Bengal Liberty : মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে যুদ্ধের কালো মেঘ। সৌদি আরবের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে এবার মিশরের বিরুদ্ধেও সুর চড়াল ইয়েমেনের হাউথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী। মিশরের পার্লামেন্টের সামরিক সহায়তার অনুমোদনকে কার্যত ইয়েমেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা বলে আখ্যা দিল হাউথি নেতৃত্ব। ফলে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতি। তবে হাউথিদের এই মন্তব্যকে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ ঘোষণার সমতুল্য হিসেবে দেখার আগে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
সৌদি আরবের উপর হাউথিদের লাগাতার হামলার আবহে গত ২৬ অক্টোবর মিশরের পার্লামেন্ট প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসিকে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে। পার্লামেন্টের এই সিদ্ধান্তের ফলে রিয়াধের পাশে সামরিকভাবে দাঁড়ানোর পথ আরও প্রশস্ত হল কায়রোর সামনে।
তবে সৌদির তরফে মিশরীয় সেনা মোতায়েনের কোনও আনুষ্ঠানিক অনুরোধের কথা এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। মিশরের পক্ষ থেকেও কী ধরনের সামরিক সহায়তা দেওয়া হবে, তা স্পষ্ট নয়। মিশরের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন সে দেশের বিরোধী রাজনৈতিক গোষ্ঠীর একাংশও।
আরও খবর
মঙ্গলবার হাউথি রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য মহম্মদ আলি আল-হাউথি এক বিবৃতিতে জানান, সৌদি আরবের তথাকথিত প্রতিরক্ষায় মিশর ও তার পার্লামেন্টের সমর্থন কার্যত ইয়েমেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেই নতুন করে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
শুধু মিশর নয়, সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সমঝোতায় থাকা পাকিস্তান ও তুরস্কের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে হাউথি নেতৃত্ব। তাদের দাবি, এই ধরনের সামরিক জোট আঞ্চলিক সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করতে পারে।
তবে হাউথিদের এই কড়া বার্তার পর পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার। মিশরের সম্ভাব্য সামরিক ভূমিকা, সৌদি আরবের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলির অবস্থান—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্য এখন এক অত্যন্ত স্পর্শকাতর সন্ধিক্ষণে। সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়লে তার প্রভাব শুধু এই অঞ্চলে নয়, গোটা বিশ্বের বাণিজ্য ও নিরাপত্তার উপরেও পড়তে পারে।


