Ratna Debnath
Bengal Liberty, ২৯ এপ্রিল :
একসময় মেয়ের নিথর দেহের সামনে দাঁড়িয়ে সুবিচারের জন্য কেঁদেছিল যে চোখ, আজ সেই চোখেই জ্বলছে রাজনৈতিক লড়াইয়ের আগুন (Ratna Debnath)। আর জি করের সেই অভিশপ্ত রাতের পর কেটে গিয়েছে প্রায় দেড় বছর। রাজপথের আন্দোলন যখন স্তিমিত, তখন বিচারের শেষ আশা নিয়ে সরাসরি ব্যালট-যুদ্ধে অবতীর্ণ ‘অভয়া’র মা রত্না দেবনাথ। পানিহাটি আসনে বিজেপির টিকিটে লড়ছেন তিনি (Ratna Debnath)। বুধবার সকালে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে রীতিমতো আত্মবিশ্বাসের সুর তাঁর গলায়, “আমরাই জিতছি, এবার বিচার হবেই।”

রাজনীতির ময়দানে নিশ্চিত জয় (Ratna Debnath)
বছর দেড়েক আগে আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় তোলপাড় হয়েছিল গোটা বিশ্ব। দোষী সঞ্জয় রায়কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। কিন্তু সেই রায়ে চিঁড়ে ভেজেনি। মেয়ের আসল সুবিচারের আশায় প্রধানমন্ত্রীর দরজায় কড়া নেড়েও দেখা পাননি তাঁরা। এরপরই ঘটনাক্রমে লাগে রাজনীতির রং। মেয়ের বিচারের দাবিকে সামনে রেখেই বিজেপির হয়ে রাজনীতির ময়দানে পা রাখেন রত্না দেবী। বুধবার সকালে ভোটকেন্দ্রে তাঁর উপস্থিতি নজর কাড়ে সকলের। তাঁর পরনের সাদা শাড়ির কালো পাড়ে জ্বলজ্বল করছিল একটি তীক্ষ্ণ বার্তা— ‘মেরুদণ্ড বিক্রি নেই।’

স্পষ্ট বার্তা রত্না দেবীর (Ratna Debnath)
ভোট দিয়ে বেরিয়ে রত্নাদেবীর স্পষ্ট প্রত্যয়, “আমরাই জিতব, আমরা বিচার পাব, মানুষ আমাদের ভোট দেবে।” পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অভয়ার বাবার গলায় তখন আক্ষেপ আর জেদের অদ্ভূত মিশেল, “মেয়ের মৃত্যুর সুবিচারের জন্য এই পথে হাঁটতে হবে, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। কিন্তু আমরা জিতবই।” কান্নার জল শুকিয়ে গিয়ে আজ তা রূপান্তরিত হয়েছে ব্যালটের লড়াইয়ে। এখন দেখার বিষয়, পানিহাটির মানুষ অভয়ার মায়ের এই ‘মেরুদণ্ড’ সোজা রাখার লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে ইভিএমে সুবিচারের রায় দেন কি না। আগামী দিনের নির্বাচনী ফলাফলই বলে দেবে, এই আত্মবিশ্বাস বাস্তবে কতটা প্রতিফলিত হয়।
