councilor resign
Bengal Liberty, দক্ষিণ ২৪ পরগনা:
রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে এবার বড় ধাক্কা খেল ডায়মন্ড হারবার পুরসভা। সোমবার একযোগে পদত্যাগ করলেন তৃণমূল পরিচালিত পুরসভার ১৬ জন কাউন্সিলরের মধ্যে ৮ জন (Councilor resign)। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ডায়মন্ড হারবারের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিরোধীদের দাবি, এই ঘটনায় কার্যত বড় ধাক্কা খেলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জীর রাজনৈতিক ঘাঁটি।

কাউন্সিলরদের ইস্তফাপত্র জমা
সোমবার সকালে পদত্যাগকারী কাউন্সিলররা ডায়মন্ড হারবার মহকুমাশাসকের দফতরে গিয়ে নিজেদের ইস্তফাপত্র জমা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে পৌর আইন অনুযায়ী মহকুমাশাসক সেই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করতে পারেন না বলে জানানো হয়। এরপর তারা সরাসরি পুরসভার চেয়ারম্যান প্রণব দাসের কাছে নিজেদের পদত্যাগপত্র জমা দেন।
পদত্যাগকারী কাউন্সিলরদের মধ্যে রয়েছেন ১ নম্বর ওয়ার্ডের দিব্যেন্দু হালদার, ২ নম্বর ওয়ার্ডের মঞ্জু মণ্ডল, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তমাল হালদার, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মৃদুল হালদার, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের স্বপন হালদার, ১১ নম্বর ওয়ার্ডের অলোক হালদার, ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের অমিত সাহা এবং ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের দেবকি হালদার।
পদত্যাগের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কাউন্সিলররা বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’-এর নামে এলাকায় দুর্নীতি, স্বজনপোষণ এবং অরাজকতা চলছিল। কেউ এর বিরুদ্ধে মুখ খুললেই পুলিশি চাপ, হুমকি এবং মানসিক নির্যাতনের মুখে পড়তে হতো বলেও অভিযোগ করেন তারা।

বিবিধ অভিযোগ
বিশেষ করে পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান রাজশ্রী দাসের বিরুদ্ধে একাধিক আর্থিক অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তোলেন পদত্যাগী কাউন্সিলররা। ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর অমিত সাহা বলেন, সাধারণ মানুষের স্বার্থে কাজ করতে গেলে বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হওয়ায় তাদের কোণঠাসা করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ তাঁর।
যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পুরসভার চেয়ারম্যান প্রণব দাস। তাঁর দাবি, দল এবং পুরবোর্ডের ভাবমূর্তি নষ্ট করার উদ্দেশ্যেই এই ধরনের অভিযোগ আনা হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে দলীয় স্তরে আলোচনা হবে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে বিজেপি নেতৃত্ব এই ঘটনাকে তৃণমূলের ভিত নড়ে যাওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত বলে দাবি করেছে। বিজেপি নেত্রী কৃষ্ণ বেরা বলেন, এতদিন যাঁরা দলের ভিতরে থেকে পরিস্থিতি দেখেছেন, তাঁরাই আজ দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হচ্ছেন। এতে সাধারণ মানুষের সামনে প্রকৃত চিত্র উঠে এসেছে বলেও দাবি তাঁর।
ঘটনার জেরে ডায়মন্ড হারবারের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নতুন মোড় নিয়েছে। এখন এই পদত্যাগের ফলে পুরবোর্ডের ভবিষ্যৎ কোন দিকে যায়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

