Dar Es Salam
Bengal Liberty, কনাক্রি: গিনির রাজধানী কনাক্রির ঘনবসতিপূর্ণ ডার এস সালামে (Dar Es Salam) জনজীবন বিপর্যস্ত। শ্বাসকষ্টে ভুগছেন প্রচুর মানুষ। বহু বছর ধরে এলাকার বিশাল পৌর বর্জ্যভূমি থেকে নির্গত ঘন ও বিষাক্ত ধোঁয়ায় দমবন্ধ পরিস্থিতি। দিনরাত বর্জ্য পোড়ানোর ফলে তৈরি হওয়া ধোঁয়া এবং দুর্গন্ধে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা। ক্রমাগত বিস্তৃত হতে থাকা এই ডাম্পিং সাইট এখন পাহাড়-সম হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
ডার এস সালামের (Dar Es Salam) বাসিন্দাদের বক্তব্য

এই ধোঁয়ার দুঃসহ প্রভাব সবচেয়ে তীব্রভাবে অনুভব করছেন স্থানীয় বাসিন্দা দাউদা সিলা। সিসু ভাষায় তিনি বলেন, “আমি খুব কষ্টে জীবনযাপন করছি। বসে থাকলেই মনে হয় ফুসফুসে আগুন জ্বলছে। আর ২০-৩০ মিটার হাঁটলেই শ্বাস নিতে সমস্যা হয়।” তিনি জানান, রাতে ভয়াবহ কাশি আর অস্থিরতার কারণে ঘুমাতে পারেন না। ঠান্ডা জল পান করলে সামান্য স্বস্তি মেলে।
শুধু সিলা নন, এলাকার বহু মানুষই দায়ী করছেন এই ডাম্পিং গ্রাউন্ডকে। প্রতিনিয়ত জ্বলে ওঠা বর্জ্যের আগুন আকাশে বিষাক্ত ধোঁয়ার স্তর তৈরি করেছে। এর প্রভাবে আক্রান্ত হচ্ছে ঘরবাড়ি, স্কুল, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান-সহ পুরো পরিবেশ। সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে শিশুদের স্বাস্থ্য।
স্থানীয় বাসিন্দা মামাদামা ব্যাংগুরা জানান, তার ছোট ছেলে জিবরিল ছ’মাস বয়স থেকেই অসুস্থ। ‘‘বাইরে গেলে ধোঁয়ার জেরে শ্বাস নিতে পারে না। হাঁপিয়ে ওঠে। অক্সিজেন দিতে হয়। এখন বাইরে বেরোনোই বন্ধ হয়ে গিয়েছে।”
স্থানীয় ক্লিনিকের ফুসফুস বিশেষজ্ঞ নায়ান বালামুন গোবো তোকপা সতর্ক করে বলেন, এই দূষণের কারণে নিউমোনিয়া ও সিওপিডি-সহ বিভিন্ন শ্বাসযন্ত্রজনিত রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। দীর্ঘমেয়াদে এই এলাকার মানুষ ব্রঙ্কোপালমোনারি ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে পারেন। এই ডাম্প ধীরে ধীরে মানুষকে হত্যা করছে।
এই সংকটের সূচনা হয় ২০২১ সালে। সামরিক অভ্যুত্থানের পর গিনির সামরিক শাসক জেনারেল মামাদি দুম্বুইয়া উন্নয়ন ও অবকাঠামো সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেন। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় রাস্তা সংস্কারে স্বস্তি দেখা গেলেও ডার এস সালামে ছবি সম্পূর্ণ ভিন্ন।
