Taratarla news
Taratarla news

Taratarla news: বাবার আশায় বসে ছিল মেয়ে! কিন্তু বাড়ি ফিরল না স্বপন

Bengal Liberty

বুধবারই প্রথম তারাতলায় কাজে গিয়েছিলেন জগদ্দলের স্বপন মন্ডল। কাজ শেষ করে আর বাড়ি ফেরা হল না তাঁর। ভাঙা গুদামে আটকে পড়েছিলেন স্বপন। বৃহস্পতিবার উদ্ধার করে এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল । মৃত‍্যু হয়েছে তাঁর। স্বপনের মেয়ে পিউ মন্ডল জানালেন, ঢালাইয়ের কাজ করতেন স্বপন। যেদিন যেমন কাজ হয় সেখানে যান। এক ঠিকাদারের মাধ‍্যমে তারাতলায় ওই গুদামের ঢালায়ের কাজের সুযোগ পেয়েছিলেন স্বপন। সাধারণত অন‍ান‍্য দিন স্বপন নিজে বাইক নিয়ে স্টেশনে গেলেও। ওই দিন স্টেশনে পৌঁছে দিতে গিয়েছিলেন পিউ। পিউ বলেন, “বাবা বললো স্টেশনে দিয়ে আসতে, সকালে আমিই বাবাকে ট্রেনে তুলে দিয়ে এলাম। ওটাই শেষ দেখা।”

Taratarla news
Taratarla news

কাজে গিয়েই আর ফেরা হল না

স্বপনের খোঁজে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই এসএসকেএম হাসপাতাল চত্বরে রয়েছেন স্বপনের আত্মীয় সুখদেও পারুই। তিনি বলেন, ” ১৫-২০ বছর ধরে উনি এই ঢালাইয়ের কাজ করছেন, উনি তারাতলাটা বাড়ি থেকে দূরে হয়ে যাচ্ছিল বলে প্রথমদিন তো কাজও যাননি। কিন্তু পরের দিন গেলেন, গিয়েই এই অবস্থা।”

Taratarla news
Taratarla news

বুধবার সকালে কাজে যাওয়ার পর থেকে বাড়ির সাথে আর যোগাযোগ হয়নি। তারাতলার ঘটনা সংবাদ মাধ‍্যমে দেখলেও স্বপন যে ওখানেই কাজ করতে গিয়েছেন তা একবারও মাথায় আসেনি বলে জানালেন স্বপনের আত্মীয়দের। পরে সন্ধের সময়ও স্বপন ফোন না করায় বাড়ির লোকেরা যোগাযোগ শুরু করেন। পিউ বলেন,” কাজ শেষ হয়ে গেলে বাবা একবার ফোন করত, সন্ধে হয়ে যাচ্ছে দেখে বাবাকে ফোন করলাম কিন্তু ফোন সুইচ অফ ছিল।” পিউ ফোন করেন ঠিকাদারকে। উনাকেও পাঁচ ছয় বার ফোন করার পরা পিউরা জানতে পারেন তারাতলার ওই গুদামেই চাপা পড়ে আছেন স্বপন। যে ঠিকাদারের সঙ্গে স্বপন গিয়েছিলেন তিনিও আহত অবস্থা এসএসকেএম হাসপাতাল থেকেই কথা বলেন পিউদের সঙ্গে।

তারপর থেকেই বুধবার সন্ধে থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত একবার ঘটনাস্থলে, একবার তারাতলা পুলিশ স্টেশন আর এসএসকেএম চত্বরে স্বপনের খোঁজ চালিয়ে গিয়েছিল পরিবার। অবশেষে বৃহস্পতিবার রাতে ধ্বংসস্তূপের মধ‍্যে থেকে স্বপনকে উদ্ধার করে আনা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন স্বপনের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতাল চত্বরে কাঁদতে কাঁদতে ভেঙে পড়েছেন পিউ। কখনও মন শক্ত করার চেষ্টা করছেন। প্রশাসনিক নিয়ম মতো দেহ শনাক্ত, ময়নাতদন্ত পরপর কাজ চলছে। পিউ হয়তো ভাবছেন, এবার বাবাকে বাড়ি নিয়ে যেতে হবে।

Bengal liberty
Bengal liberty

Bengal Liberty is a platform dedicated to guerrilla, unfiltered, and independent journalism. Through YouTube, its official website, and various social media channels, Bengal Liberty seeks to present citizen journalism to the public with integrity and transparency. Editor: Bittu Roy Chowdhury