election tension 2026
Bengal Liberty Desk, Kolkata:
ভোটের কাউন্টডাউন শুরু হতেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ election tension 2026। একের পর এক অশান্তির ঘটনার প্রেক্ষিতে এবার কঠোর পদক্ষেপ নিল ইলেকশন কমিশন । স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে অনুমতি ছাড়া কোনও জমায়েত, মিছিল বা বিক্ষোভ হলে সঙ্গে সঙ্গেই গ্রেফতার করা হবে।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার থেকেই গোটা রাজ্যে বেআইনি জমায়েতের উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হচ্ছে। শুধুমাত্র অনুমোদিত কর্মসূচিই করা যাবে, নাহলে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পিছপা হবে না প্রশাসন। এমনকী, মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO)-এর দফতরে যাওয়ার ক্ষেত্রেও আগে থেকে অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

কেন এত কড়াকড়ি? election tension 2026
গত কয়েকদিনে একাধিক ঘটনার জেরে এই সিদ্ধান্ত। মঙ্গলবার কলকাতায় CEO দফতরের সামনে ফর্ম ৬-কে কেন্দ্র করে তৃণমূলপন্থী বিএলওদের বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। বিজেপি সমর্থকদের সঙ্গে বচসা, পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ব্যারিকেড ভেঙে ঢোকার চেষ্টাও করা হয়, পরে কেন্দ্রীয় বাহিনী হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি সামলায়।
এরপরই বুধবার মালদহের কালিয়াচকে আরও গুরুতর অভিযোগ সামনে আসে। এসআইআর সংক্রান্ত কাজে নিযুক্ত সাতজন বিচারককে কয়েক ঘণ্টা আটকে রাখার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে NIA কে যা ভোট ঘোষণার পর অত্যন্ত বিরল ঘটনা।

কমিশনের কড়া বার্তা election tension 2026
এই সব ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই জরুরি বৈঠক করেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। সেখান থেকেই রাজ্যজুড়ে কড়া নির্দেশ জারি করা হয়। প্রশাসনের সর্বস্তরে সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে বিএলও রক্ষা কমিটি মঞ্চের ক্ষেত্রেও কঠোর অবস্থান নিয়েছে কমিশন। ভবিষ্যতে অনুমতি ছাড়া কোনও মঞ্চ বা বিক্ষোভ সংগঠিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তৎক্ষণাৎ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা, এমনকী সাসপেনশনও হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক চাপানউতোর
এদিকে, মালদহের ঘটনার দায় কমিশনের উপরেই চাপিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। অন্যদিকে, কমিশন রাজ্য পুলিশের ডিজির কাছেও রিপোর্ট তলব করেছে। ফলে ভোটের আগে প্রশাসন বনাম রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
ভোটের আর মাত্র কুড়ি দিন বাকি। তার মধ্যেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে কমিশনের কড়া বার্তা “নিয়ম মানুন, নাহলে সরাসরি আইনি ব্যবস্থা” রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।
