Bengal Liberty : কোথাও জোর করে জমি দখলের অভিযোগ, কোথাও আবার জমি জালিয়াতির জেরে দীর্ঘদিন ধরে হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। সোনারপুর উত্তর বিধানসভা এলাকার বিভিন্ন জায়গায় জমি সংক্রান্ত সমস্যায় ভুগছেন বহু বাসিন্দা। অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক দলের একাংশের মদতে অসাধু জমির কারবারিরা বেআইনিভাবে জমি দখল ও জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত থেকেছেন। এবার সেই সমস্ত ভুক্তভোগীর পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নিলেন সোনারপুর উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক দেবাশীষ ধর।
জমি সংক্রান্ত সমস্যায় ভুক্তভোগীদের নিয়ে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে অভিযোগকারীরা নিজেদের সমস্যার কথা সরাসরি বিধায়কের কাছে তুলে ধরেন। দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে জটিলতায় থাকা বাসিন্দাদের অনেকেই বিধায়কের হস্তক্ষেপে সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
তনুশ্রী হালদার নিয়োগী নামে এক গৃহবধূ জানান, গত দু’-তিন বছর ধরে তাঁরা জমি সংক্রান্ত সমস্যায় ভুগছেন। দীর্ঘদিনেও সমস্যার কোনও সুরাহা হয়নি। শেষ পর্যন্ত গোটা বিষয়টি বিধায়ক দেবাশীষ ধরকে জানিয়েছেন তাঁরা। তাঁর আশা, বিধায়কের উদ্যোগে এবার সমস্যার সমাধানের পথ খুলতে পারে। একইভাবে অনিতা নিয়োগী নামে আর এক বাসিন্দাও জমি সংক্রান্ত সমস্যার কথা বিধায়কের কাছে তুলে ধরেন। অভিযোগ জানানোর পর দীর্ঘদিনের সমস্যার সুরাহা হবে বলে আশাবাদী তিনিও।
আরও খবর

এদিকে, জমি দখল ও জালিয়াতির অভিযোগে কড়া অবস্থানের কথা জানিয়েছেন বিধায়ক দেবাশীষ ধর। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, সোনারপুর উত্তর বিধানসভা এলাকায় জমি মাফিয়াদের বাড়বাড়ন্ত কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। যাঁদের বিরুদ্ধে জোর করে জমি দখল কিংবা জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত করে পুলিশকে চার্জশিট জমা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
বিধায়কের দাবি, জমি সংক্রান্ত বহু মামলা দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে রয়েছে। ফলে ন্যায়বিচার পেতে সমস্যায় পড়ছেন ভুক্তভোগীরা। এই পরিস্থিতিতে পুলিশকে আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
দেবাশীষ ধর জানান, জনসংযোগ কর্মসূচিতে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে জমি জালিয়াতি ও বেআইনি দখলের একাধিক অভিযোগ পেয়েছেন তিনি। অনেকেই নিজেদের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সমস্যায় রয়েছেন। সেই কারণেই অভিযোগকারীদের একত্রিত করে তাঁদের সমস্যার কথা শোনা এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিধায়কের বক্তব্য, এলাকার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাঁদের ন্যায্য অধিকার ফিরে পেতে সাহায্য করা তাঁর দায়িত্ব। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বেআইনি কাজ করা হলে তা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। অসাধু জমির কারবারি ও সমাজবিরোধীদের জায়গা জেলে বলেও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন বিধায়ক।
তবে জমি দখল ও জালিয়াতির অভিযোগগুলির যথাযথ তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়াই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। জমির মালিকানা ও দখল সংক্রান্ত বিরোধের নিষ্পত্তি নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়ার উপর।
বিধায়ক দেবাশীষ ধরের এই উদ্যোগে নতুন করে আশার আলো দেখছেন অভিযোগকারী পরিবারগুলি। তবে শেষ পর্যন্ত কতজন নিজেদের জমির অধিকার ফিরে পাবেন, জমি দখল ও জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং দীর্ঘদিনের জমি সংক্রান্ত জটিলতার কতটা সমাধান হবে, সেদিকেই এখন নজর সোনারপুর উত্তর বিধানসভা এলাকার ভুক্তভোগী বাসিন্দাদের।


