West Bengal Gita Path
Bengal Liberty Desk, ৬ ডিসেম্বর, কলকাতা: ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে ২০২৩ এর ডিসেম্বরে ব্রিগেড ময়দানে লক্ষ কন্ঠে গীতাপাঠের (Gita Chanting) আয়োজন করা হয়েছিল। ব্রিগেডের (Brigade) ওই কর্মসূচির ঠিক এক বছরের মাথায় বিগত বছর ডিসেম্বরে শিলিগুড়ির কাওয়াখালি মাঠে লক্ষ কন্ঠে আয়োজন করা হয়েছিল গীতাপাঠের। ভোটমুখী বঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের (Assembly Election) আগে রাজ্যে ফের গীতাপাঠের আয়োজন সনাতন সংস্কৃতি সংসদের।
গীতাপাঠ অনুষ্ঠানের সূচনা:
আজ, রবিবার ব্রিগেড ময়দানে ‘পাঁচ লক্ষ কণ্ঠে গীতা পাঠ’-এর আয়োজন করা হয়েছে (West Bengal Gita Path)। সকাল থেকেই হাজির হতে শুরু করেছেন বিভিন্ন মহারাজ থেকে সাধু-সন্তরা। বেদপাঠ ও ভক্তিগীতির মাধ্যমে শুরু হয়েছে অনুষ্ঠান। রেডরোড থেকে ব্রিগেড ময়দান পর্যন্ত ঘোড়ার গাড়িতে করে গীতা নিয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয় এদিন। ঢাকের তালে শুরু হয় শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার আরতি। গীতার প্রথম, নবম ও অষ্টাদশ অধ্যায় পাঠ করা হবে এদিনের অনুষ্ঠানে (Brigade Gita Path)। শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি, কীর্তনের সুরে গীতাপাঠের অনুষ্ঠানে হাজির সনাতনীরা। উপস্থিত জনপ্রতিনিধিরাও। হিন্দু মহাজাগরণের সাক্ষ্মী ব্রিগেড ময়দান। ব্রিগেড থেকে ভারতকে হিন্দু রাষ্ট্র করার ডাক সনাতনীদের। সিসি ক্যামেরায় মোড়া গোটা এলাকা, চলছে নজরদারি।

সনাতন সংস্কৃতি সংসদের উদ্যোগে আয়োজিত ‘পাঁচ লক্ষ কণ্ঠে গীতা পাঠ’, যা শুধু বাংলায় নয়, গোটা ভারতেই এই প্রথম এত বড় পরিসরে গীতাপাঠের উদ্যোগ বলে দাবি আয়োজকদের। তবে এটাই প্রথম নয় এই নিয়ে তৃতীয়বার এই গীতাপাঠের আয়োজন বাংলায়।
নেতৃত্বে ও অতিথি হিসেবে কারা উপস্থিত থাকবেন আজ?
জানা গিয়েছে, পাঁচ লক্ষ কন্ঠে গীতাপাঠের অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করবেন গীতা মণীষী মহামণ্ডলের স্বামী জ্ঞানানন্দজী মহারাজ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকতে পারেন পদ্মভূষণ সাধ্বী ঋতম্বরা। সম্মানীয় অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে যোগগুরু বাবা রামদেবকে। বিশেষ অতিথির তালিকায় রয়েছেন বাগেশ্বরধাম সরকারের ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী (Bageshwar baba in Geeta Path)। উপস্থিত রয়েছেন কার্তিক মহারাজ (Kartik Maharaj), থাকছেন প্রধান বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। রাজ্যের বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতৃত্বকেও আমন্ত্রণ করা হয়েছে অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য বলে খবর সূত্রের। উপস্থিত থাকতে পারেন রাজ্যপাল (C.V Ananda Bose)। তবে আমন্ত্রণে সাড়া না দিয়ে উপস্থিত থাকছেন না রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।
অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য:
আয়োজক সংস্থার দাবি, বাংলা বরাবরই আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক চর্চার প্রাণকেন্দ্র। সাম্প্রতিক কালে সমাজের মধ্যে বিভাজন, উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তার আবহে গীতার শিক্ষাই মানুষের মধ্যে শান্তি, স্থিরতা ও মানবিক মূল্যবোধের জন্ম দিতে পারে। তাই বিপুল জনসমাগমের মাধ্যমে গীতার সারবত্তাকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
