TMC councillor FIR
Bengal Liberty, ১ এপ্রিল :
সিইও দফতর চত্বরে মঙ্গলের অশান্তির রেশ কাটতে না কাটতেই বুধে অশান্তির আশঙ্কায় পূর্ব প্রস্তুতি জোরদার করা হল। টানা বিক্ষোভে রাতভর উত্তপ্ত ছিল CEO দফতর (TMC protest in front of CEO office)। দিনে বিজেপি ও তৃণমূল কর্মীদের সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গভীর রাতে মোতায়েন করা হয় কেন্দ্রীয় বাহিনী। আজ, বুধবার সিইও দফতরের সামনে আরও জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা বলয়। সারা রাত সিইও দফতরের সামনে অবস্থান বিক্ষোভে অনড় থাকেন তৃণমূল কর্মীরা, ওঠে কমিশন বিরোধী স্লোগান। অবৈধভাবে ফর্ম জমা পড়া ঠেকানোর দাবিতে এই অবস্থান ঘিরে উত্তেজনা আরও বাড়ে (TMC protest in front of CEO office)। এরই মধ্যে বুধবার সকালে কমিশনের তরফে কড়া বার্তা- “এই ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ বরদাস্ত করা হবে না।”

দিনভর বিক্ষোভের পর রাতেও উত্তেজনা (TMC protest in front of CEO office)
মঙ্গলবার দুপুর থেকেই সিইও দফতরের সামনে উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করে। তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপির পক্ষ থেকে অবৈধভাবে ফর্ম ৬ জমা দিয়ে ভোটার তালিকায় বাইরের রাজ্যের মানুষের নাম তোলার চেষ্টা চলছে। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের কর্মীদের মধ্যে বচসা, ধাক্কাধাক্কি ও অশান্তির পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় ১৬৩ ধারা জারি করা হলেও তা কার্যত অগ্রাহ্য করেই রাতেই বিপুল সংখ্যক তৃণমূল কর্মী জমায়েত করেন। পুলিশের সঙ্গে অবস্থানকারীদের একাধিকবার বাগবিতণ্ডা হয়। পরে কিছুটা সরে গেলেও পুরোপুরি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি এবং রাতভর বিক্ষোভ জারি থাকে।

সিইও-সিপি বৈঠক ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন (TMC protest in front of CEO office)
অশান্ত পরিস্থিতির জেরে রাতে প্রশাসনিক তৎপরতা চরমে পৌঁছায়। সিইও দফতরে পৌঁছন কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় কুমার নন্দ, সঙ্গে ছিলেন একাধিক শীর্ষ পুলিশ আধিকারিক। সিইও মনোজকুমার আগরওয়ালের সঙ্গে প্রায় দেড় ঘণ্টার বৈঠকে পরিস্থিতির সামগ্রিক পর্যালোচনা করা হয়।
বৈঠকের পর পুলিশ কমিশনার হেয়ার স্ট্রিট থানার আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলে জমায়েত ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার খোঁজখবর নেন। একই সঙ্গে রাতে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয় কেন্দ্রীয় বাহিনী। রাত প্রায় ১.৩০ নাগাদ দফতর থেকে বেরিয়ে যান সিইও।
বর্তমানে সিইও অফিস চত্বর ও সংলগ্ন স্ট্যান্ড রোড জুড়ে কড়া নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে।

ধর্নায় অনড় তৃণমূল, সাত সকালে কমিশনের কড়া হুঁশিয়ারি (TMC protest in front of CEO office)
রাতভর সিইও দফতরের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ চালিয়ে যান তৃণমূল কর্মীরা। তাঁদের দাবি, রাজ্যের বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দিয়ে বাইরের রাজ্যের মানুষের নাম তোলার চেষ্টা চলছে। সেই কারণেই অবৈধভাবে ফর্ম ৬ জমা পড়া আটকাতে এবং দফতর থেকে কোনও নথি বাইরে যেতে না দিতে তাঁরা অবস্থান করছেন।
Councillor Beleghata with some hooligans gheraoed the office of CEO and shouted slogans at the dead of night. Such anti social activities will not be tolerated and law will take its own course. ECI will leave no stone unturned to ensure free and fair assembly elections.@ECISVEEP pic.twitter.com/MURAIs5lqy
— CEO West Bengal (@CEOWestBengal) April 1, 2026
এই পরিস্থিতির মধ্যে বুধবার সকালে সিইও দফতরের তরফে কড়া বার্তা দেওয়া হয়। এক্স (X) হ্যান্ডলে একটি ভিডিও পোস্ট করে জানানো হয়, গভীর রাতে দফতর ঘেরাও করে স্লোগান দেওয়া অসামাজিক কার্যকলাপ, যা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। সিইও দফতর লিখেছে, “বেলেঘাটার কাউন্সিলর দুষ্কৃতীদের নিয়ে গভীর রাতে সিইওর অফিস ঘেরাও করে স্লোগান দেন। এ ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ বরদাস্ত করা হবে না এবং আইন নিজের পথে চলবে। অবাধ ও সুষ্ঠু বিধানসভা নির্বাচন নিশ্চিত করতে কোনও ত্রুটি রাখবে না নির্বাচন কমিশন।”
