Bangladesh political crisis
Bengal Liberty, প্রাইমা হোসেন, সহ-সভাপতি, যুক্তরাষ্ট্র মেরিল্যান্ড স্টেট আওয়ামী লীগ এবং বিশিষ্ট সমাজসেবিকা ও সংগঠক: বাংলাদেশ আজ এক গভীর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। একদিকে জনগণের বিপুল প্রত্যাশা, অন্যদিকে রাষ্ট্রের রূঢ় বাস্তবতা(Bangladesh political crisis)। বিএনপি, জামাত ও এনসিপির যৌথ সরকারের প্রায় দুই বছর অতিবাহিত হওয়ার পর দেশের সাধারণ মানুষ আজ চরমভাবে দিশেহারা। যে বাংলাদেশ একসময় উন্নয়ন, অগ্রগতি আর অপার সম্ভাবনার প্রতীক ছিল, সেই দেশ আজ তার সঠিক গন্তব্য হারিয়ে ফেলেছে বলে মনে করছেন কোটি মানুষ।

রাষ্ট্রের দিকভ্রষ্ট যাত্রা (Bangladesh political crisis)
স্বাধীনতার পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পার করে বাংলাদেশের রাজনীতি ও অর্থনীতি দুটোই আজ চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। সরকারের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়হীনতা, প্রতিহিংসামূলক রাজনীতি এবং রাষ্ট্রীয় যন্ত্রের অপব্যবহারের কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উন্নয়ন সহযোগী রাষ্ট্র, বিদেশি বিনিয়োগকারী এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরা আজ দেশকে একটি অনিশ্চিত গন্তব্য হিসেবে দেখছেন। গণতন্ত্রের নামে চলছে নগ্ন দলীয়করণ, আর মানবাধিকারের ক্ষেত্রে পরিলক্ষিত হচ্ছে একপাক্ষিক আচরণ।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ওপর আঘাত (Bangladesh political crisis)
সবচেয়ে বেদনাদায়ক বিষয় হলো, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে মহান মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ওপর লাগাতার দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে। হাজার হাজার নেতাকর্মীকে বিনাবিচারে গ্রেপ্তার, মিথ্যা মামলা দায়ের এবং বাড়িঘরে হামলা-ভাঙচুর এখন নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। ৩০ লাখ শহীদের রক্তে অর্জিত এই ভূখণ্ডে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে কোণঠাসা করার অপচেষ্টা মূলত বাংলাদেশের অস্তিত্ব ও ইতিহাসকেই অস্বীকার করার শামিল। একটি স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ভিন্নমত ও সমালোচনা থাকবেই; কিন্তু ভিন্নমত দমন করতে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চালানো কোনো সভ্য সমাজের পরিচয় হতে পারে না।

জনজীবনে নেমে আসা স্থবিরতা ও সংকট (Bangladesh political crisis)
অর্থনৈতিক অস্থিরতা, লাগামহীন দ্রব্যমূল্য, চরম আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের ভঙ্গুর অবস্থা সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বলি হয়ে বহু উন্নয়ন প্রকল্প মুখ থুবড়ে পড়েছে। একদিকে তরুণরা কর্মসংস্থান হারাচ্ছে, অন্যদিকে কৃষকরা ফসলের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং ব্যবসায়ীরা সার্বিক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এর চেয়েও ভয়ের বিষয় হলো, সমাজে একটি স্থায়ী ভীতির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে—গণমাধ্যম, সুশীল সমাজ কিংবা শিক্ষাঙ্গন, সর্বত্রই চলছে অদৃশ্য নিয়ন্ত্রণ।
জনগণের প্রত্যাশা ও নেতৃত্বের ডাক (Bangladesh political crisis)
এই ঘোর ক্রান্তিকালে দেশের সাধারণ মানুষ তাকিয়ে আছে সেই দূরদর্শী নেতৃত্বের দিকে, যাঁর হাত ধরে ২০০৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়েছিল। যাঁর দৃঢ় নেতৃত্বে পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, ডিজিটাল রূপান্তর এবং ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছিল। এই সংকট থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে দেশবাসী মনে করে, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বই একমাত্র বিকল্প।
বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর বিভাজনমূলক নীতি ও প্রতিহিংসার রাজনীতি দেশকে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণভাবে এক ব্যর্থতার মুখে দাঁড় করিয়েছে। তবে ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, বাংলাদেশ কখনোই দীর্ঘকাল অন্ধকারে নিমজ্জিত থাকেনি। দেশের কোটি কোটি মানুষের একটিই প্রত্যয়—একটি গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন, উন্নত ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ভাস্বর বাংলাদেশ পুনর্গঠন করা।
আরও পড়ুন:

