R G Kar Death Issue
Bengal Liberty, Kolkata:
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ‘আরজি কর’ (R G Kar Death Issue)নামটি এখন কেবল একটি হাসপাতালের পরিচয় নয়, বরং এটি একটি প্রতিবাদের প্রতীক এবং শাসকদলের অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২৪ সালের সেই শিউরে ওঠা ঘটনার স্মৃতি এখনও জনমানসে দগদগে। ঠিক তার দেড় বছর পর, বিধানসভা নির্বাচনের মুখে আবারও শিরোনামে সেই আরজি কর। তবে এবার প্রেক্ষাপট ভিন্ন—হাসপাতালের লিফ্টে আটকে পড়ে এক ব্যক্তির মর্মান্তিক মৃত্যু। কিন্তু এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দানা বাঁধা বিতর্ক রাজ্য রাজনীতির সমীকরণকে নতুন করে নাড়িয়ে দিচ্ছে।

একটি মৃত্যু এবং একগুচ্ছ প্রশ্ন (R G Kar Death Issue)
দমদমের নাগেরবাজারের বাসিন্দা অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের চার বছরের সন্তানের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে এসেছিলেন। কে জানত, সরকারি হাসপাতালের পরিষেবার ত্রুটিই তাঁর প্রাণ কেড়ে নেবে? লিফ্টে যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে সপরিবারে আটকে পড়া এবং দীর্ঘ সময় পর উদ্ধার হলেও অরূপবাবুর মৃত্যু হওয়া—এই পুরো ঘটনাটি স্বাস্থ্য প্রশাসনের কঙ্কালসার চেহারাটাকেই প্রকট করেছে। মৃত অরূপবাবু নিজে শাসকদলের সক্রিয় কর্মী হওয়া সত্ত্বেও তাঁর পরিবার যে চরম অবহেলার শিকার হয়েছে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়েছে।

এসআইআর বনাম আরজি কর: আখ্যানের লড়াই (R G Kar Death Issue)
গত কয়েক মাস ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রণকৌশল ছিল ‘এসআইআর’ (SIR) বা কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপের ইস্যুটিকে সামনে রেখে একটি লড়াইয়ের ময়দান তৈরি করা। রাজপথে মিছিল থেকে শুরু করে ধর্মতলায় ধর্না—মুখ্যমন্ত্রী নিজেকে একজন লড়াকু জননেত্রী হিসেবে তুলে ধরে প্রতিষ্ঠান-বিরোধী হাওয়াকে অন্য খাতে বইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু এই লিফ্ট দুর্ঘটনার পর সেই ‘এসআইআর’-এর কার্পেট সরে গিয়ে আবারও সামনে চলে এসেছে হাসপাতালের পরিকাঠামো এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার প্রশ্ন। বিরোধীদের দাবি, আরজি কর আসলে এক ‘অভিশপ্ত’ কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে, যেখানে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা শিকেয়।

বিরোধী শিবিরের ভূমিকা ও ‘ফায়দা’র রাজনীতি (R G Kar Death Issue)
মজার বিষয় হলো, ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় যে তীব্রতা দেখা গিয়েছিল, এবারের ঘটনায় বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সেই সক্রিয়তা কিছুটা কম লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী সমাজমাধ্যমে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানালেও, বড় মাপের কোনো আন্দোলন এখনও দানা বাঁধেনি। এর পেছনে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা দুটি মূল কারণ দেখছেন:
মৃত ব্যক্তি নিজে একজন তৃণমূল কর্মী ছিলেন।
আরজি করের নির্যাতিতার মায়ের সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ নাগরিক আন্দোলনের একটি অংশকে কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত করেছে।

শাসকদলের ড্যামেজ কন্ট্রোল (R G Kar Death Issue)
তৃণমূল কংগ্রেস এবার অনেক বেশি সতর্ক। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে এলাকার বিধায়ক ও কলকাতা পুরসভার ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছান। তিনি স্পষ্টভাবে ‘গাফিলতি’র কথা স্বীকার করে নিয়েছেন এবং সোমবারই রোগীকল্যাণ সমিতির জরুরি বৈঠক ডেকেছেন। ভোটের আগে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, তাই তড়িঘড়ি তদন্ত এবং কঠোর পদক্ষেপের আশ্বাস দিচ্ছে শাসক শিবির। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য এবারের চ্যালেঞ্জ হলো এই ‘স্থানমাহাত্ম্য’ বা আরজি কর কেন্দ্রিক নেতিবাচক আবেগকে সামলানো।

Mamata Banerjee: ঈদের পরেই রাস্তায় তৃণমূল! এসআইআর তালিকা ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগে সরব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়@bengalliberty @MamataOfficial @AITCofficial @SuvenduWB @BJP4Bengal #westbengalelection2026 #westbengalpolitics #westbengalnews #westbengal #bengalliberty #election2026 pic.twitter.com/fFVz9hLkyN
— Bengal Liberty (@bengalliberty1) March 20, 2026
নাগরিক আন্দোলনের ভবিষ্যৎ ও গ্রামীণ প্রভাব (R G Kar Death Issue)
২০২৪ সালের ‘রাত দখল’ কর্মসূচি দেখিয়ে দিয়েছিল যে দলীয় পতাকা ছাড়াও সাধারণ মানুষ রাজপথে নামতে পারে। সেই আন্দোলন মূলত শহরকেন্দ্রিক হলেও তার প্রভাব গ্রামীণ ভোটব্যাঙ্কেও পৌঁছেছিল। এবারের লিফ্ট দুর্ঘটনা সেই পুরনো ক্ষোভের আগুনে নতুন করে ঘি ঢেলেছে। গ্রামীণ মানুষ হয়তো রাস্তায় নেমে চিৎকার করছেন না, কিন্তু সমাজমাধ্যমের দৌলতে হাসপাতালের এই বেহাল দশা তাঁদের মনেও স্থায়ী ছাপ ফেলছে। ১৫ বছরের স্থিতাবস্থা বিরোধিতাকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনে জেতা তৃণমূলের কাছে তাই আরজি কর এক বড় অন্তরায়।
ভোটের মুখে আরজি করের এই ঘটনা কেবল একটি দুর্ঘটনা নয়, এটি একটি প্রশাসনিক ব্যর্থতার দলিল। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন কেন্দ্রীয় বঞ্চনাকে ঢাল করে লড়াই করছেন, অন্যদিকে তাঁর নিজের রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার এই জরাজীর্ণ অবস্থা তাঁকে রক্ষণাত্মক অবস্থানে ঠেলে দিচ্ছে। শুভেন্দু অধিকারীর ভাষায় ‘পচে যাওয়া কঙ্কালসার চেহারা’ নাকি তৃণমূলের উন্নয়নের বয়ান—জনগণ কোনটিকে বেছে নেবে, তা সময়ই বলবে। তবে এ কথা নিশ্চিত, আরজি করের ছায়া এবারের বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিটি বুথে অনুভূত হবে।
আরও পড়ুন :
West Bengal election 2026: বাংলার ভোটে ‘মেগা সিকিউরিটি প্ল্যান! ২৪০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত
