(Third World War possibility! Russia America conflict)
১. রাশিয়া বনাম আমেরিকা (Russia America conflict): তৈল জাহাজের সংঘাত ও নতুন ‘ঠান্ডা যুদ্ধ’
ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকেই রাশিয়া এবং আমেরিকার(Russia America conflict) সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। তবে বর্তমানে এই সংঘাত কেবল যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নেই, তা ছড়িয়ে পড়েছে সমুদ্রের নীল জলরাশিতে।
* জ্বালানি যুদ্ধ ও স্যাঙ্কশন: ইউক্রেন হামলার পর আমেরিকা(Russia America conflict) ও তার পশ্চিমা মিত্ররা রাশিয়ার ওপর কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছে। বিশেষ করে রাশিয়ার তেলের ওপর ‘প্রাইস ক্যাপ’ বা দামের সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
* তৈল জাহাজের সংঘাত: রাশিয়া(Russia America conflict) এই নিষেধাজ্ঞা এড়াতে তাদের ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা রহস্যময় জাহাজ ব্যবহার করছে। অভিযোগ উঠেছে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় আমেরিকার নৌবাহিনী বা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এই জাহাজগুলোকে আটকানোর চেষ্টা করছে।
* ঝুঁকি: যদি রাশিয়া ও আমেরিকার (Russia America conflict) মধ্যে সরাসরি সমুদ্রপথে কোনো সংঘর্ষ ঘটে বা কোনো তৈলবাহী জাহাজ আক্রান্ত হয়, তবে তা মুহূর্তের মধ্যে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়তে পারে। এটি কেবল তেলের দাম বাড়াবে না, বরং ন্যাটোর সঙ্গে রাশিয়ার সরাসরি সংঘাতের সূচনা করতে পারে।

২. ভেনেজুয়েলা সংকট(Venezuela crisis US Russia China): আমেরিকার দোরগোড়ায় নতুন রণক্ষেত্র
দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলা(Venezuela crisis US Russia China) এখন ভূ-রাজনৈতিক দাবার বোর্ডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘুঁটি। ভেনেজুয়েলার সঙ্গে আমেরিকার (Venezuela crisis US Russia China) সংঘাত এখন এক চরম রূপ নিয়েছে।
* সম্পদ ও দখলদারি: ভেনেজুয়েলায় (Venezuela crisis US Russia China) বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেলের মজুদ রয়েছে। আমেরিকা সেখানে তাদের পছন্দের সরকার বসাতে চায়, যা বর্তমান মাদুরো সরকার শক্ত হাতে প্রতিরোধ করছে।
* রাশিয়া ও চীনের এন্ট্রি: ভেনেজুয়েলাকে(Venezuela crisis US Russia China) রক্ষা করতে ঢাল হিসেবে দাঁড়িয়েছে রাশিয়া ও চীন। আমেরিকা যখনই ভেনেজুয়েলার ওপর চাপ সৃষ্টি করে, রাশিয়া সেখানে সামরিক উপদেষ্টা বা সাহায্য পাঠিয়ে নিজের উপস্থিতি জানান দেয়।
* মনরো ডকট্রিন বনাম সার্বভৌমত্ব: আমেরিকা(Venezuela crisis US Russia China) মনে করে ল্যাটিন আমেরিকা তাদের ‘ব্যাকইয়ার্ড’। কিন্তু রাশিয়া এখন সেই এলাকাতেই নিজের আধিপত্য বাড়াচ্ছে। এর ফলে ভেনেজুয়েলা হতে পারে আগামী দিনের ‘কিউবান মিসাইল ক্রাইসিস’-এর আধুনিক সংস্করণ।

