Birbhum CRPF controversy
Bengal Liberty, Kolkata:
ভোটের আগে নিরপেক্ষতা নিয়ে যখন কড়া নজর নির্বাচন কমিশনের, ঠিক তখনই বীরভূমে সামনে এল এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ (Birbhum CRPF controversy)। ডিউটির সময়ই শাসক দলের পার্টি অফিসে ঢুকে আড্ডা ও ক্যারাম খেলায় মেতে উঠলেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই তড়িঘড়ি কড়া পদক্ষেপ কমিশনের।

পার্টি অফিসে ঢুকে সময় কাটানোর অভিযোগ
সূত্রের খবর, শনিবার টহল দেওয়ার দায়িত্বে থাকা তিন জওয়ান আচমকাই ঢুকে পড়েন শাসকদলের একটি স্থানীয় কার্যালয়ে। সেখানে উপস্থিত কর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে বলতে শুরু হয় আড্ডা, যা পরে ক্যারাম খেলায় গড়ায়। অভিযোগ, প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলে এই সময় কাটানো
কেন্দ্রীয় বাহিনীর মূল দায়িত্ব হল এলাকায় শান্তি বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কিন্তু সেই দায়িত্বে থাকা অবস্থাতেই কোনও রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে গিয়ে সময় কাটানো কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের আচরণ বাহিনীর নিরপেক্ষতার ভাবমূর্তিকে আঘাত করে।

খবর পৌঁছতেই তৎপর কমিশন
সিউড়ি এলাকায় এই ঘটনার খবর দ্রুত পৌঁছে যায় কমিশনের কানে। বিষয়টি জানার পরই ক্ষোভ প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন এবং অবিলম্বে তদন্তের নির্দেশ দেয়। তাদের মতে, ভোটের সময় এই ধরনের আচরণ একেবারেই অগ্রহণযোগ্য।
প্রাথমিক তদন্তের পরই বড় সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। সংশ্লিষ্ট তিন জওয়ানকে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে, তাঁরা Central Reserve Police Force (CRPF)-এর সদস্য। পাশাপাশি তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আগের ঘটনাও টানছে নজর
এর আগেও BSF এর কিছু জওয়ানের বিরুদ্ধে অনুরূপ অভিযোগ উঠেছিল এবং তখনও কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছিল কমিশন। কিন্তু তার পরেও একই ধরনের ঘটনা সামনে আসায় প্রশ্ন উঠছে, মাঠপর্যায়ে কি পর্যাপ্ত নজরদারি হচ্ছে?
এই ঘটনার পর বীরভূম জেলার অন্যান্য এলাকায় মোতায়েন থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনীকেও সতর্ক করা হয়েছে। স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, ভোটের সময় কোনওরকম গাফিলতি বা পক্ষপাতমূলক আচরণ বরদাস্ত করা হবে না। কমিশন চাইছে, কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভাবমূর্তি কোনওভাবেই ক্ষুণ্ণ না হোক।
নির্বাচনী স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ
বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরপেক্ষ ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে এই ধরনের ঘটনা সাধারণ মানুষের আস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে ভোটের আগে এই বিতর্ক নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েই নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।
ভোটের ঠিক আগে এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিরোধীরা ইতিমধ্যেই এই ঘটনাকে ইস্যু করতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। এখন নজর, এই বিতর্ক কতটা বড় আকার নেয় এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ায় তার প্রভাব কতটা পড়ে।
