বাংলাদেশের বিচার
বাংলাদেশের বিচার

বাংলাদেশে বিচার চাইয়া লজ্জা দিবেন না

কলামিস্ট: নয়ন বিশ্বাস রকি_সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও সমাজসেবক, মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের কর্মী

আজ বাংলাদেশের আদালতগুলোর দিকে তাকান। কী দেখবেন? হাজার হাজার নেতাকর্মী বছরের পর বছর ধরে জেলে বন্দি। তাদের অপরাধ কী? তারা আওয়ামী লীগ করে, তারা জয় বাংলা বলে, তারা বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসে। শুধু এই কারণে তাদের নামে একের পর এক মিথ্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে।

একজন মানুষের নামে ১০০, ২০০, ৩০০ টা পর্যন্ত মামলা! এটা পৃথিবীর ইতিহাসে কোথাও আছে? একজন মানুষ কীভাবে একই সময়ে ৫টি জেলায় গিয়ে বোমা মারতে পারে, গাড়ি পোড়াতে পারে? এই প্রশ্ন আদালতে করলে বিচারকরা নিরবে কাঁদেন। তারা বলেন, আমাদের হাত বাঁধা। আমাদের কিছু করার নেই।

গত ২২ মাসে প্রায় ৩ লক্ষ নেতাকর্মীকে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। তারা জামিন পাচ্ছে না। উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেলেও নিম্ন আদালতে আবার নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে। এটা বিচারের নামে প্রহসন।

জেলে যারা আছে, তাদের পরিবারের খোঁজ কে নেবে? তাদের মা কাঁদছে, বোন কাঁদছে, স্ত্রী কাঁদছে। ছোট ছোট বাচ্চারা বাবার অপেক্ষায় পথ চেয়ে আছে। কিন্তু বিচার নেই। কারণ বিচার বিভাগ আজ স্বাধীন নয়। বিচার বিভাগ আজ জামাত-বিএনপির হাতে বন্দি।

জাতিসংঘের মানবাধিকার সনদের ১০ নং অনুচ্ছেদে বলা আছে, প্রত্যেক ব্যক্তির একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ আদালতে ন্যায্য বিচার পাওয়ার অধিকার আছে। বাংলাদেশের সংবিধানের ৩১, ৩২ এবং ৩৫ অনুচ্ছেদেও একই কথা বলা আছে। কিন্তু বাস্তবে তার কিছুই নেই।

বিনা বিচারে বছরের পর বছর আটকে রাখা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। এটা International Covenant on Civil and Political Rights (ICCPR) এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন, যার স্বাক্ষরকারী বাংলাদেশ নিজেই।

যে দেশে প্রধান বিচারপতি থেকে শুরু করে নিম্ন আদালতের বিচারক পর্যন্ত সবাইকে হুমকি দিয়ে, বদলি করে, ভয় দেখিয়ে রায় লেখানো হয়, সেখানে বিচার চেয়ে কী লাভ?

যে দেশে শেখ হাসিনার মতো একজন জনপ্রিয় নেত্রীর বিরুদ্ধে ক্যাঙ্গারু কোর্টে বিচারের নামে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করা হয়, সেখানে সাধারণ মানুষের বিচার কে করবে?

আজ বাংলাদেশে বিচার চাওয়া মানে, অন্ধকারে আলো খোঁজা। আজ বাংলাদেশে বিচার চাওয়া মানে, মরুভূমিতে পানি খোঁজা।

আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বলতে চাই, আপনারা বাংলাদেশের দিকে তাকান। এখানে বিচার ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে। এখানে ১৮ কোটি মানুষ বিচারহীনতার সংস্কৃতিতে ভুগছে।

এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে হলে আন্তর্জাতিক তদন্ত দরকার। জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনতে হবে। সকল রাজবন্দির মুক্তি দিতে হবে।

নইলে ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করবে না।

Bengal Liberty