৩. নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর(Netaji Subhas Chandra Bose quote America) সেই অমোঘ উক্তি: একটি ঐতিহাসিক দূরদৃষ্টি
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু(Netaji Subhas Chandra Bose quote America) কেবল একজন যোদ্ধা ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন প্রখর দূরদর্শী রাজনৈতিক বিশ্লেষক। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন এবং তার পরবর্তী সময় নিয়ে তিনি যে পর্যবেক্ষণ দিয়েছিলেন, তা আজ অক্ষরে অক্ষরে ফলে যাচ্ছে।
নেতাজির(Netaji Subhas Chandra Bose quote America) সেই উক্তি: “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সব থেকে ভয়ানক প্রভাব ফেলবে গোটা বিশ্ব জুড়ে।”
নেতাজি(Netaji Subhas Chandra Bose quote America) উপলব্ধি করেছিলেন যে, ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের পতনের পর আমেরিকা এক নতুন ধরনের সাম্রাজ্যবাদের (Imperialism) জন্ম দেবে। তিনি বিশ্বাস করতেন, আমেরিকা তাদের অর্থনৈতিক এবং সামরিক শক্তির মাধ্যমে বিশ্বের দেশগুলোর ওপর এমন এক আধিপত্য বিস্তার করবে, যা হবে অত্যন্ত সুক্ষ্ম কিন্তু মারাত্মক।
আজ আমরা কী দেখছি?
* ডলারের আধিপত্য: বিশ্ব অর্থনীতিকে আমেরিকা(Netaji Subhas Chandra Bose quote America) তাদের ডলারের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করছে।
* সামরিক হস্তক্ষেপ: মধ্যপ্রাচ্য থেকে শুরু করে ল্যাটিন আমেরিকা(Netaji Subhas Chandra Bose quote America)—যেখানেই আমেরিকার স্বার্থ বিঘ্নিত হয়েছে, সেখানেই তারা গণতন্ত্রের দোহাই দিয়ে অস্থিরতা তৈরি করেছে।
* প্রক্সি ওয়ার: বর্তমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ হোক বা ইসরায়েল-প্যালেস্টাইন সংঘাত—নেতাজির(Netaji Subhas Chandra Bose quote America) সেই ‘ভয়ানক প্রভাবের’ প্রতিফলন আমরা সর্বত্র দেখতে পাচ্ছি।

৪. তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ (Third World War possibility) কি অনিবার্য?
বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট বেরিয়ে আসে যা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের(Third World War possibility) ইঙ্গিত দেয়:
1. মেরুকরণ: বিশ্ব এখন দুই ভাগে বিভক্ত। একদিকে আমেরিকা ও ন্যাটো জোট, অন্যদিকে রাশিয়া, চীন, ইরান এবং উত্তর কোরিয়ার মতো দেশগুলো।
2. পারমাণবিক হুমকি: রাশিয়া ও আমেরিকা—উভয় দেশই বারবার পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রচ্ছন্ন হুমকি দিচ্ছে। এটি বিশ্বশান্তির জন্য সবথেকে বড় বিপদ।
3. আঞ্চলিক সংঘাতের বিস্তার: গাজা থেকে ইউক্রেন, আর এবার ভেনেজুয়েলা বা দক্ষিণ চীন সাগর—আঞ্চলিক ছোট ছোট যুদ্ধগুলো একত্রিত হয়ে একটি বৃহত্তর মহাযুদ্ধের(Third World War possibility) রূপ নিতে পারে।
শান্তির ভবিষ্যৎ না ধ্বংসের শুরু?

আমরা এমন এক সময়ে বাস করছি যেখানে কূটনৈতিক আলোচনার চেয়ে অস্ত্রের গর্জন বেশি শোনা যাচ্ছে। আমেরিকার একাধিপত্য ধরে রাখার চেষ্টা এবং রাশিয়ার তা চ্যালেঞ্জ করার লড়াই বিশ্বকে এক গভীর খাদে ঠেলে দিচ্ছে। নেতাজি আজ থেকে ৮০ বছর আগে যে সতর্কবাণী দিয়েছিলেন, তা আজ আমাদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।
যদি বড় শক্তিগুলো সংযত না হয়, তবে তৈল জাহাজের এই সংঘাত বা ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক সংকটই হতে পারে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের(Third World War possibility) স্ফুলিঙ্গ। মানবজাতি কি আবার সেই ধ্বংসলীলা প্রত্যক্ষ করবে, নাকি সময় থাকতে সচেতন হবে—সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
