Chandranath Sinha’
Bengal Liberty: প্রাথমিকে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ফের তৃণমূল কংগ্রেসের অস্বস্তি বাড়াল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। এ বার রাজ্যের কারা এবং ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পমন্ত্রী তথা বোলপুরের তৃণমূল বিধায়ক চন্দ্রনাথ সিংহের (Chandranath Sinha) প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ফ্রিজ করার প্রক্রিয়া (procedure of freezing) শুরু করেছে ইডি। তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ ইতিমধ্যেই চালু হয়েছে।
তৃণমূলের ‘নিয়োগ দুর্নীতি’ আবার কাঠগড়ায় (Chandranath Sinha)
রাজ্যের প্রাথমিকে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় (Primary Recruitment Case) অভিযুক্তদের তালিকায় দীর্ঘ দিন ধরেই রয়েছে চন্দ্রনাথ সিংহের নাম। শিক্ষক নিয়োগ কেলেঙ্কারিতে একের পর এক তৃণমূল নেতা-মন্ত্রী গ্রেফতার বা তদন্তের মুখে পড়লেও দলীয় স্তরে দায় এড়ানোর রাজনীতি চালিয়ে যাচ্ছে শাসক শিবির—এমনই অভিযোগ বিরোধীদের। চন্দ্রনাথের (Chandranath Sinha) সম্পত্তি ফ্রিজের প্রক্রিয়া সেই অভিযোগকেই আরও জোরালো করল বলে রাজনৈতিক মহলের মত।
বাড়িতে তল্লাশি ও নগদ উদ্ধার (Chandranath Sinha)
বলাগড়ের বহিষ্কৃত তৃণমূল যুবনেতা কুন্তল ঘোষের (Kuntal Ghosh) সূত্র ধরেই নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে উঠে আসে চন্দ্রনাথের নাম। ২০২৪ সালের মার্চ মাসে মন্ত্রীর বাড়িতে হানা দেন ইডি আধিকারিকেরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা তল্লাশির পর সেখান থেকে নগদ ৪১ লক্ষ টাকা উদ্ধার করে বাজেয়াপ্ত করে তদন্তকারী সংস্থা। সেই সঙ্গে মন্ত্রীর মোবাইল ফোনও আটক করা হয়। যদিও চন্দ্রনাথ দাবি করেছিলেন, ওই টাকা কৃষিকাজ ও জমি বিক্রির আয়।
তদন্তের অগ্রগতিতে গত বছরের জুলাই মাসে একাধিক নোটিস পাঠিয়ে চন্দ্রনাথ ও তাঁর পরিবারের সমস্ত স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির নথি চায় ইডি। ৬ অগস্ট মামলায় চার্জশিটও জমা দেয় কেন্দ্রীয় সংস্থা। ৬ সেপ্টেম্বর চন্দ্রনাথ আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। ইডি তাঁকে হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানালেও আদালত শর্তসাপেক্ষে জামিন মঞ্জুর করে।
দায় এড়ানোর রাজনীতি, প্রশ্নে শাসকদলের নৈতিকতা (Chandranath Sinha)
এক দিকে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী থেকে শীর্ষ আমলা—একাধিক তৃণমূল-ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির নাম উঠে আসছে, অন্য দিকে দলীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’র সুরে সব অভিযোগ উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। চন্দ্রনাথ সিংহের সম্পত্তি ফ্রিজের উদ্যোগ ফের প্রশ্ন তুলছে—দুর্নীতির দায় আদৌ স্বীকার করবে কি তৃণমূল, নাকি তদন্ত যত এগোবে, ততই সামনে আসবে শাসকদলের অস্বস্তিকর অধ্যায়?
