Social media controversy
Bengal Liberty Desk, ২০ মার্চ, কলকাতা:
সোশ্যাল মিডিয়ার দৈনিক কতকিছুই চোখে পরে, কিছুটা সত্য আবার অনেকাংশেই মিথ্যে (Social media controversy)। রোজকার ব্লগে সায়ক চক্রবর্তী ও তার পরিবারের গল্প কারুরই অজানা নয়। হাসি মুখের আড়ালে জমেছিলো পাহাড় সমান তিক্ততা, সেটা হয়তো আন্দাজ করতে পারেনি নেটিজেনরা। মাস ছয়েক আগে বিচ্ছেদ হওয়া সব্যসাচী ও সুস্মিতার জীবনের গল্প নিমেষে মোড় নিলো হয়ে গেলো একটি বিয়েকে কেন্দ্র করে, ফাঁস হলো হাজারও অজানা পারিবারিক সত্য। নেটদুনিয়ায় আবারও চর্চার কেন্দ্র অভিনেত্রী তথা ভ্লগার সুস্মিতা ও সব্যসাচী এবং তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েন। সুস্মিতা রায়ের সাম্প্রতিক বিয়েকে ঘিরে শুরু হওয়া বিতর্ক এখন সোশ্যাল মিডিয়ার “হট টপিক” ।
একদিকে প্রাক্তন শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ, অন্যদিকে সাংবাদিক সব্যসাচী চক্রবর্তীর পাল্টা আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি – সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিলতার আকার নিয়েছে।
উল্লেখ্য ঘটনার কেন্দ্রে রয়েছেন তিনজন—সুস্মিতা, তাঁর প্রাক্তন স্বামী সব্যসাচী চক্রবর্তী এবং প্রাক্তন দেওর সায়ক চক্রবর্তী। এই ত্রিমুখী সংঘাতের মধ্যে উঠে এসেছে এমন কিছু অভিযোগ, যা শুধু ব্যক্তিগত সম্পর্ক নয়, সমাজের এক অন্ধকার দিককেও সামনে নিয়ে এসেছে।

কীভাবে শুরু বিতর্ক? Social media controversy
ঘটনার সূত্রপাত সুস্মিতার নতুন বিয়েকে কেন্দ্র করে। জানা যায়, প্রাক্তন স্বামী সব্যসাচী চক্রবর্তী-র সঙ্গে ডিভোর্সের অল্প সময়ের মধ্যেই সুস্মিতা বিয়ে করেন। এই বিষয়টি সামনে আসতেই নেটমাধ্যমে শুরু হয় সমালোচনা, কটাক্ষ, এবং নানা প্রশ্ন। বিশেষ করে সুস্মিতার প্রাক্তন দেওর সায়ক চক্রবর্তী সমাজমাধ্যমে মন্তব্য করে পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলেন। তাঁর একটি কটাক্ষ—“এটাই যেন শেষ বিয়ে হয়”—নিয়ে শুরু হয় তীব্র প্রতিক্রিয়া।

৭ বছরের নীরবতা—কেন ভাঙলেন? Social media controversy
সুস্মিতার দাবি, তিনি দীর্ঘ ৭ বছর ধরে নানা বিষয় সহ্য করেছেন এবং সচেতনভাবেই নীরব থেকেছেন। তিনি বলেন, বহু সাংবাদিক তাঁকে প্রশ্ন করলেও তিনি কখনও প্রকাশ্যে কিছু বলেননি। কারণ, সম্পর্কের শুরুতেই নাকি একটি বোঝাপড়া ছিল— “কেউ কারও বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলবে না।” কিন্তু পরিস্থিতি যখন বারবার তাঁর দিকে আঙুল তুলতে শুরু করে, তখন তিনি সিদ্ধান্ত নেন সত্যিটা সামনে আনার।
লাইভে আসার আগে কী ঘটেছিল?
পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হতে থাকায় সুস্মিতা অবশেষে মুখ খোলার সিদ্ধান্ত নেন। লাইভে আসার আগে সায়ক চক্রবর্তীর সঙ্গে তাঁর একাধিকবার কথা হয়। সেই কথোপকথনের স্ক্রিনশটও তিনি প্রকাশ করেন। সুস্মিতার দাবি, দীর্ঘ ৭ বছর ধরে তিনি চুপ থেকেছেন এবং নানা বিষয় মেনে নিয়েছেন। কিন্তু এবার আর নীরব থাকতে চাননি। তিনি সরাসরি বলেন, “সব কিছু ভালোভাবে শেষ করতে চাইলে সামনে আসতে হবে, না হলে আমি সব সত্যি প্রকাশ করব।” অন্যদিকে, সায়ক তাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা না বলতে অনুরোধ করেন। এমনকি বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার আশ্বাসও দেন। কিন্তু সুস্মিতা স্পষ্ট জানান লোকেশন শেয়ার না করা হলে তিনি পিছিয়ে আসবেন না।

