Bhabanipur Returning Officer (Returning Officers removed WB)
Bengal Liberty Desk, ২৪ মার্চ, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে প্রশাসনিক কাঠামোয় বড়সড় অস্ত্রোপচার চালাল নির্বাচন কমিশন (ECI)। গতকাল, সোমবার রাতে এক নজিরবিহীন নির্দেশিকায় রাজ্যের মোট ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে ৭৩ জন রিটার্নিং অফিসারকে (RO) তাদের পদ থেকে অপসারিত করা হয়েছে। অর্থাৎ, রাজ্যের প্রায় ২৬ শতাংশ আসনে একযোগে নির্বাচনী আধিকারিক পরিবর্তন করল কমিশন (Returning Officers removed WB)।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র ভবানীপুরের আরও-কেও সরানো হয়েছে। সেখানে আরও হলেন সুরজিৎ রায়। তিনি ২০১১ সালের ডব্লিউবিসিএস অফিসার। এর আগে রাজ্যে এক ঝাঁক জেলাশাসকদের সরিয়ে দিয়েছিল কমিশন।
কেন এই গণ-অপসারণ (Returning Officers removed WB)?

কমিশন সূত্রে খবর, মূলত নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষতা বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত। অপসারিত অফিসারদের বিরুদ্ধে বেশ কিছু ক্ষেত্রে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ জমা পড়েছিল। এছাড়াও, যারা তিন বছরের বেশি সময় ধরে একই পদে রয়েছেন, তাদেরও নির্বাচনী গাইডলাইন মেনে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। যারা অপসারিত হয়েছেন, তাদের নির্বাচনের কোনও কাজের সঙ্গে যুক্ত না রাখার কড়া নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।
রদবদলের তালিকায় কারা (Returning Officers removed WB)?

কমিশনের নির্দেশিকা অনুসারে, কোচবিহারের তুফানগঞ্জ, জলপাইগুড়ি, মালদহ সদর, মুর্শিদাবাদের লালবাগ, ব্যারাকপুর, বিধাননগর, বারাসত, ক্যানিং, বারুইপুর, আলিপুর, হাওড়া সদর, বুগলি সদর, তমলুক, কাঁথি, হলদিয়া, এগরা, ঘাটাল, দুর্গাপুর, আসানসোলে নতুন এসডিও নিয়োগ করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি রদবদল হয়েছে উত্তর ২৪ পরগনায়। সেখানে ১৩ জন আরও-কে রদবদল করা হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ১০ জন আরও-কে রদবদল করা হয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুরেও সংখ্যাটা একই। কলকাতায় ভবানীপুর এবং রাসবিহারী কেন্দ্রের আরও বদলি হয়েছেন।
নির্দেশ অনুযায়ী, নবনিযুক্ত আধিকারিকদের আজ, মঙ্গলবার বিকেল ৫টার মধ্যে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে কাজে যোগদান করতে হবে। আগামীকাল, বুধবার সকাল ১১টা থেকে এই আধিকারিকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ পর্ব শুরু হবে।
তালিকায় নজরকাড়া পরিবর্তন (Returning Officers removed WB)-
কমিশনের প্রকাশিত ৪ পাতার ওই দীর্ঘ তালিকায় দুই ২৪ পরগনা, কলকাতা, হাওড়া, হুগলি এবং দুই মেদিনীপুর জেলার নাম উল্লেখযোগ্যভাবে উঠে এসেছে। একনজরে দেখে নিন গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরিবর্তন-
দক্ষিণ ২৪ পরগনা: পাথরপ্রতিমা, রায়দিঘি, জয়নগর (SC), ক্যানিং পশ্চিম (SC) এবং ভাঙড়-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে নতুন রিটার্নিং অফিসার হিসেবে অভিজ্ঞ WBCS ও তরুণ IAS অফিসারদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ নজর রয়েছে ক্যানিং ও ভাঙড়ের মতো সংবেদনশীল এলাকা।
কলকাতা: ভবানীপুর, রাসবিহারী, জোড়াসাঁকো ও চৌরঙ্গীর মতো হেভিওয়েট কেন্দ্রগুলিতেও নতুন রিটার্নিং অফিসারদের নিয়োগ করা হয়েছে। উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতার জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের (DEO) কাজে সহায়তার জন্য একাধিক অতিরিক্ত জেলা আধিকারিককেও নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
মেদিনীপুর ও জঙ্গলমহল: পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরের তমলুক, হলদিয়া, ঘাটাল, খড়গপুর এবং পুরুলিয়ার বলরামপুর, বাঁকুড়ার সোনামুখী (SC)-র মতো এলাকায় প্রশাসনিক শীর্ষ স্তরে বদল আনা হয়েছে। হলদিয়া ও কাঁথির মতো গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলেও নতুন এসডিও-রা দায়িত্ব পাচ্ছেন।
হাওড়া ও হুগলি: হাওড়া মধ্য, জগতবল্লভপুর, চুঁচুড়া ও সিঙ্গুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও কৃষি প্রধান কেন্দ্রে নতুন রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে।
জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (DEO): কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কমিশনার সুমিত গুপ্তকে সরিয়ে স্মিতা পান্ডেকে উত্তর কলকাতার এবং রণধীর কুমারকে দক্ষিণ কলকাতার নতুন জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (DEO) নিয়োগ করা হয়েছে।
জেলা শাসক (DM) পরিবর্তন: কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা-সহ ১১টি জেলার জেলাশাসকদের বদলি করা হয়েছে।
পুলিশি রদবদল: ৫ জন ডিআইজি (DIG) পদমর্যাদার অফিসার এবং ১৯ জন আইপিএস অফিসারকেও নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সরকারের প্রতিক্রিয়া ও আইনি লড়াই (Returning Officers removed WB)-
রাজ্য সরকার ও শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস কমিশনের এই পদক্ষেপকে ‘স্বৈরাচারী’ এবং ‘অগণতান্ত্রিক’ বলে অভিহিত করেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বদলিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে সমালোচনা করেছেন। অন্যদিকে, এই গণ-বদলিকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে একটি মামলাও দায়ের করা হয়েছে, যেখানে আবেদনকারী দাবি করেছেন যে এ পর্যন্ত মোট ৭৯ জন উচ্চপদস্থ অফিসারকে নিয়মবহির্ভূতভাবে সরানো হয়েছে।
আরও পড়ুন-
IPS Transfer : ভোটের আগে পুলিশে বড়সড় রদবদল, ১৫ আইপিএসকে ভিন রাজ্যে পাঠাল নির্বাচন কমিশন
EC Transfers 11 DM of WB: ফের বড়সড় রদবদল, ১১ জেলায় জেলাশাসক বদলে কড়া বার্তা নির্বাচন কমিশনের
কমিশনের সাফাই-
নির্বাচন কমিশনের দাবি, একটি ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বা সকলের জন্য সমান সুযোগ তৈরি করতেই এই রদবদল আবশ্যিক ছিল। ভোট গ্রহণের সময় যাতে কোনও আধিকারিক কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের অনুকূলে কাজ করতে না পারেন, তা নিশ্চিত করতেই এই ‘শুদ্ধিকরণ’ অভিযান চালানো হয়েছে।
আগামী মাসের এপ্রিলের ২৩ এবং ২৯ তারিখে দুই দফার নির্বাচনের আগে এই বিশাল রদবদল ভোট প্রক্রিয়ায় কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।
