Candidate Discontent
Bengal Liberty, Kolkata:
পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে (Candidate Discontent) কেন্দ্র করে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এবং প্রধান বিরোধী দল বিজেপি—উভয় শিবিরেই প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে তীব্র অসন্তোষ ও অন্তর্দ্বন্দ্বের ছবি ধরা পড়ছে। জেলা থেকে জেলায় ছড়িয়ে পড়া এই বিক্ষোভ কোথাও ‘ভূমিপুত্র’ দাবির আকার নিয়েছে, আবার কোথাও প্রার্থীর ব্যক্তিগত জীবনকে নিশানা করে পোস্টার রাজনীতিতে পর্যবসিত হয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, গণ-পদত্যাগ থেকে শুরু করে দলীয় কার্যালয়ে তালা ঝোলানোর মতো ঘটনাও ঘটছে।

বাঁকুড়ায় ‘ভূমিপুত্র’ বনাম ‘ব্যক্তিজীবন’ (Candidate Discontent)
বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুর ও ছাতনা বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে কর্মীদের ক্ষোভ প্রকাশ্যে এসেছে। ছাতনায় বিদায়ী বিধায়ক সত্যনারায়ণ মুখোপাধ্যায়কে পুনরায় প্রার্থী করায় দলের একাংশ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, গত পাঁচ বছরে বিধায়ককে এলাকায় পাওয়া যায়নি এবং তিনি পাশের শালতোড়া এলাকার বাসিন্দা। তাদের সাফ দাবি, ছাতনার কোনো স্থানীয় বা ‘ভূমিপুত্র’কে প্রার্থী করতে হবে।
অন্যদিকে, বিষ্ণুপুর পুরসভার কাউন্সিলর শুক্লা চট্টোপাধ্যায়কে বিজেপি প্রার্থী করায় তাঁর ‘চরিত্র’ ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কুরুচিপূর্ণ পোস্টার পড়েছে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে। প্রার্থীর অভিযোগ, তৃণমূল কুৎসা রটাচ্ছে। যদিও তৃণমূলের দাবি, এটি বিজেপির নিজস্ব আর্থিক ভাগ-বাঁটোয়ারা ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল।

কালনায় ‘বহিরাগত’ কাঁটা ও কার্যালয়ে তালা (Candidate Discontent)
পূর্ব বর্ধমানের কালনা বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী সিদ্ধার্থ মজুমদারকে ঘিরে বিক্ষোভ চরমে উঠেছে। সিদ্ধার্থবাবু কংগ্রেস থেকে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন—এই ‘ত্যাগী বনাম ভোগী’ লড়াইয়ে ক্ষুব্ধ আদি বিজেপি কর্মীরা নিভুজি বাজারে দলীয় কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন। মন্ডল সভাপতিদের উপস্থিতিতে এই বিক্ষোভে শ্লোগান ওঠে, “এই প্রার্থী মানছি না, মানব না।” প্রার্থী অবশ্য এই বিক্ষোভকে তৃণমূলের সাজানো নাটক বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

বালিতে গণ-পদত্যাগ ও বিক্ষোভ (Candidate Discontent)
হাওড়ার বালি বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির অন্তর্দ্বন্দ্ব বড়সড় সংকটের রূপ নিয়েছে। সঞ্জয় সিংহকে প্রার্থী করার প্রতিবাদে প্রায় ৭০ জন বুথ সভাপতি একযোগে পদত্যাগের ঘোষণা করেছেন। শুক্রবার বেলুর এলাকায় প্রার্থীর উপস্থিতিতেই বিক্ষোভ দেখান কর্মীরা। তাঁদের দাবি, আপদে-বিপদে যাঁকে পাওয়া যাবে, সেই রকম কোনো স্থানীয় ভূমিপুত্রকেই প্রার্থী করতে হবে। বহিরাগত প্রার্থীকে কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিক্ষুব্ধ বিজেপি নেতা ইন্দ্রনীল দাশগুপ্ত।

তৃণমূলের কৌশল ও আত্মবিশ্বাস (Candidate Discontent)
বিজেপির এই কোন্দলকে কটাক্ষ করতে ছাড়ছে না তৃণমূল কংগ্রেস। বালির তৃণমূল প্রার্থী কৈলাশ মিশ্রের মতে, যে দল নিজেদের ঘর সামলাতে পারছে না, তারা জয়ের স্বপ্ন দেখছে কীভাবে? এদিকে ডোমজুড়ে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, এবার তৃণমূল এই কেন্দ্র থেকে ৮০ হাজার ভোটের লিড পাবে। তৃণমূল প্রার্থী তাপস মাইতির বক্তব্য, তাঁদের লড়াই শুধু জয়ের জন্য নয়, বরং রেকর্ড ব্যবধানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এই আসনটি উপহার দেওয়ার জন্য।

নির্বাচনী বিধি ও অর্থ উদ্ধার (Candidate Discontent)
রাজনৈতিক উত্তাপের মাঝেই নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন রুখতে তৎপর প্রশাসন। আলিপুরদুয়ার ও সল্টলেকের পর এবার হাওড়ার শ্যামপুর চেক পয়েন্টে ১৫ লক্ষ টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় উদ্ধার হওয়া টাকা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আয়কর দপ্তরের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

Mamata Banerjee: ঈদের পরেই রাস্তায় তৃণমূল! এসআইআর তালিকা ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগে সরব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়@bengalliberty @MamataOfficial @AITCofficial @SuvenduWB @BJP4Bengal #westbengalelection2026 #westbengalpolitics #westbengalnews #westbengal #bengalliberty #election2026 pic.twitter.com/fFVz9hLkyN
— Bengal Liberty (@bengalliberty1) March 20, 2026
রাজ্যের একাধিক জেলায় প্রার্থী নিয়ে দুই দলের অন্দরেই যে চোরা স্রোত বইছে, তা নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে বিজেপির নিচুতলার কর্মীদের এই বিদ্রোহ সামাল দেওয়া এখন রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে, তৃণমূল নিজেদের ঘর গুছিয়ে এই কোন্দলকে হাতিয়ার করে জনমত গঠনের চেষ্টা চালাচ্ছে।
আরও পড়ুন :
R G Kar Death Issue: আরজি করের অভিশাপ বনাম ভোটের রাজনীতি: লিফটে মৃত্যুতে ফের কাঠগড়ায় স্বাস্থ্য প্রশাসন
