Bengal Liberty : রাজ্যে পালাবদলের পর প্রথমবার ঠাকুরনগরের ঠাকুরবাড়িতে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি রবিবার তাঁর সফরের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠল ঠাকুরবাড়ির মধ্যাহ্নভোজ। মুখ্যমন্ত্রীর আপ্যায়নে কোনও খামতি রাখলেন না বাগদার বিধায়িকা তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের স্ত্রী সোমা ঠাকুর। সকাল সাড়ে পাঁচটা থেকেই নিজে রান্নাঘরে নেমে পড়েন তিনি। দীর্ঘ সময় ধরে একের পর এক পদ তৈরি করে দুপুরে মুখ্যমন্ত্রীর সামনে সাজিয়ে দেন এলাহি বাঙালি ভোজ। সেই আয়োজনের মধ্যে বিশেষভাবে মন জয় করে নেয় ঠাকুরবাড়ির ঐতিহ্যবাহী পদ ‘চিংড়ির পিঠে’।
মধ্যাহ্নভোজের আগে শুভেন্দু জানান, একজন বাঙালি সাধারণত যে ধরনের খাবার খান, তিনিও এদিন সেই বাঙালি খাবারই খাবেন। সোমা ঠাকুর নিজের হাতে রান্না করেছেন, সেটিকে পরম প্রাপ্তি বলেও উল্লেখ করেন তিনি। সহকর্মী বিধায়িকার হাতের রান্না খাওয়ার সুযোগ পেয়ে যে তিনি খুশি, মুখ্যমন্ত্রীর কথায় তা স্পষ্ট। রাজনৈতিক ব্যস্ততার মধ্যেও এমন ঘরোয়া আপ্যায়ন তাঁর কাছে বিশেষ আনন্দের বলেই জানান তিনি।
অন্যদিকে, সোমা ঠাকুরের কথায়, মুখ্যমন্ত্রীর জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছিল ঠাকুরবাড়ির নিজস্ব পদ চিংড়ির পিঠে। ছোট ও মাঝারি আকারের চিংড়ির সঙ্গে নারকেল বাটা, জিরে, কাঁচালঙ্কা ও হলুদ মিশিয়ে তৈরি করা হয় এর পুর। সেই মিশ্রণ কলাপাতায় মুড়ে ধীর আঁচে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে রান্না করা হয়। এই পদ তৈরিতে সময় ও যত্ন—দুটিই লাগে। সোমা জানান, চিংড়ির পিঠে মুখ্যমন্ত্রীর এতটাই পছন্দ হয়েছে যে তিনি একাধিকবার তা নিয়েছেন। কীভাবে পদটি তৈরি হয়, সেই রান্নার পদ্ধতি সম্পর্কেও আগ্রহ দেখিয়েছেন শুভেন্দু।
আরও খবর
চিংড়ির পিঠে ছাড়াও মধ্যাহ্নভোজের মেনু ছিল বেশ বড়। তালিকায় ছিল মৌরলা মাছ, ইলিশ ভাজা ও ভাপা, পমফ্রেট ভাজা, চিংড়ি-মোচার ঘণ্ট এবং চিংড়ির মালাইকারি। আমিষ পদের পাশাপাশি ছিল খাসির মাংস ও দেশি মুরগির মাংস। নিরামিষ পদ হিসেবে পরিবেশন করা হয় ভেজ ডাল, বেগুন ভাজা ও উচ্ছে ভাজা। শেষ পাতে ছিল মিষ্টি, দই এবং ছানার পায়েস। সোমার দাবি, মুখ্যমন্ত্রী বিশেষ করে মৌরলা মাছ, ভেজ ডাল, বেগুন ভাজা, উচ্ছে ভাজা এবং চিংড়ির পিঠে বেশ তৃপ্তি করে খেয়েছেন।
রান্নার প্রস্তুতি নিয়েও বিস্তারিত জানিয়েছেন সোমা। ঠাকুরবাড়ির কর্মীরা বাজার করে আনলেও কী কী উপকরণ লাগবে, তার নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি নিজেই। রান্নার বেশিরভাগটাই নিজের হাতে করেছেন বলে জানান তিনি। সকাল থেকে দীর্ঘ সময় রান্নাঘরে কাটিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর জন্য এই আয়োজন করতে পেরে স্বাভাবিকভাবেই খুশি বিধায়িকা।
সোমার এই প্রস্তুতি অবশ্য এক দিনের সিদ্ধান্ত ছিল না; মুখ্যমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে আগেভাগেই খাবারের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কোন পদ কখন পরিবেশন করা হবে, কোন মাছ কীভাবে রান্না হবে, সব দিকেই বিশেষ যত্নে নজর রেখেছিলেন তিনি। অতিথির পছন্দকে গুরুত্ব দিয়েই মেনু সাজানো হয়েছিল বলে জানান সোমা।
ঠাকুরনগরের ঠাকুরবাড়িতে মুখ্যমন্ত্রীর সফর ঘিরে মতুয়া সমাজের সঙ্গে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক নানা বিষয়ের আলোচনা ছিলই। তবে সেই কর্মসূচির ফাঁকেই মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন আলাদা করে নজর কাড়ে। অতিথি আপ্যায়নের বাঙালি রীতি মেনেই সাজানো হয়েছিল খাবারের থালা। আর নানা পদের ভিড়ে শেষ পর্যন্ত আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এল ঠাকুরবাড়ির বিশেষ চিংড়ির পিঠে। সোমার রান্নায় মুখ্যমন্ত্রীর এমন তৃপ্তির কথা জানাজানি হতেই ঠাকুরবাড়ির এই ঐতিহ্যবাহী পদ ঘিরে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।


