Minor Suicide Case India
Bengal Liberty, পৌলমী গোস্বামী, কলকাতা : করোনা অতিমারির(Minor Suicide Case India) সময় পড়াশোনার প্রয়োজনে হাতে এসেছিল স্মার্টফোন। সেই প্রযুক্তিই ধীরে ধীরে নেশায় পরিণত হয়ে শেষ পর্যন্ত কেড়ে নিল তিন কিশোরীর প্রাণ। অনলাইন গেম খেলায় বাবা-মায়ের আপত্তি ও বকাবকির জেরে অভিমানে উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদের লোনি এলাকায় একটি বহুতল আবাসনের ১০ তলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা(Minor Suicide Case India) করল তিন নাবালিকা বোন। মঙ্গলবার গভীর রাতের এই ঘটনায় স্তব্ধ গোটা দেশ।
ঠিক কী ঘটেছিল? (Minor Suicide Case India)
পুলিশ সূত্রে খবর, পাখি (১২), প্রাচী (১৪) ও বিশিকা (১৬) এই তিন নাবালিকা বোন গাজিয়াবাদের একটি বহুতল আবাসনে বাবা-মায়ের সঙ্গে বসবাস করত। অতিমারির সময় অনলাইন ক্লাসের প্রয়োজনে তাদের হাতে স্মার্টফোন তুলে দেওয়া হয়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই প্রয়োজন বদলে যায় আসক্তিতে। ফলে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ কমতে শুরু করে, এবং অনলাইন গেম হয়ে ওঠে তাদের দৈনন্দিন জীবনের বড় অংশ।পরিবারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, কখনও কখনও স্কুলে না গিয়েও দীর্ঘ সময় ধরে মোবাইল গেমে ডুবে থাকত ওই তিন বোন। সাম্প্রতিক সময়ে একটি নির্দিষ্ট টাস্ক-ভিত্তিক অনলাইন গেম নিয়ে তারা ভয়ংকর পরিমাণ – এ আসক্তিতে ডুবেগেছিল আর তার জেরেই মঙ্গলবার রাতে বাড়িতে উত্তেজনা তৈরি হয় পরিবারের সাথে।

জানা গেছে বাবা-মা বারবার বাধা দেন গেম খেলা নিয়ে এবং পরবর্তীতে শেষ মোবাইল ফোন সরিয়ে নেন তারা। আর তারপরই এই পরিস্থিতি মানসিকভাবে সামলাতে না পেরে অভিমান করে গভীর রাতে প্রায় ২টো নাগাদ আবাসনের ১০ তলার বারান্দা থেকে একসঙ্গে ঝাঁপ দেয়(Minor Suicide Case India) তিন কিশোরী। মধ্যরাতে হঠাৎ চিৎকারে ভেঙে পড়ে আবাসনের নীরবতা। শব্দ শুনে প্রথমে নিরাপত্তারক্ষী এবং পরে একে একে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। খবর পেয়ে দ্রুত সেখানে আসে টিলা মোড় থানার পুলিশ। গুরুতর অবস্থায় তিন কিশোরীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসকেরা তাদের মৃত বলে ঘোষণা করেন।
উদ্ধার ৮ পৃষ্ঠার সুইসাইড নোট (Minor Suicide Case India)
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তিন বোনের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর সময় ও প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হবে। তবে জানা গেছে তদন্তকারীরা ঘটনাস্থল থেকে একটি আট পাতার সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছেন। সেখানে মাত্র দুটি শব্দ লেখা ছিল ‘বাবা সরি’, সঙ্গে হাতে আঁকা একটি কান্নার প্রতীক। তদন্তকারী আধিকারিকদের মতে, এই সংক্ষিপ্ত বার্তাই কিশোরীদের মানসিক অবস্থার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তদন্তে কী জানাচ্ছে পুলিশ (Minor Suicide Case India)
এসিপি অতুল কুমার জানান, ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনও প্ররোচনা বা গেম-সংক্রান্ত চাপ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে, তিন বোনের মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। শুধু তাই নয় সেখানে সিসিটিভি ফুটেজ ও ডিজিটাল ডেটা পরীক্ষা করেও দেখা হচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে। এবং ওই তিন বোন কোন গেম খেলছিল এবং সেই গেমে আত্মহত্যার কোনও ইঙ্গিত বা নির্দেশ ছিল কি না সেটাও তদন্ত করছে পুলিশ প্রশাসন।
পরিবারে দাবী(Minor Suicide Case India)
মৃত তিন কিশোরীর বাবা চেতন কুমার জানিয়েছেন, তাঁর মেয়েরা একটি বিদেশি, কোরিয়ান অনলাইন গেমে যুক্ত ছিল। ওই গেমটি একাধিক ধাপে বিভক্ত ছিল এবং প্রতিটি ধাপে নির্দিষ্ট কাজ সম্পন্ন করতে হতো। পরিবারের দাবি অনুযায়ী, মোট ৫০টি ধাপের মধ্যে শেষ ধাপটি ছিল মঙ্গলবার।
সব সময় একসঙ্গে থাকা তিন বোন জীবনের শেষ সিদ্ধান্তটিও একসঙ্গেই নেয়। এই ঘটনায় গোটা এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া, আর নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে শিশু-কিশোরদের মধ্যে অনলাইন গেমের লাগামছাড়া আসক্তি।