সুস্মিতার ফেসবুক লাইভ
ফেসবুক লাইভে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন সুস্মিতা রায় এবং একের পর এক গুরুতর অভিযোগ সামনে আনেন। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তিনি সম্পর্কের মধ্যে মানসিক চাপ ও ব্ল্যাকমেলের শিকার হয়েছেন, অথচ সবকিছু চুপচাপ সহ্য করেছেন। তিনি জানান, অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায়ও তিনি সন্তান রাখতে চাইলেও সেই সুযোগ তাঁকে দেওয়া হয়নি। সুস্মিতার অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁর প্রাক্তন স্বামী সব্যসাচী চক্রবর্তী একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িত ছিলেন এবং সেই সমস্ত বিষয় তাঁর সামনে ঘটত, যা তাঁকে গভীরভাবে আঘাত করত। এমনকি, তাঁর সামনে রেখেই অন্য নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগও তিনি তোলেন।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকরভাবে, সুস্মিতা দাবি করেন যে এই সম্পর্কগুলির ভিডিও করার জন্য তাঁকে চাপ দেওয়া হত এবং তাঁকে তথাকথিত ‘থ্রিসাম’-এর মতো পরিস্থিতিতেও যেতে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি আর্থিকভাবে সহযোগিতা করলেও বিনিময়ে কোনও সম্মান বা মর্যাদা পাননি, বরং বারবার অপমান ও অবহেলার শিকার হয়েছেন। এমনকি তার মাকে নিয়েও নানান অভিযোগ ছিল সব্যসাচীর পরিবারের তরফ থেকে।
অপরদিকে সব্যসাচীর প্রতিক্রিয়া
প্রাক্তন স্বামী সব্যসাচী চক্রবর্তীর প্রতিক্রিয়া এই বিতর্কে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক যোগ করেছে। সুস্মিতার লাইভের পর তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় পাল্টা দাবি করেন যে এটি নাকি সুস্মিতার পঞ্চম বিয়ে এবং তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলি ভিত্তিহীন, এবার আইনি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে, এই ঘটনার জন্য তিনি আইনি পথে হাঁটবেন এবং মানহানির মামলা করবেন। সব্যসাচীর এই প্রতিক্রিয়া পরিস্থিতিকে আরও তীব্র করে তোলে। একদিকে সুস্মিতার আবেগঘন ও বিস্ফোরক অভিযোগ, অন্যদিকে তাঁর প্রাক্তন স্বামীর সরাসরি অস্বীকার এবং আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি—এই দ্বন্দ্ব এখন জনসমক্ষে বিচারাধীন একটি বড় বিতর্কে পরিণত হয়েছে। এই পুরো ঘটনায় আরেকটি বিষয়ও উঠে এসেছে—ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয় কীভাবে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ‘কনটেন্ট’ হয়ে ওঠে। সুস্মিতা নিজেই দাবি করেছেন, পরিবারের ভেতরের অশান্তিকেও নাকি কনটেন্ট হিসেবে ব্যবহার করা হত। এই অভিযোগ যদি সত্যি হয়, তাহলে তা শুধু একটি সম্পর্কের সঙ্কট নয়, বরং ডিজিটাল সংস্কৃতির একটি অন্ধকার দিককেও সামনে নিয়ে আসে। সব মিলিয়ে এই ঘটনায় সত্য-মিথ্যা নির্ধারণ করা এখনই সম্ভব নয়। তবে তিনটি দিক স্পষ্ট—সুস্মিতার অভিযোগ, সায়কের মিটমাটের চেষ্টা, এবং সব্যসাচীর আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি।
এই মুহূর্তে নেটদুনিয়া বিভক্ত কেউ সুস্মিতার সাহসিকতার পাশে দাঁড়াচ্ছেন, কেউ আবার পুরো বিষয়টিকে ব্যক্তিগত বলে সমালোচনা করছেন। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত এই বিতর্ক এখন আর থামার জায়গায় নেই। শেষ পর্যন্ত সত্যি কী, তা নির্ভর করবে প্রমাণ, সময় এবং সম্ভবত আইনি প্রক্রিয়ার ওপর। কিন্তু এই ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিল—ব্যক্তিগত সম্পর্ক যখন ভেঙে যায়, তখন তার প্রতিধ্বনি অনেক দূর পর্যন্ত পৌঁছায়, বিশেষ করে যখন সেটি সোশ্যাল মিডিয়ার আলোয় আসে।
