Kasba election
Bengal Liberty, সিদ্ধার্থ দে:
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ‘ভোট’ শব্দটির সঙ্গে সন্ত্রাস ও ভয়ের আবহ যেন সমার্থক হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী(Suvendu Adhikari Counter TMC) তাঁর একটি সোশ্যাল মিডিয়া (X) পোস্টে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে এক বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন। তাঁর পোস্ট অনুযায়ী, বেহালা পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী শুভাশিস চক্রবর্তীকে প্রকাশ্যেই বলতে শোনা গেছে যে— “হিন্দুদের ভোট করতে দেওয়া যাবে না।”
এই একটি বাক্য কেবল একটি রাজনৈতিক দলের রণকৌশল নয়, বরং পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান গণতান্ত্রিক কাঠামোর কঙ্কালসার রূপটিই জনসমক্ষে উন্মোচিত করে দিয়েছে।

সাম্প্রদায়িক বিভাজন ও ভোটাধিকার হরণ (Suvendu Adhikari Counter TMC)
শুভেন্দু অধিকারীর তোলা এই অভিযোগ যদি সত্য হয়, তবে তা ভারতীয় সংবিধানের মৌলিক অধিকারের ওপর চরম আঘাত। ভারতের মতো গণতান্ত্রিক দেশে ধর্ম, বর্ণ বা জাতির ভিত্তিতে কাউকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার কথা ভাবাও অপরাধ। শুভেন্দু বাবু তাঁর পোস্টে স্পষ্ট করেছেন যে, তৃণমূলের এই ‘সংস্কৃতি’ আসলে হিন্দু বিদ্বেষেরই নামান্তর। যেখানে নির্দিষ্ট একটি ধর্মের মানুষকে লক্ষ্য করে তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে, সেখানে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

ভোট মানে কি শুধুই সন্ত্রাস? (Suvendu Adhikari Counter TMC)
বাংলার মানুষ বছরের পর বছর দেখে আসছে যে, ভোটের মরসুম এলেই রাজ্যের বাতাসে বারুদের গন্ধ ভাসে। শুভেন্দু অধিকারী তাঁর বার্তায় সাধারণ মানুষের সেই ভয়ের কথাই তুলে ধরেছেন। যেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসনের অধীনে ভোট মানেই ভয় দেখানো, বুথ দখল আর সাধারণ মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়া। যখন একজন জনপ্রতিনিধি পদপ্রার্থী নিজেই ভোটারদের আটকানোর হুমকি দেন, তখন সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? এটি কেবল রাজনৈতিক লড়াই নয়, বরং সুস্থ গণতন্ত্রের টুঁটি চেপে ধরার এক সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা।

দুর্নীতির পাহাড় ও মানুষের ক্ষোভ (Suvendu Adhikari Counter TMC)
শাসক দলের বিরুদ্ধে শুধু ভোট লুঠের অভিযোগই নয়, বরং নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে রেশন দুর্নীতি—তালিকাটা দীর্ঘ। শুভেন্দু অধিকারী তাঁর পোস্টে এই ‘দুর্নীতিগ্রস্ত ও পক্ষপাতদুষ্ট’ শাসনের অবসান ঘটার ইঙ্গিত দিয়েছেন। বাংলার সাধারণ মানুষ আজ সচেতন। তাঁরা দেখছেন কীভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাধারণ মানুষের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে। এই পুঞ্জীভূত ক্ষোভই আজ পরিবর্তনের ডাক দিচ্ছে। শুভেন্দু বাবুর মতে, এই অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটাতে বাংলার মানুষের একজোট হওয়া এখন সময়ের দাবি।
তৃণমূলী সংস্কৃতি – হিন্দু বিদ্বেষীদের স্বীকৃতি
বেহালা পূর্ব বিধানসভায় তৃণমূলের প্রার্থী শুভাশিস চক্রবর্তীকে বলতে শোনা যাচ্ছে যে – হিন্দুদের ভোট করতে দেওয়া যাবে না।
এটা গণতন্ত্রের পক্ষে অত্যন্ত উদ্বেগজনক। যদি সত্যিই সাধারণ মানুষ বিশেষ করে হিন্দু ভোটারদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত… pic.twitter.com/X21VlCtjNc— Suvendu Adhikari (@SuvenduWB) March 19, 2026
পরিবর্তনের ডাক: কেন বিজেপি সরকার? (Suvendu Adhikari Counter TMC)
পোস্টের শেষভাগে শুভেন্দু অধিকারী একটি জোরালো স্লোগান তুলে ধরেছেন— “পাল্টানো দরকার, চাই বিজেপি সরকার”। তাঁর দাবি অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গকে এই অরাজকতা ও সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের রাজনীতি থেকে মুক্ত করতে পারে একমাত্র একটি শক্তিশালী বিকল্প। গণতন্ত্র বাঁচাতে, সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে দিতে এবং বিশেষ করে হিন্দুদের ওপর চলা এই বৈষম্যমূলক আচরণের অবসান ঘটাতে বিজেপির প্রয়োজনীয়তা আজ অনস্বীকার্য।
গণতন্ত্রের উৎস হলো মানুষের ভোট। সেই ভোটকেই যদি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে কোণঠাসা করার চেষ্টা করা হয়, তবে তা রাজ্যের ভবিষ্যতের জন্য অশনিসংকেত। শুভেন্দু অধিকারীর এই প্রতিবাদ কেবল বিরোধী দলের অভিযোগ নয়, বরং বাংলার কোটি কোটি মানুষের মনের আশঙ্কা। বাংলার মানুষ আজ প্রকৃত পরিবর্তন চায়—যেখানে ভোট হবে উৎসবে, ভয়ে নয়। যেখানে মানুষের ধর্ম দেখে তাঁর অধিকার বিচার করা হবে না।
আরও পড়ুন :
BJP 2nd Candidate List: মাস্টারস্ট্রোক দিল্লির! সন্দেশখালি থেকে পাহাড়-বাছাই করা মুখদের নিয়ে ময়দানে পদ্ম-বাহিনী।
