরাপদ মনে করবে না। ভারতের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী কখনোই একটি জঙ্গিবান্ধব সরকারকে বিশ্বাস করবে না। তাদের নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়বে।
তৃতীয় কারণ অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও দুর্নীতি।
কূটনীতি আজকাল অর্থনীতির উপর দাঁড়িয়ে। আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক, এডিবি কোনো দেশকে তখনই সহায়তা করে যখন দেশে স্থিতিশীলতা ও সুশাসন থাকে। শেখ হাসিনার আমলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে স্থিতিশীল ছিল, তাই বিশ্ব বিনিয়োগ করতে আগ্রহী ছিল।
কিন্তু বিএনপির অতীত রেকর্ড হাওয়া ভবন, দুর্নীতিতে ৫ বার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন, বিদ্যুৎ খাতে লুটপাটের জন্য কুখ্যাত। গত দুই বছরে ব্যাংক লুট, রিজার্ভ চুরি, ১১টি ব্যাংক দেউলিয়ার পথে – এই পরিস্থিতিতে কোনো বিদেশি বিনিয়োগকারী বা দাতা সংস্থা বাংলাদেশের উপর ভরসা রাখবে না। আইএমএফ ইতিমধ্যে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।
চতুর্থ কারণ ভারত ও আঞ্চলিক শক্তির সাথে বৈরিতা
বিএনপির রাজনীতির একটি বড় অংশ হলো ভারত-বিরোধিতা। ক্ষমতায় আসার আগে তারা ভারত বিরোধী স্লোগান দেয়, ক্ষমতায় এসে গোপনে আপোষ করে। এই দ্বিচারিতা দিল্লি খুব ভালো করে জানে। তারেক রহমানের অতীত বক্তব্য, খালেদা জিয়ার সময়ে উলফা-কে অস্ত্র সরবরাহ, সীমান্তে অস্থিতিশীলতা – ভারত কখনো ভুলবে না।
অন্যদিকে চীনও বিএনপিকে বিশ্বাস করে না, কারণ তারা জানে বিএনপি ক্ষমতায় আবার পাকিস্তানপন্থী লবি শক্তিশালী হবে বর্তমানে তাই হচ্ছে। ফলে বাংলাদেশ ভারত-চীন উভয়ের কাছেই গুরুত্ব হারাবে।
সব মিলিয়ে বিএনপির কূটনৈতিক ভবিষ্যৎ অন্ধকার। তাদের হাতে না পশ্চিমা বিশ্ব নিরাপদ, না প্রতিবেশী ভারত নিরাপদ, না দেশের সংখ্যালঘু ও সাধারণ মানুষ নিরাপদ।
কূটনীতি চলে বিশ্বাসের উপর। যে দলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, জঙ্গি পৃষ্ঠপোষকতা, মুক্তিযুদ্ধ বিরোধিতার অভিযোগ, তাদের উপর বিশ্বাস রেখে কোনো দেশই এগিয়ে আসবে না।
তাই বলতে হয়, বিএনপি সরকার বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে একঘরে হয়ে যাবে। দেশ আবার তলাবিহীন ঝুড়ির দিকে যাবে।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।


