LEAPS and BOUNDS
Bengal Liberty, ১৭ মে :
আরজি কর কাণ্ডের পর এবার কি তবে ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ ফাইল খোলার পালা? রবিবার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তির খতিয়ান নিয়ে এভাবেই সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। (LEAPS and BOUNDS)
গতকাল ফলতার জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করে ‘ভাইপোবাবু’ সম্বোধনে আক্রমণ শানান,শুভেন্দু তিনি বলেন, ‘চিরকাল কাহারো সমান নাহি যায়’। তাঁর দাবি, কলকাতা পুরসভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংস্থা ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর সম্পত্তির তালিকা তাঁর হাতে এসেছে। শুভেন্দু বলেন, “মাননীয় ভাইপোবাবু, আপনার লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের ২৪টি সম্পত্তি কলকাতায়। আমতলায় প্রাসাদের মতো অফিস! কী করেছেন আপনারা? সব হিসাব এবার হবে।”

রাডারে লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস ও নিয়োগ দুর্নীতি (LEAPS and BOUNDS)
উল্লেখ্য, নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্ত চলাকালীন ইডি (ED) একাধিকবার ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ সংস্থার নাম উল্লেখ করেছে। কেন্দ্রীয় সংস্থার অভিযোগ ছিল, এই সংস্থার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে এবং কালো টাকা সাদা করা হয়েছে। যদিও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই অভিযোগ বারবার অস্বীকার করে এসেছেন। তবে শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ইনিংসেই যেভাবে পুরনো ফাইল খোলার ইঙ্গিত দিচ্ছেন, এবার মনেই হচ্ছে ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস এর ফাইল খুব শিঘ্রই খোলা হবে।
কেবল সম্পত্তি নয়, গত কয়েক বছরে পুলিশকে ব্যবহার করে বিরোধীদের ওপর যে ‘অত্যাচার’ চালানো হয়েছে, তা নিয়েও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। ডায়মন্ড হারবার পুলিশকে কড়া বার্তা দিয়ে শুভেন্দু বলেন, “ডায়মন্ড হারবারের পুলিশদের বলেছি, কল রেকর্ডস ও হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট জমা দিতে হবে। ভাইপোর পিএ-র কথায় যারা এই এলাকায় অশান্তি করেছেন, তাঁদের প্রত্যেককে খুঁজে বের করা হবে।”

কী এই ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ ও কী এর আসল কাজ?
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি অনুযায়ী, ২০০৯ সালে একটি পার্টনারশিপ ফার্ম হিসেবে জন্ম হয়েছিল ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর, যা পরবর্তীতে ২০১২ সালে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তরিত হয়। শুরুর দিকে এই সংস্থা মূলত কনসালটেন্সি সার্ভিস, শেয়ার ট্রেডিং এবং ব্র্যান্ডিংয়ের কাজ করত। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর ব্যবসার ধরণ বদলেছে এবং বর্তমানে এটি মিনারেল ওয়াটার উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাখরাহাটে এই সংস্থার একটি বিশাল জল প্যাকেজিং কারখানা রয়েছে, যার জমি ২০০১-০২ সাল নাগাদ কেনা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ।

পরবর্তীতে ২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে দাঁড়ানোর সময় অভিষেক এই সংস্থার ডিরেক্টর পদ থেকে ইস্তফা দিলেও তিনি সিইও (CEO) পদে আসীন থাকেন এবং তাঁর বাবা, মা ও স্ত্রী ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তবে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত শুরু হতেই এই সংস্থার নাম প্রথমবার বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে আসে। এবং তারপর থেকেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির রাডারে চলে আসে ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’। তদন্তকারীদের দাবি, এই সংস্থার মাধ্যমেই নিয়োগ দুর্নীতির কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে।
সব মিলিয়ে এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক মহলে,তবে কি এবার সরাসরি ফেঁসে যাবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়? শুভেন্দুর দাবি অনুযায়ী যদি এই ২৪টি সম্পত্তির নথিতে কোনো অসঙ্গতি ধরা পড়ে, তবে কি সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রের মতো অভিষেককেও ইডির হাতে গ্রেফতার হয়ে শ্রীঘরে যেতে হবে? নাকি আইনি পথে নিজেকে বাঁচিয়ে নিতে পারবেন ডায়মন্ড হারবারের বিদায়ী সাংসদ? এই টানাপড়েনের দিকেই এখন নজর গোটা রাজ্যের।
