Sheikh Hasina
Sheikh Hasina

শেখ হাসিনা বিহীন বাংলাদেশ কি বিশ্বের কাছে গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে

Bengal Liberty : কলামিস্ট: নয়ন বিশ্বাস রকি সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও সমাজসেবক মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের কর্মী.

বাংলাদেশ আজ এক গভীর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। যে দেশটি গত দেড় দশক ধরে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিশ্বের বুকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে পরিচিত ছিল, সেই দেশটি আজ শেখ হাসিনা বিহীন অবস্থায় আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে। এটি শুধু একটি রাজনৈতিক মতামত নয়, এটি আন্তর্জাতিক বাস্তবতা।

উন্নয়নের রোল মডেল থেকে ব্যর্থ রাষ্ট্রের পথে

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ যা অর্জন করেছিল, তা বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ এবং জাতিসংঘ কর্তৃক স্বীকৃত ছিল। ২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের গড় জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৬.৫% এর বেশি। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, কর্ণফুলী টানেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের মতো মেগা প্রকল্পগুলো বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে উন্নত দেশের কাতারে নিয়ে গিয়েছিল। দারিদ্র্যের হার ৪১.৫% থেকে ১৮.৭% এ নামিয়ে আনা, শতভাগ বিদ্যুতায়ন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়ন ছিল জাতিসংঘের প্রশংসিত মডেল।

আজ শেখ হাসিনা বিহীন বাংলাদেশে সেই উন্নয়নের চাকা সম্পূর্ণ থেমে গেছে। বিদেশি বিনিয়োগ আসছে না, রিজার্ভ কমছে, টাকার মান পড়ছে, মূল্যস্ফীতি ১২% এর উপরে। গার্মেন্টস শিল্পে অর্ডার বাতিল হচ্ছে। বিশ্বের কোনো উন্নয়ন সংস্থা এখন আর বাংলাদেশকে মডেল হিসেবে উল্লেখ করছে না।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে শেখ হাসিনা ছিলেন স্থিতিশীলতা, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং জঙ্গিবাদ দমনের প্রতীক। তাঁর আমলে বাংলাদেশ জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছিল। হলি আর্টিজানের পর জঙ্গিবাদ দমনে বাংলাদেশের সাফল্য ছিল বিশ্বের জন্য উদাহরণ।

আজ বাংলাদেশ আবার জঙ্গি ও মৌলবাদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রতিদিন সংখ্যালঘু নির্যাতন, মন্দিরে হামলা, মাজার ভাঙচুর, এবং উগ্রপন্থীদের মিছিলের খবর প্রকাশিত হচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ভারতসহ বিভিন্ন দেশের মানবাধিকার রিপোর্টে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে।

শেখ হাসিনা ভারত, চীন, রাশিয়া, আমেরিকা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে এক অসাধারণ কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রেখেছিলেন। তিনি বাংলাদেশকে কোনো ব্লকের অংশ না করে সবার সঙ্গে বন্ধুত্বের নীতি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। রোহিঙ্গা ইস্যুতে ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে তিনি বিশ্বে মানবতার নেত্রী হিসেবে পরিচিত হয়েছিলেন।

আজ সেই কূটনৈতিক ভারসাম্য ভেঙে গেছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি আজ দিশেহারা। আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের কণ্ঠস্বর দুর্বল হয়ে গেছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন, জলবায়ু সম্মেলনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের গ্রহণযোগ্যতা কমেছে।

গত ২২ মাসে দেশে প্রায় ৩ লক্ষ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও সাধারণ মানুষকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে রাখা হয়েছে। বিচার বিভাগ আজ দলীয়করণের শিকার। জামিন পাওয়া অসম্ভব হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগের মতো ৬০-৬৫% মানুষের প্রতিনিধিত্বকারী একটি দলকে নিষিদ্ধ করে নির্বাচন থেকে দূরে রাখা হয়েছে, যা বিশ্বের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে নজিরবিহীন। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে।

শেখ হাসিনা বিহীন বাংলাদেশ মানে অন্ধকারে নিমজ্জিত বাংলাদেশ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিহীন বাংলাদেশ। উন্নয়ন বিহীন বাংলাদেশ। নিরাপত্তা বিহীন বাংলাদেশ। বিশ্ব আজ বাংলাদেশকে আর উন্নয়নের বিস্ময় হিসেবে দেখে না, দেখে একটি সংকটাপন্ন, অস্থিতিশীল, মৌলবাদ কবলিত রাষ্ট্র হিসেবে। তাই দেশের ১৮ কোটি মানুষ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে স্পষ্ট বার্তা — বাংলাদেশকে যদি আবার বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হয়, যদি গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ ফিরিয়ে আনতে হয়, তবে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের ফিরে আসার কোনো বিকল্প নেই।

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।

Pushpak Bhattacharya
পুষ্পক ভট্টাচার্য

পুষ্পক ভট্টাচার্য একজন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করার পর ২০২৬-এ Bengal Liberty-তে সাংবাদিক হিসেবে তাঁর পেশাগত যাত্রা শুরু হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদ এবং ক্রীড়া সাংবাদিকতার প্রতি বিশেষ আগ্রহ। দেশ-বিদেশের সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ, আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং খেলাধুলার নানা বিষযয়ের প্রতি বিশেষ ঝোঁক। ব্যস্ততার বাইরে বই ও সিনেমা সঙ্গী।