slum fire
Bengal Liberty Desk, Kolkata:
ঘড়িতে তখন দুপুর ১টা ৪০। কেউ সবে ভাত খেতে বসেছিলেন, কেউ বা কাজের শেষে একটু বিশ্রামের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই নিমেষের মধ্যে সব শেষ হয়ে গেল আক্রা-সন্তোষপুরের ‘১৬ বিঘে’ বস্তিতে (slum fire)। বিধ্বংসী আগুনের গ্রাসে চোখের নিমেষে ছাই হয়ে গেল কয়েক দশকের সাজানো সংসার। আগুনের ভয়াবহতা এতটাই ছিল যে প্রাণটুকু হাতে নিয়ে বেরিয়ে আসতে পারলেও, প্রয়োজনীয় নথিপত্র থেকে শুরু করে আসবাব কিছুই রক্ষা করতে পারেননি বাসিন্দারা।

নিখোঁজ ৬-৭টি শিশু, এলাকায় তীব্র উত্তেজনা slum fire
ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, এই অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে ৫ থেকে ৭ জন শিশুর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। স্থানীয়দের দাবি, প্রাণ বাঁচাতে হুড়োহুড়ির মধ্যে শিশুরা ভিড়ের মধ্যে হারিয়ে গিয়েছে নাকি আগুনের কবলে পড়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এক মহিলা কাঁদতে কাঁদতে জানান, “আগুন দেখে ভয়ে একজন পুকুরে ঝাঁপ দিয়েছিল, তারও হদিশ মিলছে না।” এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ভোট দিতে পারবেন না বস্তিবাসী!
সামনেই নির্বাচন, কিন্তু আক্রার এই বস্তিবাসীদের কাছে এখন সবটাই অন্ধকার। অগ্নিকাণ্ডে ভোটার কার্ড, রেশন কার্ড এবং আধার কার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ নথি পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। সর্বস্ব হারানো মানুষের ক্ষোভ আছড়ে পড়ছে শাসক ও বিরোধী দুই শিবিরের ওপরই। এক বাসিন্দা সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, “২৯ তারিখ ভোট, কিন্তু আমাদের সব পুড়ে গেছে। এবার আসুক ভোট চাইতে, না মোদিকে চাই, না দিদিকে। যারা আমাদের নিরাপত্তা দিতে পারে না, তাদের ভোট কেন দেব?” প্রশাসনের ওপর এই অনাস্থা কার্যত স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে দুর্গতরা চরম হতাশায় ভুগছেন তারা।
দমকলের ভূমিকায় ক্ষোভ, রেলের তারে দগ্ধ বাসিন্দা
স্থানীয়দের অভিযোগ, আগুন লাগার পর দমকলকে খবর দেওয়া হলেও তারা অনেক দেরিতে পৌঁছায়। বাসিন্দাদের দাবি, “দমকলের দুটি ইঞ্জিন এলেও একটিতে জল ছিল না।” আগুন নেভানোর সরঞ্জামের অভাব এবং প্রশাসনের উদাসীনতা নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। এদিকে, আগুনের তাপে রেলের ওভারহেড তার ছিঁড়ে পড়ে এক ব্যক্তির শরীর ঝলসে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আহতকে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।
অন্ধকারে ভবিষ্যৎ, ত্রাণ নিয়ে প্রশ্ন
আগুনের গোলা দেখে ঘর থেকে বেরিয়ে আসা মানুষগুলোর কাছে এখন পড়ে রয়েছে শুধুই পোড়া গন্ধ আর ধ্বংসস্তূপ। এই বিপর্যয়ের পর রাজ্য সরকার বা স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ত্রাণের ব্যবস্থা করা হবে কি না, এখন সেটাই বড় প্রশ্ন। মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে কয়েকশ মানুষ এখন খোলা আকাশের নিচে।
