অধীররঞ্জন চৌধুরী
অধীর রঞ্জন চৌধুরী

গত ১৫ বছরে তৃণমূলের অত্যাচারে কংগ্রেস তছনছ হয়েছে: বিস্ফোরক অধীর

তাঁর কথায়, “ভবিষ্যতে কী হবে বলতে পারব না। কারণ সর্বভারতীয় নেতৃত্ব যা বলবেন, প্রদেশ নেতৃত্বও আছেন কী হবে দেখা যাবে। তখন আমি আবার বলব।” তৃণমূলের ক্ষেত্রেও কংগ্রেস সম্পর্কে কখনও কখনও নরম মনোভাব প্রকাশ পেলেও অধীরের প্রশ্নে কালীঘাট বা ক্যামাক স্ট্রিট কোনও রেয়াত করেনি। তবে বছর দেড়েক আগে বিজেপি-বিরোধিতার প্রশ্নে অধীরের বলা ‘পুকুর এবং নদী’র তত্ত্ব রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি করেছিল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছিল, অধীর কি তাহলে তৃণমূল সম্পর্কে সুর নরম করছেন? যদিও পরে সেই ধোঁয়াশা নিজেই কাটিয়ে দিয়েছিলেন অধীর।

বস্তুত, মমতা তথা তৃণমূলের সম্পর্কে অধীরের তীব্র-বিরোধিতার লাইনই ২০১৬, ২০২১ সালের বিধানসভা ভোট এবং ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে বাম এবং কংগ্রেসকে কাছাকাছি এনেছিল। গত লোকসভা ভোটে তীব্র মেরুকরণের সামনে হারতে হয় অধীরকে।
এ বিষয়ে অধীর মনে করেন, শুধুমাত্র সংখ্যালঘু মেরুকরণকে তীব্র করে তাঁকে পরাস্ত করতেই গুজরাত থেকে উড়িয়ে এনে ইউসুফ পাঠানকে বহরমপুরে প্রার্থী করেছিল রাজ্যের বিগত শাসকদল তৃণমূল। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও অধীর বহরমপুর বিধানসভায় প্রার্থী হয়েছিলেন। কিন্তু সেই ভোটেও তাঁকে হারতে হয়েছিল তীব্র মেরুকরণের সামনে।

দিল্লির মঞ্চে মমতার উপস্থিতি এবং সর্বভারতীয় কংগ্রেস ও সিপিএম নেতাদের কাছাকাছি থাকার ছবি বাংলায় বাম-কংগ্রেস দুই দলের মধ্যেই ধোঁয়াশা তৈরি করেছে। যাকে উস্কে দিতে রবিবার ময়দানে নেমেছিলেন অগ্নিমিত্রা পালের মতো রাজ্যের প্রথমসারির মন্ত্রীরা। আবার বুধবার শিলিগুড়ি থেকে বাম, কংগ্রেস এবং তৃণমূলকে এক বন্ধনীতে ফেলে আক্রমণ শানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তবে বুধবার অধীর স্পষ্ট করে দিলেন যে, মমতা-বিরোধী লাইন থেকে তিনি একেবারেই সরছেন না।

Bengal Liberty