Bengal Liberty: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত সহকারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই মিলল বিপুল পরিমাণ নগদ টাকার হদিশ! তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সরিষায় তৃণমূল কংগ্রেসের একটি দলীয় কার্যালয়ে তল্লাশি চালিয়ে ১ কোটি ২ লক্ষ ৭৯ হাজার টাকা উদ্ধারের দাবি করল ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলা। এই বিপুল পরিমাণ টাকা উদ্ধারের ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। উদ্ধার হওয়া টাকা কোথা থেকে এল, কী উদ্দেশ্যে তা দলীয় কার্যালয়ে রাখা হয়েছিল এবং এর পিছনে কোনও বড় আর্থিক লেনদেনের যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত সুমিত রায় বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই সরিষার ওই দলীয় কার্যালয়ে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা মজুত থাকার তথ্য সামনে আসে। এরপর তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালান তদন্তকারীরা। তল্লাশিতে উদ্ধার হয় মোট ১ কোটি ২ লক্ষ ৭৯ হাজার টাকা। পুলিশের দাবি, যে দলীয় কার্যালয় থেকে এই টাকা উদ্ধার হয়েছে, সেটি মগরাহাট পশ্চিমের তৃণমূল বিধায়ক শামিম আহমেদের বলে জানা গিয়েছে।
বুধবার সাংবাদিক বৈঠক করে এই টাকা উদ্ধারের কথা প্রকাশ্যে আনেন ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অভিষেক মজুমদার। শুধু টাকা উদ্ধারের বিষয়টিই নয়, তদন্তের অগ্রগতি নিয়েও বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন তিনি। পুলিশের বক্তব্য, সুমিত রায়কে জিজ্ঞাসাবাদের সূত্র ধরেই এই বিপুল পরিমাণ নগদ টাকার সন্ধান পাওয়া সম্ভব হয়েছে। তবে উদ্ধার হওয়া টাকার প্রকৃত উৎস এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা এখনও তদন্তসাপেক্ষ।
আরও খবর
প্রশ্ন উঠছে, একটি রাজনৈতিক দলের স্থানীয় কার্যালয়ে এত বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা কেন রাখা হয়েছিল? সাধারণ দলীয় কাজকর্মের জন্য, নাকি অন্য কোনও উদ্দেশ্যে ওই টাকা মজুত করা হয়েছিল? টাকার উৎস কী, কোনও নির্দিষ্ট আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে এর সম্পর্ক রয়েছে কি না, সেই সমস্ত বিষয়ই এখন তদন্তকারীদের নজরে। পাশাপাশি, এই টাকার সঙ্গে কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর আর্থিক যোগসূত্র রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তকারীদের কাছে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, উদ্ধার হওয়া টাকার মালিকানা কার? কে বা কারা ওই টাকা দলীয় কার্যালয়ে রেখেছিলেন? সুমিত রায়ের সঙ্গে এই টাকার সরাসরি কোনও আর্থিক যোগ রয়েছে কি না, তা জানারও চেষ্টা চলছে। পুলিশের অনুমান, তাঁকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করলে টাকা মজুত রাখার উদ্দেশ্য এবং এর পিছনে থাকা ব্যক্তিদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে।
এদিকে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত সহকারীর নাম জড়িয়ে এই বিপুল পরিমাণ টাকা উদ্ধারের ঘটনায় রাজনৈতিক তাৎপর্যও তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে, যে দলীয় কার্যালয় থেকে টাকা উদ্ধার হয়েছে, সেটি তৃণমূল বিধায়কের বলে পুলিশের সূত্রে দাবি করা হওয়ায় বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যদিও এই টাকা উদ্ধারের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ এখনও প্রমাণিত হয়নি।
এখন তদন্তকারীদের নজর মূলত টাকার উৎস, লেনদেনের নথি এবং এই ঘটনায় আরও কারও ভূমিকা রয়েছে কি না, তার দিকে। সুমিত রায়কে জেরা করে তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, উদ্ধার হওয়া টাকার সঙ্গে আরও কোনও নাম সামনে আসে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।


