NASA Artemis 2 mission
Bengal Liberty, Kolkata: প্রায় অর্ধশতাব্দী পর আবার চাঁদের উদ্দেশ্যে মানুষ পাঠিয়ে নতুন ইতিহাস গড়ল NASA (NASA Artemis 2 mission)। Artemis II মিশনের মাধ্যমে পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথের বাইরেও মানুষের যাত্রা শুরু হল বহু বছর পর। ১৯৭২ সালের পর এই প্রথম এত দূরে মহাকাশে পাড়ি দিলেন নভোচারীরা, যা মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে এক বড় মাইলফলক।

ফ্লোরিডা থেকে ঐতিহাসিক উৎক্ষেপণ (NASA Artemis 2 mission)
২ এপ্রিল, Kennedy Space Center থেকে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটে (ভারতীয় সময় ভোর ৪:০৪) বিশাল Space Launch System (SLS) রকেটে চড়ে মহাকাশে যাত্রা শুরু করেন চার নভোচারী। ৩২ তলা সমান উচ্চতার এই শক্তিশালী রকেটের উৎক্ষেপণ ছিল অত্যন্ত সফল। উৎক্ষেপণের সময় এর প্রচণ্ড কম্পন ও শব্দ বহু দূর পর্যন্ত অনুভূত হয়। কয়েক মিনিটের মধ্যেই ধাপে ধাপে বুস্টার বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং Orion মহাকাশযান নির্ধারিত পথে এগিয়ে যেতে শুরু করে।
Apollo যুগের পর নতুন অধ্যায় (NASA Artemis 2 mission)
১৯৬৯ সালে Neil Armstrong চাঁদের মাটিতে প্রথম পা রাখেন। এরপর ১৯৭২ সালে Apollo 17 ছিল শেষ মানব চন্দ্রাভিযান। তারপর দীর্ঘ বিরতির পর Artemis II মিশনের মাধ্যমে আবার চাঁদের কক্ষপথে মানুষের উপস্থিতির পথ খুলে গেল। সফল হলে প্রায় ৫৩ বছর পর মানুষ আবার চাঁদের কাছাকাছি পৌঁছবে।

কারা আছেন এই ঐতিহাসিক অভিযানে? (NASA Artemis 2 mission)
এই মিশনে অংশ নিয়েছেন চারজন অভিজ্ঞ মহাকাশচারী
রিড ওয়াইজ়ম্যান Reid Wiseman (কমান্ডার)
ভিক্টর গ্লোভার Victor Glover (পাইলট)
ক্রিস্টিনা কোচ Christina Koch (মিশন স্পেশালিস্ট)
জেরেমি হ্যানসেন Jeremy Hansen (মিশন স্পেশালিস্ট)
এই অভিযানে একাধিক ঐতিহাসিক দিক রয়েছে। ক্রিস্টিনা কোচ প্রথম মহিলা হিসেবে চাঁদের উদ্দেশ্যে যাচ্ছেন, ভিক্টর গ্লোভার এই ধরনের মিশনে অংশ নেওয়া প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নভোচারী, এবং জেরেমি হ্যানসেন প্রথম ক্যানাডিয়ান যিনি এই অভিযানের অংশ।
Greece এর বাতাস রক্তের মতো লাল | Iran Israel War | Bengal Liberty#greece #IranIsrael #iranisraelconflict #WorldWarThree #BengalLiberty pic.twitter.com/Pah8CbR9HX
— Bengal Liberty (@bengalliberty1) April 2, 2026
কী ধরনের মিশন এটি? (NASA Artemis 2 mission)
Artemis II প্রায় ১০ দিনের একটি মিশন। এটি সরাসরি চাঁদে অবতরণের মিশন নয়। নভোচারীরা চাঁদের চারপাশ প্রদক্ষিণ করে আবার পৃথিবীতে ফিরে আসবেন।
এই অভিযানে মহাকাশযানটি ‘free-return trajectory’ অনুসরণ করবে, যার ফলে কোনও জরুরি পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত জ্বালানি ছাড়াই স্বাভাবিকভাবে পৃথিবীতে ফিরে আসা সম্ভব হবে। এই সময়ের মধ্যে নভোচারীরা পৃথিবী থেকে প্রায় ৪ লক্ষ কিলোমিটার দূরত্ব পর্যন্ত পৌঁছতে পারেন।

মূল লক্ষ্য কী? (NASA Artemis 2 mission)
এই মিশনের উদ্দেশ্য শুধুমাত্র ভ্রমণ নয়, বরং ভবিষ্যতের চন্দ্রাভিযানের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া। প্রধান লক্ষ্যগুলির মধ্যে রয়েছে—
১.গভীর মহাকাশে মানুষের শারীরিক সহনশীলতা পরীক্ষা
২.Orion মহাকাশযানের লাইফ সাপোর্ট সিস্টেম (অক্সিজেন, তাপমাত্রা, জল) যাচাই
৩.যোগাযোগ ও নেভিগেশন ব্যবস্থার কার্যকারিতা পরীক্ষা
৪.মহাকাশচারীদের ম্যানুয়াল কন্ট্রোল দক্ষতা মূল্যায়ন
এছাড়াও অভিযানের সময় বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ ও তথ্য সংগ্রহ করা হবে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য মহড়া চালানো হবে মহাকাশযানের ভেতরেই।

ভবিষ্যতের পথ তৈরি Artemis III-এর জন্য (NASA Artemis 2 mission)
এই মিশন ভবিষ্যতের Artemis III-এর জন্য ভিত্তি তৈরি করছে। সেই মিশনের লক্ষ্য হবে মানুষকে আবার চাঁদের মাটিতে নামানো। Artemis প্রোগ্রামের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা আরও বড়, চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি তৈরি করা এবং ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে মানুষ পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া।
মহাকাশ অভিযানে নতুন যুগের সূচনা
সব মিলিয়ে Artemis II শুধু একটি মিশন নয়, বরং মানব মহাকাশ অভিযানের নতুন অধ্যায়ের সূচনা। প্রায় ৫০ বছরের অপেক্ষার পর আবার চাঁদের পথে মানুষের যাত্রা যা আগামী দিনের মহাকাশ গবেষণার দিক নির্ধারণ করতে পারে।
