kedarnath temple open
Bengal liberty desk, 22 এপ্রিল :
আজ ২২ এপ্রিল, বুধবার। দীর্ঘ ৬ মাসের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ভক্তদের জন্য খুলে গেল বাবা কেদারনাথের মন্দিরের দরজা। হিমালয়ের তীব্র শীত উপেক্ষা করেই হাজার হাজার ভক্ত আজ সাক্ষী থাকলেন এই পবিত্র মুহূর্তের। ‘বম বম ভোলে’ আর ‘জয় বাবা কেদার’ ধ্বনিতে ভোরেই কেঁপে ওঠে কেদারপুরী।

ফুলে ফুলে ঢাকা মন্দির, মোদির নামে প্রথম পুজো :
এবারের মন্দির সজ্জা ছিল দেখার মতো। প্রায় ৫১ কুইন্টাল গাঁদা ফুল দিয়ে অপূর্ব সাজে সাজানো হয়েছে পুরো মন্দির চত্বর। সকাল ৮টা নাগাদ বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে মন্দিরের প্রধান ফটক খোলা হয়। উপস্থিত ছিলেন উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি। প্রথা মেনে মন্দিরের প্রথম পুজোটি করা হয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নামে। এরপর মুখ্যমন্ত্রী বাবা কেদারের কাছে দেশ ও রাজ্যের মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা করেন। আকাশ থেকে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে মন্দিরের ওপর পুষ্পবৃষ্টি করা হয়, যা দেখে মুগ্ধ হন ভক্তরা।

পাণ্ডবদের হাতে তৈরি মন্দির ও পঞ্চকেদারের রহস্য :
কেদারনাথ মন্দিরকে ঘিরে রয়েছে অনেক অজানা রহস্য। মনে করা হয়, কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের পর ব্রহ্মহত্যার পাপ থেকে মুক্তি পেতে পাণ্ডবরা মহাদেবের খোঁজে এখানে এসেছিলেন। তাঁদের দেখে মহাদেব যখন ষাঁড়ের রূপ ধরেন, তখন ভীম তাঁকে চিনতে পেরে জাপ্টে ধরেন। সেই ষাঁড়ের কুঁজটিই এখানে ত্রিকোণাকার শিবলিঙ্গ হিসেবে পূজিত হয়। এটি মহাদেবের দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের অন্যতম এবং পঞ্চকেদারের মধ্যে প্রধান। এখানকার শিবলিঙ্গ ‘স্বয়ম্ভূ’, অর্থাৎ এটি নিজে থেকেই সৃষ্টি হয়েছে।

৪০০ বছরের তুষার সমাধি আর অবাক করা ইতিহাস :
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ থেকে সপ্তদশ শতাব্দী পর্যন্ত প্রায় ৪০০ বছর এই মন্দির সম্পূর্ণ বরফের নিচে চাপা পড়েছিল। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, পাহাড়প্রমাণ বরফের চাপে থাকলেও মন্দিরের মূল কাঠামোর বিন্দুমাত্র ক্ষতি হয়নি। লোককথা অনুযায়ী, কলিযুগের শেষে কেদারনাথ ও বদ্রীনাথ পাহাড়ের আড়ালে অদৃশ্য হয়ে যাবে এবং নতুন তীর্থক্ষেত্র হিসেবে ‘ভবিষ্য বদ্রী’র জন্ম হবে।

ভক্তদের জন্য কিছু জরুরি তথ্য :
কঠিন পদযাত্রা,গৌরিকুণ্ড থেকে প্রায় ১৬-১৮ কিলোমিটার পাহাড়ি পথ হেঁটে কেদারনাথে পৌঁছাতে হয়। তাছাড়া রয়েছে হেলিকপ্টার পরিষেবা, যারা হাঁটতে পারবেন না, তারা আইআরসিটিসি (IRCTC)-র পোর্টাল থেকে হেলিকপ্টার বুক করতে পারেন। তবে এবারে একটু কড়া নিয়ম, এবার মন্দির চত্বরে মোবাইল ফোন বা ক্যামেরা নিয়ে ঢোকা এবং ছবি তোলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক। উত্তরাখণ্ড সরকারের অ্যাপ বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে যাত্রার জন্য রেজিস্ট্রেশন করা এখন মাস্ট।

প্রধানমন্ত্রী মোদি এই শুভ দিনে ভক্তদের জন্য শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং উত্তরাখণ্ডের পাহাড় ও প্রকৃতিকে পরিচ্ছন্ন রাখার শপথ নিতে অনুরোধ করেছেন। আজ থেকে আগামী ৬ মাস খোলা থাকবে এই ধাম। হিমালয়ের দুর্গম পথে বাবার আশীর্বাদ নিতে শুরু হয়ে গেল এক স্বর্গীয় যাত্রা।
আরও পড়ুন : কলকাতা কি কার্যত যুদ্ধক্ষেত্র? প্রথম দফার ভোটে শহরজুড়ে ২২ হাজার আধাসেনা, রাস্তায় ১০ হাজার পুলিশ!
