Bengal Liberty : কলামিস্ট: প্রাইমা হোসেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মেরিল্যান্ড স্টেট আওয়ামী লীগের সংগ্রামী সহ-সভাপতি বিশিষ্ট সমাজ সেবিকা ও সংগঠক.
বাংলাদেশের রাজনীতিতে আজ এক অদ্ভুত দৃশ্য। যে বিএনপি এতদিন গণতন্ত্রের বুলি আউড়েছে, ক্ষমতায় আসার আগেই তাদের ভেতরে শুরু হয়েছে গৃহদাহ। কেন্দ্র থেকে তৃণমূল, সর্বত্র একটাই চিত্র – কোন্দল, মারামারি, ভাগ-বাটোয়ারা, লুটপাট আর চাঁদাবাজি।
ক্ষমতার স্বাদ না পেতেই যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে ক্ষমতা পেলে দেশের কি হবে? এই প্রশ্ন আজ ১৮ কোটি মানুষের। সাজানো নির্বাচন করে বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে কি করছে ৮ মাসে তা দেশবাসীর দেখতে পেয়েছেন এবং সার্বিক দিক বিবেচনা করছেন সর্বস্তরের জনগণ। দেশকে ধ্বংস করে দিয়েছে। রাষ্ট্রীয় যন্ত্রকে শেষ করে দিয়েছে এমন কোন কাজ নেই তারা করেনি যে। দেশকে বিক্রি করে দিয়েছে, দেশের মানুষের স্বার্থকে বিক্রি করে নিজেদের সাম্রাজ্য পাহাড় তৈরি করেছে। এদের হাতে দেশ নিরাপদ নয়। তাই শান্তিপ্রিয় জনগণ বলছে এই জায়গা থেকে দ্রুত বাহির হয়ে আসতে হবে দেশকে রক্ষা করতে হবে।
আরও খবর
সারাদেশে বিএনপিতে গৃহদাহ
৫ আগস্টের পর থেকে সারাদেশে বিএনপির একটি অংশ যেন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। ঢাকা থেকে শুরু করে চট্টগ্রাম, সিলেট থেকে ঠাকুরগাঁও – কোথাও বাদ নেই।
এক গ্রুপ আরেক গ্রুপকে বলছে বহিরাগত, আরেক গ্রুপ বলছে ত্যাগী। পদ-পদবী নিয়ে প্রকাশ্যে মারামারি, ফেসবুকে পাল্টাপাল্টি স্ট্যাটাস, অফিস দখল, মাইক ভাঙচুর – এ যেন নিত্যদিনের ঘটনা। গত কয়েক মাসে শুধু নিজেদের কোন্দলে বিএনপির ৩০০ জনের বেশি নেতাকর্মী খুন হয়েছেন, আহত হয়েছেন শত শত।
সমাজের সাধারণ মানুষ বলছে, “এরা নিজেরাই নিজেদের সামলাতে পারে না, এরা দেশ সামলাবে কিভাবে?”
লুটপাট আর চাঁদাবাজির আখড়া
সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র হলো চাঁদাবাজি। সারাদেশে এখন এক আতঙ্কের নাম – বিএনপির চাঁদাবাজি আর জামাত শিবির হুজুরের বলৎকার নারী নির্যাতন শিশু ধর্ষণ মাদ্রাসায় বিস্ফোরণ চলমান রয়েছে।
বাসস্ট্যান্ড, টেম্পুস্ট্যান্ড, হাট-বাজার, ফুটপাত, বালুর মহাল, পাথরের মহাল, ট্রাক-লরি থেকে শুরু করে সবজি বিক্রেতা পর্যন্ত – কেউ রেহাই পাচ্ছে না।
একজন রিকশাচালক সকালে ১০০ টাকা চাঁদা না দিলে রিকশা চালাতে পারে না। একজন দোকানদার দোকান খুলতে পারে না চাঁদা ছাড়া। এমনকি মসজিদ-মন্দিরের অনুদান থেকেও চাঁদা দাবি করার অভিযোগ উঠছে।
সমাজের বিবেকবান মানুষরা বলছেন, আওয়ামী লীগের আমলে উন্নয়ন ছিল, শৃঙ্খলা ছিল। এখন শুধু লুটপাট। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল করে সেখানে বিএনপির নামে ব্যানার টানানো হচ্ছে। এটাই কি তাদের গণতন্ত্র?
