ED probe
Bengal Liberty, ৬ মে :
সোমবার বাংলার মসনদ থেকে তৃণমূলের বিদায় ঘণ্টা বেজেছে। আর তার ঠিক ৪৮ ঘণ্টার মাথায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার সাঁড়াশি চাপের মুখে প্রাক্তন শাসক দলের দুই ‘হেভিওয়েট’ নেতা (ED probe)। পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় বুধবার সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে তলব করা হয়েছিল বিদায়ী মন্ত্রী সুজিত বসু ও রথীন ঘোষকে। কিন্তু জল্পনা সত্যি করে আজ হাজিরা এড়ালেন দুই তৃণমূল নেতা। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর আইনি রক্ষাকবচ হারানো এই নেতাদের এখন প্রধান ভয় কেন্দ্রীয় এজেন্সির কঠোর পদক্ষেপ।

কেন হাজিরা এড়ালেন সুজিত-রথীন?
গত ১ মে দীর্ঘ ৯ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর ইডি আধিকারিকরা সুজিত বসুকে আজ অর্থাৎ ৬ মে পুনরায় হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সঙ্গে আনতে বলা হয়েছিল তাঁর ও পরিবারের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির যাবতীয় নথি। একই দিনে মধ্যমগ্রামের তৃণমূল নেতা রথীন ঘোষকেও তলব করা হয়েছিল। কিন্তু আজ ইডি দপ্তরে কাউকেই দেখা যায়নি। সূত্রের খবর, হাজিরা না দেওয়ার সপক্ষে ব্যক্তিগত কারণ এবং শারীরিক অসুস্থতার অজুহাত দেওয়া হয়েছে।
তবে বিজেপির দাবি, নির্বাচনে হারের পর দুর্নীতির পাহাড় সামনে আসার ভয়েই এখন ইডি থেকে মুখ লুকিয়ে বেড়াচ্ছেন এই নেতারা। বারবার ইডির তলব এড়িয়ে যাওয়া যে আইনিভাবে বিপদের কারণ হতে পারে, তা সুজিত ও রথীন উভয়ই জানেন। তদন্তকারীদের দাবি, পুর নিয়োগ দুর্নীতির যে নীল নকশা তৈরি হয়েছিল, তার অন্যতম কারিগর ছিলেন এই নেতারা। ফলে হাজিরা এড়ালেও ইডি যে খুব শীঘ্রই তাঁদের বিরুদ্ধে ‘কড়া পদক্ষেপ’ বা গ্রেফতারির পথে হাঁটতে পারে, সেই আশঙ্কায় এখন কাঁপছে ঘাসফুল শিবিরের অবশিষ্টাংশ।

বিজেপি-র তোপ
বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্যের কড়া বার্তার পর দলের অন্যান্য নেতৃত্বও তৃণমূলের এই পলায়ন মনোবৃত্তিকে কটাক্ষ করেছেন। বিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “মানুষ তৃণমূলকে প্রত্যাখ্যান করেছে তাদের দুর্নীতির জন্য। এখন ইডির হাজিরা এড়ালেও আইনের হাত থেকে পালানো সম্ভব নয়। সিন্ডিকেট আর কাটমানির যে সাম্রাজ্য তাঁরা তৈরি করেছিলেন, এবার তার পূর্ণাঙ্গ হিসেব হবে।”
আরও পড়ুন: ফল ঘোষণার পর বাংলায় অশান্তির আঁচ চতুর্দিকে! বুলডোজার মিছিলে কড়া নিষেধাজ্ঞা, পুলিশ কমিশনারের কড়া বার্তা
পরবর্তী পদক্ষেপ কী?
ইডির একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র জানাচ্ছে, বারবার তলব সত্ত্বেও হাজিরা না দেওয়াকে তদন্তে অসহযোগিতা হিসেবেই দেখছেন আধিকারিকরা। খুব শীঘ্রই তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ফের তাঁদের নোটিশ পাঠানো হতে পারে অথবা সরাসরি তাঁদের ঠিকানায় পৌঁছে যেতে পারে ইডি।
