Humayun Kabir Domkal
Bengal liberty Desk, ২১ মার্চ: ভোটের আগেই মুর্শিদাবাদের ডোমকল কেন্দ্রে রাজনৈতিক লড়াই এখন চরমে। একদিকে তৃণমূল প্রার্থী তথা প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীর, অন্যদিকে সাসপেন্ডেড তৃণমূল নেতা তথা জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর, একই নাম, কিন্তু সংঘাত তুঙ্গে (Humayun Kabir Domkal)।
কী অভিযোগ (Humayun Kabir Domkal)?

সাসপেন্ডেড তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের বিস্ফোরক দাবি, ২০১৩ সালের রেজিনগর উপনির্বাচনের সময় তৎকালীন এসপি হুমায়ুন কবীর নাকি বিরোধী শিবিরের সঙ্গে আর্থিক চুক্তি করেছিলেন। তার কথায়, প্রায় ৪০ লক্ষ টাকার ডিল হয়েছিল, এবং প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে ভোটে প্রভাব খাটানো হয়েছিল। তিনি বলেন ‘২০১৩ সালে রেজিনগর উপনির্বাচনের সময় আমি রাজ্যের মন্ত্রী ছিলাম, তা সত্ত্বেও মুর্শিদাবার এসপি হুমায়ুন কবীর কংগ্রেসের থেকে টাকা নিয়ে রেজিনগরে আমাকে হারিয়েছিলেন।’ জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর আরও অভিযোগ তুলে বলেন “৪০ লক্ষ টাকার ডিল হয়েছিল নীলরতন আঢ়্যর সঙ্গে। নীলরতন আঢ়্য তৎকালীন বহরমপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান। আর উনি এসপি। একটা জায়গায় গিয়ে আর জামালউদ্দিন মণ্ডল ওসি বেলডাঙা। একটা এসপি কোনওদিন বুথে গিয়ে বুথ আগলাতে যান? কাপাসডাঙা অঞ্চলের ন’পুকুরের বুথে নিজে গিয়ে এসপি-অতিরিক্ত এসপিরা কংগ্রেসের হয়ে… রবি চৌধুরী তখন প্রার্থী কংগ্রেসের… তাঁদের হয়ে ওখানে বুথে গিয়ে প্রোটেকশন দিয়েছেন এসপি নিজে। কোথায় কখন কে কী করে আমরা মনে রাখি। উপরওয়ালা স্মরণ করিয়ে দেন। এসব দেখেছি বাহাদুরি করতে। কিন্তু, রাজনীতির প্ল্যাটফর্মে বাচ্চা ছেলে। ওসব বাহাদুরি ডোমকলে চলবে না।”
পাল্টা জবাব (Humayun Kabir Domkal)

ডোমকলের তৃণমূল প্রার্থী ও প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীর অভিযোগগুলি সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়ে বলেন “আমি যে টাকার বিনিময়ে কাজ করি না, সেটা শুধু মুর্শিদাবাদ নয়, গোটা পশ্চিমবঙ্গের মানুষ জানে। যতদিন পুলিশে চাকরি করেছি, হুমায়ুন কবীরকে মানুষ ভাল করে চেনে। এখন এইসব অ্যাবসার্ড কথার কী উত্তর দেব? মানুষ তাঁকে পছন্দ করেনি, তাই ভোট দেয়নি। আবার যখন পছন্দ করেছে, তখন জিতিয়েও দিয়েছে। তিনি ২০২১ সালে তৃণমূলের টিকিটে জিতে বিধায়ক হয়েছেন। এসব অ্যাবসার্ড কথার কোনও উত্তর হয় না। একজন এসপি টাকা নিয়ে কোনও প্রার্থীকে হারিয়ে দেবে এটা সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক। মিডিয়ার সামনে কিছু বলার জন্যই এসব বলা হচ্ছে, নিজেকে প্রাসঙ্গিক করে তুলতেই এই অভিযোগ।”
আরও পড়ুন (Humayun Kabir Domkal)-
IPS Humayun Kabir Demands Security: অতীতের ‘শত্রু’দের ভয়! ডোমকলে প্রচারে নামার আগে বাড়তি নিরাপত্তা চাইলেন প্রাক্তন পুলিশ কর্তা হুমায়ুন কবীর
Humayun Kabir Granted Y Plus Security: কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘেরাটোপে হুমায়ুন কবীর, পেলেন ‘ওয়াই প্লাস’ নিরাপত্তা
অভিযোগের গুরুত্ব কোথায় (Humayun Kabir Domkal)?
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই অভিযোগ যদি সত্যি হয়, তাহলে তা শুধু ব্যক্তি নয়, বরং পুরো প্রশাসনিক ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়েই প্রশ্ন তোলে। একজন জেলা পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকের সরাসরি বুথে উপস্থিতি এবং নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পক্ষকে সাহায্যের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর বলেই মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, ৪০ লক্ষ টাকার ডিলের অভিযোগ, বুথে পুলিশি উপস্থিতি, খুনের চক্রান্তের দাবি সব মিলিয়ে ডোমকলের রাজনৈতিক ময়দান এখন তপ্ত।
