Bengal Liberty : সিজেপির বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে মেট্রো স্টেশন বন্ধ, যান চলাচলে বিধিনিষেধ এবং ব্যাপক ধরপাকড়ের অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হওয়া মামলার শুনানি হল রবিবার। আদালত অবমাননা এবং বেআইনি আটক সংক্রান্ত দু’টি মামলায় জরুরি ভিত্তিতে শুনানি করে শীর্ষ আদালত। আগামী মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ফের এই মামলাগুলির শুনানি হবে। তার আগে কেন্দ্রীয় সরকারকে তাদের পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত লিখিত জবাব জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
শনিবার যন্তর মন্তরে সিজেপির অভিযানের ডাককে কেন্দ্র করে দিল্লিতে একাধিক বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। আন্দোলন প্রতিহত করা এবং যাতে কেউ তাতে যোগ দিতে না পারেন, সেই উদ্দেশ্যেই দিল্লিতে প্রায় ৪৫টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছিল বলে দাবি। পাশাপাশি, রেল ও সড়কপথে চলাচলের উপরেও বিধিনিষেধ জারি করে দিল্লি পুলিশ। সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী নির্দেশ অমান্য করেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করা হয়। পাশাপাশি, আটক ব্যক্তিদের অবস্থান না জানানো এবং আইনসম্মত পদ্ধতি অনুসরণ না করার অভিযোগে হেবিয়াস কর্পাসের আবেদনও জমা পড়ে।
আইনজীবীদের একাংশের অভিযোগ
শুনানিতে আইনজীবীদের একাংশের অভিযোগ, এই ঘটনায় প্রায় সাত হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে আন্দোলনে সরাসরি অংশ না নেওয়া ব্যক্তিরাও ছিলেন বলে দাবি করা হয়। আটক ব্যক্তিদের কোথায় রাখা হয়েছিল এবং কী পদ্ধতিতে তাঁদের আটক করা হয়েছিল, তা জানতে চায় আদালত।
আরও খবর
অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে সওয়াল করেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। হেবিয়াস কর্পাস মামলার জবাবে তিনি জানান, আটক ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে এই আবেদনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। মেট্রো পরিষেবা বন্ধের প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, দিল্লির মোট ৩০৩টি মেট্রো স্টেশনের মধ্যে ৪৫টি বন্ধ রাখা হয়েছিল। নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। শনিবার রাত ১০টার পর সমস্ত স্টেশন খুলে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে আদালত জানতে চায়, আগের নির্দেশে ৫৭টি স্টেশন বন্ধ রাখার কথা উল্লেখ থাকার পর কেন ৪৫টি স্টেশন বন্ধ করা হয়েছিল। শনিবার ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের আগে কীভাবে এবং কবে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছিল, সে বিষয়েও ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।
আইনজীবী কপিল সিব্বল নাগরিকদের স্বাধীনভাবে চলাফেরা এবং মতপ্রকাশের অধিকারের প্রসঙ্গ তোলেন। আদালত জানায়, সংবিধানের ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদে নাগরিকদের মৌলিক অধিকারের কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে জনশৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে যুক্তিসংগত বিধিনিষেধ আরোপের ব্যবস্থাও রয়েছে। আটক করার ক্ষেত্রে কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল এবং কী পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছিল, তা বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানায় আদালত।
ছুটির দিনেও জরুরি ভিত্তিতে শুনানি করে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করেছে, আগামী মঙ্গলবার মামলাগুলির পরবর্তী শুনানিতে কেন্দ্রীয় সরকারের বিস্তারিত জবাবের ভিত্তিতে বিষয়গুলি বিবেচনা করা হবে। এখন দেখার, কেন্দ্রের লিখিত জবাবে কী তথ্য উঠে আসে এবং পরবর্তী শুনানিতে কী অবস্থান নেয় শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী নির্দেশের দিকেই তাকিয়ে সংশ্লিষ্ট মহল।


