Bengal Liberty : কলামিস্ট: প্রাইমা হোসেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড স্টেট আওয়ামী লীগের সংগ্রামী সহ-সভাপতি, বিশিষ্ট সমাজসেবী ও সংগঠক।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে ডিসেম্বর মাসে সরকার পরিবর্তনের আলোচনাকে অনেকে অসামাজিক কার্যকলাপ বা অস্থিতিশীলতা হিসেবে তুলে ধরতে চাইছেন। কিন্তু আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও গণতান্ত্রিক রীতিনীতির নিরিখে সরকার পরিবর্তনের দাবি অস্বাভাবিক কিছু নয়। বরং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এটি একটি স্বাভাবিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়া।
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে এই বিষয়টি পাঁচটি দিক থেকে ব্যাখ্যা করা যায়।
গণতান্ত্রিক অধিকার ও জনগণের ম্যান্ডেট
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদ অনুযায়ী, জনগণের সরকার পরিবর্তনের দাবি জানানো কিংবা সরকারের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করা গণতান্ত্রিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত। এটি কোনও অসামাজিক কার্যকলাপ নয়, বরং নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারের অংশ। বিশ্বের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক দেশে নির্বাচন কিংবা গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের নজির রয়েছে।
আরও খবর
ডিসেম্বর—বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ মাস
বাংলাদেশের ইতিহাসে ডিসেম্বর বিজয়ের মাস। একই সঙ্গে এই মাসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের স্মৃতিও। ১৯৯০ সালের ডিসেম্বর মাসে গণ-আন্দোলনের মুখে স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারের পতন হয়েছিল। তাই ডিসেম্বর মাসে রাজনৈতিক পরিবর্তনের আলোচনা বাংলাদেশের ইতিহাস ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের কাছে এই পরিস্থিতিকে এভাবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে—‘এটি কোনও অসামাজিক কার্যকলাপ নয়, বরং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে একটি আন্দোলন। বাংলাদেশের মানুষ ভোটাধিকার, আইনের শাসন এবং মানবাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবি জানাচ্ছেন। শান্তিপূর্ণ গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে কোনও অজনপ্রিয় বা অনির্বাচিত সরকারের পরিবর্তনকে বিশ্বজুড়ে গণতান্ত্রিক উত্তরণের অংশ হিসেবে দেখা হয়, নৈরাজ্য হিসেবে নয়।’
সরকার পতন মানেই রাষ্ট্রের পতন নয়
একটি সরকারের পতন মানেই দেশের পতন নয়। রাষ্ট্র, প্রশাসন ও সংবিধান নিজস্ব কাঠামোয় বহাল থাকে। শুধু জনগণের আস্থা হারানো একটি সরকারের পরিবর্তে নতুন সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়। গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় এই পরিবর্তন রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা আরও সুদৃঢ় করতে পারে।
বর্তমান বাস্তবতা
কোনও সরকার যদি দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে না পারে, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত হয় এবং জনগণের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ণ করে, তবে সেই সরকারের বিরুদ্ধে জনরোষ ও গণ-প্রতিরোধ গড়ে ওঠা অস্বাভাবিক নয়। এটি সমাজের মানুষের রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক অধিকারের বহিঃপ্রকাশ। তাই শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে অসামাজিক কার্যকলাপ হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের মানুষের বার্তা স্পষ্ট হওয়া উচিত—দেশের মানুষ কোনও বিশৃঙ্খলা চান না। তাঁরা অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে একটি জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চান।
লেখিকার বক্তব্য অনুযায়ী, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও রাষ্ট্রের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, দেশের সম্পদ ও স্বার্থ বিকিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রের কাঠামোকেও দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনের মাধ্যমেই বিএনপি সরকারের বিদায় অনিবার্য হয়ে উঠবে বলে তিনি মনে করেন। তাঁর দাবি, এই আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে এবং তা ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে।
অতএব, ডিসেম্বরে যদি জনগণের আন্দোলনের চাপে সরকারের পরিবর্তন ঘটে, তবে তা অসামাজিক ঘটনা নয়, বরং জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবেই বিবেচিত হওয়া উচিত।


