question Suvendu virtually
Bengal Liberty:প্রাক্তন পুলিশ কর্তা তথা তৃণমূল নেতা (TMC) প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Prasun Banerjee) করা মামলায় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে (Suvendu Adhikari) সশরীরে থানায় হাজির করানো যাবে না বলে নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, তদন্ত চলতে পারে, তবে বিরোধী দলনেতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হলে তা ভার্চুয়াল মাধ্যমেই (Virtually) করতে হবে। এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি।
উল্লেখ্য, মালদহের চাঁচল থানার (Chanchal Police Station, Malda) পক্ষ থেকে শুভেন্দু অধিকারীকে সাত দিনের মধ্যে থানায় সশরীরে হাজির হওয়ার নোটিস পাঠানো হয়েছিল। সেই নোটিসকেই চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বিরোধী দলনেতা। মামলার শুনানিতে আদালত জানায়, তদন্তে কোনও বাধা নেই, কিন্তু একজন বিরোধী দলনেতাকে এই মুহূর্তে থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজনীয় নয়।

ঘটনার সূত্রপাত
এই মামলার সূত্রপাত গত ২রা জানুয়ারি। মালদহের চাঁচলে একটি রাজনৈতিক সভায় শুভেন্দু অধিকারী প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ বলে আক্রমণ করেন। মঞ্চ থেকে শুভেন্দু বলেন, ” ভোটে খগেনদাকে হারিয়ে দেওয়া হত। কাউন্টিংয়ের আগের দিন এই প্রসূন ডাকাতি করতে গিয়েছিল। একজন দুর্নীতিগ্রস্ত পুলিশ অফিসার ছিল। এখন তৃণমূলের নেতা হয়ে রাজ্য সরকারের পদে রয়েছে, মোটা বেতন পাচ্ছে।’’ এই মন্তব্যের পরই প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফে চাঁচল থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়।
প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যে তাঁর ব্যক্তিগত সম্মানহানি হয়েছে এবং সমাজে তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হতে পারে। সেই ভিত্তিতেই ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (BNSS)-এর ৩৫(৩) ধারা অনুযায়ী একাধিক ধারায় শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে চাঁচল থানা পুলিশ। নোটিস পাঠিয়ে তাঁকে তদন্তে সহযোগিতা করতে এবং সশরীরে হাজিরা দিতে নির্দেশ দেয় চাঁচল থানার পুলিশ।
শেষ পর্যন্ত হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ, তদন্ত প্রক্রিয়া চলবে, তবে তার জন্য শুভেন্দু অধিকারীকে থানায় হাজির হতে বাধ্য করা যাবে না। ভার্চুয়াল মাধ্যমেই পুলিশের প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবেন তিনি। পাশাপাশি এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ৬ ফেব্রুয়ারির দিকে তীক্ষ্ণ নজর সকলের। সেদিন আদালত এই মামলায় কী নির্দেশ দেয়, সেটাই দেখার।
