Annapurna Puja 2026
Bengal Liberty Desk, kolkata :
সনাতন ধর্মে দেবী অন্নপূর্ণা হলেন সমৃদ্ধি, পুষ্টি এবং অন্নের অধিষ্ঠাত্রী দেবী (Annapurna Puja 2026)। মনে করা হয়, মা অন্নপূর্ণার আশীর্বাদ থাকলে সংসারে কখনও অন্নের অভাব হয় না। চৈত্র মাসের শুক্লাষ্টমী তিথিতে পুজো হয় দেবী অন্নপূর্ণার। কাশীতে অন্নপূর্ণার একটি মন্দির আছে। যেখানে, অন্ন কূট উৎসব প্রসিদ্ধ।

তিথি ও শুভক্ষণ Annapurna Puja 2026
২০২৬ সালে অন্নপূর্ণা পুজো পালিত হচ্ছে চৈত্র মাসের বাসন্তী দুর্গাপুজোর অষ্টমী তিথিতে। অষ্টমী তিথি শুরু হয়েছে ২৫ মার্চ বিকেল ৪টা ৪৭ মিনিট থেকে এবং শেষ হবে ২৬ মার্চ দুপুর ২টা ২৮ মিনিট পর্যন্ত।
দেবী অন্নপূর্ণার মাহাত্ম্য
হিন্দু শাস্ত্র মতে, মা অন্নপূর্ণা সন্তুষ্ট হলে গৃহে কখনও খাদ্যের অভাব হয় না। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় ভক্তিভরে এই পুজো পালিত হয়। ‘অন্নদা দেবী’ নামেও পরিচিত এই দেবীর হাতে থাকে অন্নপাত্র ও দর্বী, আর শিরে শোভা পায় চাঁদের অলংকার।এছাড়া একপাশে থাকে ভূমি এবং আর এক পাশে থাকে শ্রী। বিশ্বাস করা হয় যে, দেবীর নৃত্যপরায়ণ মহাদেব শিবকে দেখে সন্তুষ্ট হন।
পুরাণ মতে, বিয়ের পর এক সময় শিব ও পার্বতী-র সংসারে অন্নকষ্ট দেখা দেয়। সেই সময়ে পার্বতীর তিরস্কারে শিব ভিক্ষা করতে বের হন। কিন্তু কোথাও ভিক্ষা না পেয়ে শেষে কৈলাসে ফিরে আসেন। পরে ফিরে এসে পায়েস, পিঠে ইত্যাদি আহার করেন। এরপরই দেবীর এই মহিমাবৃদ্ধির জন্য কাশীতে অন্নপূর্ণা দেবীর মন্দির প্রতিষ্ঠা হয়।

অন্নকূট উৎসব
অন্নপূর্ণা পুজোর সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে রয়েছে অন্নকূট উৎসব। রানি রাসমণি-র কনিষ্ঠা কন্যা জগদম্বা ১৮৭৫ সালে ব্যারাকপুরে একটি অন্নপূর্ণা মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। সেখানে অষ্টধাতুর অন্নপূর্ণা ও মহাদেবের মূর্তি পূজিত হয় এবং পুজোর দিন বিশাল অন্নকূট মহোৎসবের আয়োজন করা হয়।
পুজোর নিয়মাবলী :
পুজোর দিন সকালে শুদ্ধ বস্ত্র পরে দেবী অন্নপূর্ণার ধ্যান করতে হয়। অনেকে সারা দিন উপবাস বা ফলাহার করেন।
* সকালে স্নান সেরে উপবাস রেখে দেবীর মূর্তিতে বা চিত্রে শাড়ি, অলঙ্কার, ফুল, ধূপ দিয়ে সাজানো হয়।
* এই পুজো সাধারণত রান্নাঘরে বা ঠাকুরঘরে করা হয়। পুজোর স্থানে হলুদ ও জল দিয়ে পবিত্র করে চালের গুঁড়ো দিয়ে আল্পনা আঁকা হয়।
* দেবীর সামনে চাল, ডাল, ভোগ ও মিষ্টি নিবেদন করে অন্নপূর্ণা স্তোত্র পাঠ এবং আরতি করা হয়।
* একটি পাত্রে চাল রেখে তার ওপর দেবীর মূর্তি স্থাপন করা হয়, যা অন্নের প্রাচুর্য নির্দেশ করে।
* দেবী অন্নপূর্ণাকে মূলত অন্ন বা ক্ষীর, পায়েস, মিষ্টি ভোগ দেওয়া হয়। ঘরে তৈরি নিরামিষ রান্নাও নিবেদন করা যায়
নিষ্ঠার সঙ্গে এই পুজো পালন করলে সারা বছর অন্নকষ্ট থেকে মুক্তি পাওয়া যায় বলে বিশ্বাস করা হয়।
