Suvendu Shamik complaint
Bengal Liberty, ৩১ মার্চ :
ভোটের প্রাক্কালে দাঁড়িয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, এই তিন প্রশ্নকে সামনে রেখে এবার সরাসরি নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ বিজেপি (Suvendu Shamik complaint)। বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, রাজ্যের গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার একাংশকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নজরদারির আওতায় আনা হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে শুভেন্দু অধিকারী ও শমীক ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে বিজেপি প্রতিনিধি দল CEO দফতরে অভিযোগ জানিয়ে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে কমিশনের জরুরি হস্তক্ষেপ (Suvendu Shamik complaint) দাবি করেছে।

ফোন-লোকেশন ট্র্যাকিংয়ের অভিযোগে (Suvendu Shamik complaint)
সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, STF, IB, CID-সহ একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা বিজেপি নেতাদের ফোন-লোকেশন ট্র্যাক করছে। তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, এই নজরদারি কেবল শীর্ষ নেতৃত্বে সীমাবদ্ধ নয়, মণ্ডল স্তরের কর্মীরাও এর আওতায় পড়ছেন।
তিনি বলেন, “STFএর জাভেদ শামিম, IB-র বিনীত গোয়েল, শমীক ভট্টাচার্য, শুভেন্দু অধিকারী থেকে শুরু করে মণ্ডল স্তরের বিজেপি নেতাদের ফোন-লোকেশন ট্র্যাক করছে, আমাদের কাছেও পাল্টা তথ্য প্রমাণ রয়েছে।” এই ঘটনাকে তিনি “নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সরাসরি হস্তক্ষেপ” বলে উল্লেখ করেন এবং অবিলম্বে তদন্তের দাবি জানান।

কমিশনের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ (Suvendu Shamik complaint)
শুধু নজরদারি নয়, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। শুভেন্দুর অভিযোগ, কমিশনের তরফে জারি হওয়া একাধিক নির্দেশ কার্যকর করা হচ্ছে না বা আংশিকভাবে পালন করা হচ্ছে। ডিরেক্টর অফ সিকিউরিটি মনোজ ভর্মার ভূমিকা নিয়েও সরব হন তিনি। তাঁর দাবি, সাধারণ মানুষের চলাচলে বাধা সৃষ্টি হলেও শাসকদলের নেতাদের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক শিথিলতা বজায় রাখা হচ্ছে। এছাড়া জঙ্গিপুরের পুলিশ সুপার মেহেদি হাসান এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের এসপি পলাশ ঢালির বিরুদ্ধেও কমিশনের কাজে হস্তক্ষেপের অভিযোগ তোলা হয়েছে।

মমতার বক্তব্য ঘিরে চাপানউতোর (Suvendu Shamik complaint)
অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক নির্বাচনী ভাষণ নিয়েও সরব হয়েছে বিজেপি। শুভেন্দুর দাবি, ময়নাগুড়ির সভায় মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন, যা নির্বাচনী আচরণবিধির পরিপন্থী। পাশাপাশি, প্রার্থী রামমোহন রায়ের হাত উঁচু করিয়ে মমতা বলেন, “আমার প্রার্থীকে বলে দিয়ে গিয়েছে, ওকে নাকি গাছে বেঁধে পেটাবে। আমি বলছি, এসব করতে যেও না। নির্বাচনের পরে পোস্টার লাগিয়ে বলতে হবে, আমি বিজেপি করি না।”

মনোজ আগরওয়ালের কাছে অভিযোগপত্র (Suvendu Shamik complaint)
এই অভিযোগের ভিত্তিতে ভাষণের ভিডিও ক্লিপ ও তথ্যপ্রমাণ পেনড্রাইভে করে সোমবারই সুকান্ত মজুমদার, দিল্লিতে নির্বাচন সদরে নালিশ করে এসেছেন। বিজেপির দাবি, অতীতে অন্যান্য নেতাদের ক্ষেত্রে যেমন প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে, তেমনই মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষেত্রেও সমান ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
Election Commission: বাদ পড়ল ৮০ লক্ষ নাম! | Bengal Liberty
👉 https://t.co/nslQiwhchq#ElectionCommission #WestBengalElection #electionnews #BengalLiberty pic.twitter.com/1IALP4NUny— Bengal Liberty (@bengalliberty1) March 31, 2026
শুভেন্দুর কথায়, “আমরা বিগত দিনে দেখেছি, রাহুল সিনহা থেকে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়, সকলের বক্তব্যের মিস কোট করে তৃণমূল অভিযোগ করলেই কাউকে ৩ দিন, ২ দিন ১ দিন নির্বাচন প্রচারে ব্যান করা হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেন করা হবে না?” এই মর্মেই আজ, মঙ্গলবার তাঁরা মনোজ আগরওয়ালের কাছে দাবিপত্র রেখেছেন বলে জানান।
