Politics in Bangladesh
Bengal Liberty, নয়ন বিশ্বাস রকি
কলাম লেখক, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও সমাজসেবক:
বাংলাদেশের রাজনীতিতে(Politics in Bangladesh) এখন একটাই বড় প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—বিএনপি কি সত্যিই দেশের স্বার্থে কথা বলে, নাকি বিদেশী শক্তির এজেন্ডা বাস্তবায়নের সিঁড়ি হিসেবে নিজেদের ব্যবহার করছে? একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দলের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত জনগণের কল্যাণ ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির কর্মকাণ্ডে প্রশ্ন উঠছে—দেশের স্বার্থ অন্য দেশের হাতে তুলে দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করার মানে কী? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দেশের স্বার্থ বন্ধক রাখা কিংবা পাকিস্তানের সঙ্গে পুরনো দোস্তির রাজনীতি পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টাই কি এখন বিএনপির পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি? বিদেশী শক্তিকে খুশি করে ক্ষমতায় যাওয়ার এই অলীক স্বপ্ন দেশের মানুষের জন্য কতটা মঙ্গলের, তা আজ ভাবার সময় এসেছে। প্রিয় দেশবাসী, আপনারা একটু ভেবে দেখুন—অতীতে দেশের অবস্থা কেমন ছিল, আর আজ আমরা কোথায় এসে দাঁড়িয়েছি?

দূতাবাসের দরজায় ধর্ণা ও সার্বভৌমত্বের দরকষাকষি (Politics in Bangladesh)
সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বক্তব্য, বিদেশী কূটনীতিকদের সঙ্গে ঘন ঘন রুদ্ধদ্বার বৈঠক আর দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশী রাষ্ট্রগুলোর বারবার হস্তক্ষেপের আহ্বান দেখে মনে হয়, ক্ষমতায় ফেরার জন্য তারা দেশের সার্বভৌমত্বকেই দরকষাকষির পণ্য বানিয়ে ফেলেছে। জনগণের শক্তির ওপর ভরসা না করে, তারা এখন বিদেশী প্রভুদের ইশারায় চলতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছে। “যেকোনো মূল্যে টিকে থাকতে হবে”—বিএনপির এই একটা মরিয়া চেষ্টার আড়ালে লুকিয়ে আছে এক ভয়ংকর সত্য। যদি টিকে থাকার শর্তই হয় বিদেশী প্রভুদের স্বার্থ রক্ষা করা, তাহলে দেশের সাধারণ জনগণের অধিকার ও স্বার্থ কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে?

লাখো শহীদের রক্ত ও স্বাধীনতার মূল্য (Politics in Bangladesh)
দেশের স্বাধীনতা, অর্থনীতি এবং পররাষ্ট্রনীতি যদি বিদেশীদের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী চলে, তাহলে ১৯৭১ সালে লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীন বাংলাদেশের মানে কী থাকে? স্বাধীনতা মানে তো সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা মানে তো নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়ার অধিকার। কিন্তু বিএনপি যেভাবে ক্ষমতার লোভে পরনির্ভরশীল রাজনীতি শুরু করেছে, তা আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আত্মত্যাগকে চরমভাবে অবমাননা করে।

পরনির্ভরশীলতা বনাম জনগণের রাজনীতি (Politics in Bangladesh)
একটি দায়িত্বশীল বিরোধী দলের মূল কাজ হলো সরকারের ভুলত্রুটি ধরিয়ে দেওয়া এবং জনগণের ন্যায্য দাবি নিয়ে রাজপথে আন্দোলন করা। কিন্তু বিএনপি আজ জনগণের দুয়ারে না গিয়ে বিদেশী দূতাবাসের দরজায় ধর্ণা দিচ্ছে। একে আর যাই হোক, সুস্থ ধারার গণতান্ত্রিক রাজনীতি বলা যায় না; এটি চরম পরনির্ভরশীলতা ও রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের বহিঃপ্রকাশ। জনগণ এখন সচেতন। তারা ভালো করেই জানে, দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে বা কোনো বিদেশী শক্তির কাঁধে ভর করে ক্ষমতায় আসার মধ্যে কোনো গৌরব নেই। কারণ এমন পরজীবী ক্ষমতা কখনো স্থায়ী হয় না, আর টিকলেও তা দেশের জন্য কেবল বিপর্যয়ই ডেকে আনে।

‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নাকি ‘ফরেন পাওয়ার ফার্স্ট’? (Politics in Bangladesh)
আজকের দিনে দাঁড়িয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এটাই: বিএনপির বর্তমান পররাষ্ট্রনীতি কি “বাংলাদেশ ফার্স্ট” (আগে বাংলাদেশ), নাকি “ফরেন পাওয়ার ফার্স্ট” (আগে বিদেশী শক্তি)? যদি দ্বিতীয়টি সত্য হয়, তবে এই রাজনীতিতে দেশের মানুষের প্রাপ্তি কেবলই শূন্য। এর মাধ্যমে লাভবান হবে শুধু তারাই, যারা সুদূর দূরদেশ থেকে বসে এদেশের রাজনীতির কলকাঠি নাড়তে চায়।
প্রকৃত দেশপ্রেমিক রাজনীতির অর্থ এই নয় যে আমরা বিদেশী বন্ধুত্বের বিপক্ষে। তবে সেই বন্ধুত্বের নামে দাসত্ব করা কখনোই কাম্য নয়। রাজনীতিতে টিকে থাকতে হলে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সাহস ও জনগণের প্রতি অগাধ বিশ্বাস থাকতে হয়। বিএনপি যদি সেই সাহস ও আত্মমর্যাদা দেখাতে ব্যর্থ হয়, তবে এদেশের সচেতন জনগণ এবং ইতিহাস তাদের কখনোই ক্ষমা করবে না।
আরও পড়ুন:
অনুপ্রবেশ রুখতে মোক্ষম চাল দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
