India pharmacy strike
Bengal Liberty, Kolkata:
একদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম আকাশছোঁয়া, অন্যদিকে চিকিৎসার খরচও ক্রমশ সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। এর মাঝেই সামনে এল আরেক দুঃসংবাদ – ভারতে প্রায় ৯০০টিরও বেশি জরুরি ও জীবনদায়ী ওষুধের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে Medicine Price Increase। ফলে যাঁরা নিয়মিত ওষুধের উপর নির্ভরশীল, তাঁদের দৈনন্দিন খরচে আরও চাপ পড়তে চলেছে। এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি পড়বে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের উপর, বিশেষ করে যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি রোগে ভুগছেন।
কেন বাড়ছে ওষুধের দাম?
ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা National Pharmaceutical Pricing Authority (NPPA) জানিয়েছে, ২০২৫ সালের পাইকারি মূল্য সূচক (WPI)-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ওষুধের সর্বোচ্চ খুচরো মূল্য (MRP) বাড়ানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
এই বৃদ্ধির হার তুলনামূলকভাবে কম—প্রায় ০.৬৫ শতাংশ। তবে সমস্যা অন্য জায়গায়। কাঁচামালের দাম, আমদানি খরচ এবং বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে অনেক ওষুধের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায়, কিছু ক্ষেত্রে দাম বেড়েছে অনেক বেশি হারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতি, জ্বালানি ও গ্যাসের ঘাটতি, এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন সব মিলিয়েই এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে বড় কারণ।

কোন কোন ওষুধের উপর প্রভাব পড়ছে?
ন্যাশনাল লিস্ট অফ এসেনশিয়াল মেডিসিনস (NLEM)-এর আওতায় থাকা প্রায় ৯০০ ধরনের ওষুধের দাম বেড়েছে। এই তালিকায় এমন বহু ওষুধ রয়েছে, যা প্রতিদিনের চিকিৎসায় অপরিহার্য।
প্রধান যে ধরনের ওষুধগুলির দাম বেড়েছে— ব্যথানাশক ওষুধ,উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ,ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের ওষুধ,গ্যাস, অ্যাসিডিটি ও হজমের সমস্যা সংক্রান্ত ওষুধ,জ্বরের ওষুধ,ভিটামিন ও সাপ্লিমেন্ট,ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ ও প্রদাহের ওষুধ অর্থাৎ, সাধারণ সর্দি-কাশি থেকে শুরু করে গুরুতর দীর্ঘমেয়াদি রোগ প্রায় সব ক্ষেত্রেই এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়তে চলেছে।
কিছু নির্দিষ্ট ওষুধে বড়সড় মূল্যবৃদ্ধি
যদিও সামগ্রিক বৃদ্ধির হার কম, কিন্তু কিছু নির্দিষ্ট ওষুধের ক্ষেত্রে মূল্যবৃদ্ধি অনেকটাই বেশি। যেমন—
Montelukast: প্রায় ২৫–৩০% বৃদ্ধি
Azithromycin: প্রায় ১৮–২৫% বৃদ্ধি
Pantoprazole: প্রায় ১৮–২২% বৃদ্ধি
Metformin: প্রায় ১৫–২০% বৃদ্ধি
Vitamin C: প্রায় ২০–২৫% বৃদ্ধি
গ্লিসারিন: প্রায় ৬৪% পর্যন্ত বৃদ্ধি
Paracetamol: প্রায় ২৬% বৃদ্ধি
Diclofenac ও Ciprofloxacin: প্রায় ২০–৩০% বৃদ্ধি
এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট, শুধু ছোটখাটো ওষুধ নয়, বরং দৈনন্দিন ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ ওষুধগুলিও এই মূল্যবৃদ্ধির আওতায় এসেছে।
২০২৫ সালেও হয়েছিল মূল্যবৃদ্ধি
উল্লেখযোগ্যভাবে, গত বছরও ওষুধের দামে বৃদ্ধি দেখা গিয়েছিল। তখন প্রায় ১.৭৪ শতাংশ হারে দাম বাড়ানো হয়েছিল। সেই সময় যেসব রোগের ওষুধের দাম বেড়েছিল—প্রেসার,সুগার,গ্যাস,বমি,রক্ত পাতলা করার ওষুধ,হাঁপানি,মানসিক রোগ,HIV চিকিৎসার ওষুধ অর্থাৎ, ধারাবাহিকভাবে ওষুধের দাম বাড়তে থাকায় চিকিৎসা ক্রমশ ব্যয়সাপেক্ষ হয়ে উঠছে।
আইন অনুযায়ী কীভাবে দাম নির্ধারিত হয়?
ওষুধের মূল্য নির্ধারণ করা হয় ২০১৩ সালের ড্রাগ প্রাইস কন্ট্রোল অর্ডার (DPCO)-এর ভিত্তিতে। এই নিয়ম অনুযায়ী, সরকার নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থেকে ওষুধের দাম বাড়ানোর অনুমতি দেয়। NPPA সেই নিয়ম মেনেই প্রতি বছর পাইকারি মূল্য সূচকের ভিত্তিতে দাম সমন্বয় করে।
তবে বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি ও উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার কারণে অনেক কোম্পানি তাদের ওষুধের দাম আরও বাড়াচ্ছে।
সাধারণ মানুষের উপর কী প্রভাব পড়বে?
এই মূল্যবৃদ্ধির সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে—দীর্ঘমেয়াদি রোগীদের উপর,বয়স্ক মানুষদের উপর,নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের উপর। যাঁরা প্রতিদিন একাধিক ওষুধ খান, তাঁদের মাসিক চিকিৎসার খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস বা হাইপারটেনশনের মতো রোগে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে, এই খরচ দীর্ঘমেয়াদে বড় বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
একদিকে জীবনযাত্রার খরচ, অন্যদিকে চিকিৎসার ব্যয় দুয়ের চাপে সাধারণ মানুষের জীবন ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে। ৯০০-র বেশি জরুরি ওষুধের দাম বৃদ্ধি নিঃসন্দেহে একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। তবে প্রশ্নটা এখানেই চিকিৎসা কি ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে?
