Russia approves Relos agreement
Bengal Liberty: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এবং অপারেশন সিঁদুরের পরে প্রথমবার ভারত সফর আসছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন (Vladimir Putin)। ২৩তম ভারত-রাশিয়া বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে যোগদানের জন্য ৪-৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ভারতে থাকবেন পুতিন। তার আগে মঙ্গলবার ভারতের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক চুক্তিতে অনুমোদন দিয়ে রাখল রুশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ স্টেট ডুমা।
উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে দিল্লি এবং রাশিয়ার মধ্যে একটি চুক্তি হয়। মূলত দু’দেশের মধ্যে লজিস্টিক সাহায্যের আদানপ্রদানের জন্যই এই চুক্তি হয়। চুক্তির নাম ‘রেসিপ্রোকাল এক্সচেঞ্জ অফ লজিস্টিক সাপোর্ট’, সংক্ষেপে আরইএলওএস। দু’দেশের মধ্যে সামরিক সহযোগিতার দিক থেকে এই চুক্তিটি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। মঙ্গলবার তাতেই সবুজ সঙ্কেত দিয়েছেন নিম্নকক্ষ। স্টেট ডুমার স্পিকার ভ্যাচেস্লভ ভলোদিন বলেন, ভারতের সঙ্গে কৌশলগত এবং সার্বিক যে সম্পর্ক রয়েছে সেই সম্পর্কের তাঁরা কদর করেন। এই চুক্তির অনুমোদন পারস্পরিক সহযোগিতা এবং উভয়পক্ষের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে বলে তিনি মনে করছেন
বস্তুত, পুতিন এমন এক সময়ে দিল্লিতে আসছেন, যখন আমেরিকার সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক টানাপড়েন চলছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্টের বৈঠকে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হবে। বিশেষত পাকিস্তানকে সায়েস্তা করা ‘সুদর্শন চক্র’ এস-৪০০ নিয়ে নয়া চুক্তির বিষয়ে কথা হবে বলে জানা গিয়েছে। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ভারতকে যুদ্ধ সরঞ্জাম সরবরাহ করে আসছে রাশিয়া। এ অবস্থায় পুতিনের সফরের আগে রুশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে চুক্তিতে অনুমোদন যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।
আরইএলওএস (RELOS)চুক্তি (Russia approves Relos agreement)
এই চুক্তিতে রুশ সামরিক সরঞ্জাম, যুদ্ধজাহাজ এবং যুদ্ধবিমান রাশিয়া থেকে ভারতে সরবরাহের পদ্ধতিগত বিভিন্ন বিষয়ের উল্লেখ রয়েছে। তার সাথে ভারতের থেকেও সামরিক সহযোগিতার পদ্ধতিগত দিকও উল্লেখ রয়েছে চুক্তিতে। প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে এটি দু’দেশের মধ্যে একটি পারস্পরিক সহযোগিতার চুক্তি। দু’দেশের বাহিনীর যৌথ মহড়া, প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে সামরিক আরও বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয়ে উল্লেখ আছে চুক্তিতে। এই চুক্তির মূল অর্থ হল, রাশিয়ান এবং ভারতীয় জাহাজ এবং বিমান একে অপরের অঞ্চলে চলাচল করতে পারবে এবং সহজেই জ্বালানি, তেল, খুচরো যন্ত্রাংশ এবং রক্ষণাবেক্ষণে সাহায্য পেতে সক্ষম হবে।
পুতিনের সফরের আগে এমনই একটি সমঝোতা স্মারকে অনুমোদন দিয়েছে রুশ মন্ত্রিসভা। রাশিয়ার তরফে এই সমঝোতায় সই করবে রুশ পরমাণু শক্তি সংস্থা রোসাটম। নানা সমস্যা থাকা সত্ত্বেও এখনও পর্যন্ত রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল কেনা অব্যাহত রেখেছে ভারত। দিল্লি-মস্কো বাণিজ্যিক সম্পর্কের উপর ট্রাম্পের হুমকির প্রভাব যাতে মাথাচারা না দিতে পারে তা এই সফরে নিশ্চিত করতে চাইবেন পুতিন।