দেশ কি স্বাধীনতার বিরোধীদের হাতে চলে গেল?
এই প্রশ্নটা আজ খুব প্রাসঙ্গিক। মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশে আজ প্রকাশ্যে রাজাকারের স্লোগান হচ্ছে। যারা একসময় পাকিস্তানের পক্ষে ছিল, যারা জয় বাংলা শুনলে গা জ্বলত, আজ তারাই বিএনপির ছত্রছায়ায় বড় বড় পদে।
জামায়াত-শিবির, হেফাজত, উগ্র মৌলবাদী গোষ্ঠী – সবাই এখন বিএনপির মিত্র। শাহবাগে জয় বাংলা বললে মামলা হয়, আর রাজাকারের নাতি-পুতিরা শহীদ মিনারে ফুল দেয় – এ কোন বাংলাদেশ?
মুক্তিযোদ্ধারা কাঁদছেন। তারা বলছেন, “৩০ লাখ শহীদের রক্ত দিয়ে যে দেশ স্বাধীন করলাম, সেই দেশ আজ স্বাধীনতা বিরোধীদের হাতে জিম্মি।”
কেমন হলো ঠাকুরগাঁওয়ের উপনির্বাচন? দেশবাসী সারাদিনই নাটক দেখেছেন
ঠাকুরগাঁওয়ের উপনির্বাচন ছিল বিএনপির গণতন্ত্রের আসল চেহারা দেখার একটি নমুনা মাত্র। সারাদিন দেশবাসী যে নাটক দেখেছেন, তা গণতন্ত্রের জন্য লজ্জার।
সকালে ভোট শুরু হওয়ার আগেই ব্যালট বাক্স ভর্তি, দুপুরে প্রতিপক্ষের এজেন্টদের বের করে দেওয়া, বিকেলে প্রকাশ্যে সিল মারা, আর সন্ধ্যায় ফলাফল ঘোষণার আগেই মিষ্টি বিতরণ – এটাই ছিল ঠাকুরগাঁওয়ের চিত্র।
নিজ দলের ভেতরেই দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ভোটকেন্দ্রে গুলি, ককটেল বিস্ফোরণ। সাধারণ ভোটাররা ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যাননি। যে ২০% ভোট পড়েছে, তার ৮০% ভুয়া।
গণতন্ত্র প্রিয় মানুষ বলছে, “এরা বিরোধী দলে থাকতেই নির্বাচন করতে জানে না, ক্ষমতায় গেলে এরা কি নির্বাচন করবে? এরা তো ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির মতো একতরফা নির্বাচন করবে।”
আজ সমাজের প্রতিটি স্তরে একটাই আলোচনা – আমরা কি ভুল করলাম? শেখ হাসিনার আমলে আমরা নিরাপদ ছিলাম, উন্নয়ন ছিল, রাতে শান্তিতে ঘুমাতে পারতাম। আজ চাঁদাবাজের ভয়ে ঘুম হারাম।
বিএনপির এই গৃহদাহ, এই লুটপাট, এই চাঁদাবাজি প্রমাণ করে – দলটি এখনো ক্ষমতার যোগ্য হয়নি। দেশকে যদি বাঁচাতে হয়, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে যদি বাঁচাতে হয়, তাহলে আওয়ামী লীগের কোনো বিকল্প নেই।
কারণ আওয়ামী লীগ মানে উন্নয়ন, আওয়ামী লীগ মানে শান্তি, আওয়ামী লীগ মানে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ।


