Howrah Promoter Murder Case Arrest
Bengal Liberty Desk, ২৬ ফেব্রুয়ারি, হাওড়া: ভোটের আগে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে নতুন করে বড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিয়েছে উত্তর হাওড়ার প্রকাশ্য গুলিকাণ্ড। ভোরের আবছা আলোতে প্রকাশ্য রাস্তায় প্রোমোটারকে গুলি করে খুন, আর সেই ঘটনার পরই সামনে আসছে শাসকদলের সঙ্গে মূল অভিযুক্তের ঘনিষ্ঠতার প্রমাণ। উত্তর হাওড়ার হাওড়া গোলাবাড়ির পিলখানা এলাকায় ২৭ বছর বয়সি প্রোমোটার শফিক খানকে (Safiq Khan Murder Case) নৃশংসভাবে খুনের ঘটনায় তদন্তে নেমেছে গোলাবাড়ি থানার পুলিশ এবং হাওড়া সিটি পুলিশের গোয়েন্দারা। এই ঘটনায় সরাসরি যুক্ত না থাকলেও, খুনিদের সাহায্য করার অভিযোগে কলকাতা থেকে ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে সিসিটিভি ফুটেজে যাঁদের সরাসরি গুলি চালাতে দেখা গিয়েছে, সেই মূল দুই অভিযুক্ত হারুন খান ও রোহিত হোসেন এখনও অধরা।
কলকাতা থেকে গ্রেফতার ৩ (3 Arrested in Howrah Shootout Case)

গোপন সূত্রে খবর পেয়ে গতকাল, বুধবার গভীর রাতে কলকাতার জোড়াসাঁকো ও বড়বাজার এলাকা থেকে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতরা হলেন ৩৬ বছর বয়সি মহম্মদ বিলাল, যিনি কলকাতার জোড়াসাঁকো থানার কলাবাগান এলাকার বাসিন্দা, ৩২ বছর বয়সি মহম্মদ ওয়াকিল ওরফে মুন্না এবং দিলদার হোসেন, যারা বউবাজার এলাকার বাসিন্দা। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, পিলখানায় খুনের পর অভিযুক্তরা জোড়াসাঁকো এলাকায় বিলালের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিল। পুলিশ সূত্রে খবর, খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হারুনকে পালাতে সাহায্য করেছিলেন এই তিন অভিযুক্ত। ধৃত তিনজনের বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু করেছে পুলিশ। বর্তমানে এদের জিজ্ঞাসাবাদ করে মূল অভিযুক্তদের অবস্থান জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।
শ্যুটআউটে রাজনৈতিক বিতর্ক (3 Arrested in Howrah Shootout Case)!

সূত্রের খবর, মূল অভিযুক্ত হারুন খানকে (Accused Harun Khan) একাধিকবার শাসকদলের কর্মসূচিতে দেখা গিয়েছে। এমনকি উত্তর হাওড়ার তৃণমূল বিধায়ক গৌতম চৌধুরীর প্রচার কর্মসূচিতেও তাঁর উপস্থিতির ছবি ও ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরছে। এই তথ্য সামনে আসতেই রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, শাসক দলের ঘনিষ্ঠ হওয়ার কারণেই পুলিশ মূল অভিযুক্তদের ধরতে গড়িমসি করছে। যদিও বিধায়ক এই অভিযোগ অস্বীকার করে একে ব্যক্তিগত শত্রুতা বলে দাবি করেছেন।
আরও পড়ুন (3 Arrested in Howrah Shootout Case)-
আক্রান্ত সাংবাদিক (3 Arrested in Howrah Shootout Case)-

ঘটনার খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে গতকা, বুধবার আক্রান্ত হন ABP আনন্দর সাংবাদিক ময়ূখ ঠাকুর চক্রবর্তী। তাঁর মুখ ফাটিয়ে দেওয়া হয়, নাকের হাড় ভেঙে যায় বলে অভিযোগ। চিত্র সাংবাদিক উজ্জ্বল ঘোষককেও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছে। গণমাধ্যমের উপর এই হামলা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে রাজনৈতিক মহল। এই ঘটনায় বুধবার রাতেই ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
