CM security
Bengal Liberty, ৫ মে:
সময় বড়ই বলবান। গত এক দশক ধরে যে হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট ছিল সাধারণ মানুষের জন্য একপ্রকার ‘নিষিদ্ধ এলাকা’, আজ সেখানে পরিবর্তনের হাওয়া (CM security)। দুই শতাধিক আসন নিয়ে রাজ্যে বিজেপির বিপুল জয়ের পর তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইস্তফা এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। আর সেই মাহেন্দ্রক্ষণ ঘনিয়ে আসতেই সকালেই দেখা গেল এক দৃশ্য, মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনের সেই দুর্ভেদ্য গার্ডরেল ও ব্যারিকেড একে একে সরিয়ে ফেলছে পুলিশ।

মুক্ত হলো পৈতৃক ভিটের রাস্তা CM security
৩০বি, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট মমতার এই পৈতৃক বাড়িকে কেন্দ্র করে এক সময় গড়ে উঠেছিল নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয়। বিশেষ করে ২০১৬ সালের পর থেকে এই রাস্তাটিকে কার্যত সাধারণ মানুষের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দা হলেও সেখানে ঢুকতে গেলে পুলিশের হাজারো জেরার মুখে পড়তে হতো। কিন্তু আজ সেই চেনা ছবিটা উধাও। মেইন রোড থেকে ঢোকার মুখে থাকা সেই বিশালাকার গার্ডরেলগুলি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এখন সাধারণ মানুষও অবাধে ওই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে পারছেন।

ভবানীপুরে লজ্জাজনক হার
রাজনৈতিক মহলের মতে, খাস নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরে ১৫ হাজার ভোটে হার মমতার জন্য সবচেয়ে বড় অপমান। যে পাড়ার অলিগলিতে তাঁর বেড়ে ওঠা, সেই এলাকার মানুষই তাঁকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। ‘ঘরের মেয়ে’ তকমা যে স্রেফ নির্বাচনী গিমিক ছিল, ভবানীপুরের ফল তা প্রমাণ করে দিয়েছে। ক্ষমতার দম্ভ চূর্ণ হওয়ার সাথে সাথেই তাঁর বাড়ির নিরাপত্তার আতিশয্য কমতে শুরু করেছে।

নিরাপত্তা নিয়ে সেই পুরনো বিতর্ক
মুখ্যমন্ত্রীর এই বাড়িতে এর আগে একাধিকবার রহস্যময় ব্যক্তির ঢুকে পড়ার ঘটনা নিয়ে নাটক কম হয়নি। কখনও অস্ত্র নিয়ে ঢোকার অভিযোগ, আবার কখনও সিসিটিভির মুখ ঘুরিয়ে দেওয়ার ঘটনা। সমালোচকদের মতে, এগুলো ছিল সহানুভূতি কুড়ানোর সস্তা কৌশল। অথচ এই নিরাপত্তার নামেই সাধারণ মানুষের যাতায়াতের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল দীর্ঘকাল।
তৃণমূলের অন্দরে এখন কান পাতলে শুধু হাহাকার শোনা যাচ্ছে। অন্যদিকে, সোনার বাংলার পথে এগোতে থাকা বিজেপির নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের তোড়জোড় শুরু হতেই মমতার বাড়ির সামনের এই পরিস্থিতি এক বিশাল রাজনৈতিক পতনের সাক্ষী হয়ে রইল।
