Mausam Benazir Noor Resigns from Trinamool Rajya Sabha After Joining Congress
Bengal Liberty: কংগ্রেসে যোগদানের কয়েক দিনের মধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদপদ থেকে ইস্তফা দিলেন মৌসম বেনজির নূর (Mausam Benazir Noor) । সোমবার বিকেলে দিল্লিতে রাজ্যসভার চেয়ারম্যান তথা ভারতের উপরাষ্ট্রপতি সি পি রাধাকৃষ্ণনের (C. P. Radhakrishnan) সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি।
শনিবার আচমকাই দিল্লিতে সর্বভারতীয় কংগ্রেসের সদর দফতরে হাজির হয়ে কংগ্রেসে যোগ দেন মৌসম (Mausam Benazir Noor ) । সেই সময় উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা জয়রাম রমেশ (jairam ramesh), প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার (Suvankar Sarkar), কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক গোলাম আহমেদ মীর (Ghulam Ahmad Mir)এবং তাঁর দাদা, কংগ্রেস সাংসদ ঈশা খান চৌধুরী (Isha Khan Chaudhari)। যোগদানের দিনই মৌসম জানিয়েছিলেন, তিনি তৃণমূলের রাজ্যসভার আসন ছেড়ে দেবেন,সেই ঘোষণা অনুযায়ী সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেন তিনি।
ইস্তফার পর মৌসম দাবি করেন, কংগ্রেসকে বাংলায় সংগঠিত করতেই এবং প্রয়াত গনিখান চৌধুরীর( A. B. A. Ghani Khan Choudhury) রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বজায় রাখতেই তিনি ফের কংগ্রেসে ফিরেছেন। যদিও রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রয়েছে তৃণমূলের ভিতরের অসন্তোষ এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা।
তৃণমূল সূত্রে দাবি, আগামী এপ্রিল মাসেই মৌসমের রাজ্যসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে এবং তাঁকে পুনরায় রাজ্যসভায় পাঠানোর কোনও সম্ভাবনা ছিল না। পাশাপাশি, মালদহ জেলা তৃণমূলের নেতৃত্বে থাকাকালীন তাঁর কাজ নিয়েও দলের অন্দরে অসন্তোষ ছিল। সেই কারণেই বিধানসভা নির্বাচনে দলীয় টিকিট পাওয়ার সম্ভাবনাও ক্ষীণ হয়ে গিয়েছিল তাই এই বাস্তবতা বুঝেই তিনি দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
যদিও মৌসমের দলত্যাগ নিয়ে প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি তৃণমূল নেতৃত্ব। তবে জেলা স্তরের নেতাদের একাংশের বক্তব্য, দল ছাড়ার আগে মৌসম নিজেই তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন।
রাজনৈতিক সূত্রে চর্চা, (Mausam Benazir Noor)
আগামী বিধানসভা নির্বাচনে সুজাপুর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হতে পারেন মৌসম (Mausam Benazir Noor)।
উল্লেখযোগ্যভাবে, বাংলার হাতে গোনা কয়েকজন রাজনীতিকের মধ্যে মৌসম বেনজির নূরই এমন একজন, যিনি বিধানসভা, লোকসভা এবং রাজ্যসভা তিন স্তরের জনপ্রতিনিধিত্ব করেছেন।
সব মিলিয়ে, মৌসম বেনজির নূরের ইস্তফা শুধু দলবদল নয় বরং তা তৃণমূলের অন্দরের চাপ, নেতৃত্বের সংকট এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অনিশ্চয়তারই প্রতিফলন বলে মনে করছে বিরোধী শিবির। বিজেপির মতে, তৃণমূলের এই ভাঙন আগামী দিনে আরও গভীর হতে পারে।
