Bengal Liberty : ভারতীয় সেনাবাহিনীর অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ। এই ঘটনায় উত্তরবঙ্গের হাসিমারা সেনা ছাউনি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে এক সেনা জওয়ানকে। ধৃতের নাম রাজবীর সিং। তিনি পঞ্জাবের তরনতারন জেলার রসুলপুর গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে হাসিমারায় ১৫ জম্মু অ্যান্ড কাশ্মীর রাইফেলসের অধীনে কর্মরত ছিলেন তিনি। পঞ্জাব পুলিশের স্টেট স্পেশাল অপারেশন সেল তাঁকে গ্রেফতার করেছে। শুক্রবার শিলিগুড়ির আদালতে পেশ করা হলে তাঁর দু’দিনের ট্রানজিট রিমান্ড মঞ্জুর হয়। এই ঘটনায় সেনা মহল ও উত্তরবঙ্গের গোয়েন্দা বিভাগে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
কীভাবে চলত নেটওয়ার্ক?
পুলিশ সূত্রে খবর, এই ঘটনায় গত ৮ অক্টোবর পঞ্জাবের ফাজিলকা স্পেশাল অপারেশন সেল থানায় মামলা দায়ের হয়। ভারতীয় অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট, ১৯২৩-এর ৩ ও ৪ নম্বর ধারায় এফআইআর করা হয়েছে। এই মামলায় রাজবীর সিং ছাড়াও দিলপ্রীত সিং এবং গুরনূর সিধু নামে এক মহিলার নাম রয়েছে।তদন্তকারীদের অভিযোগ, গুরনূর সিধুর মাধ্যমে সেনা ছাউনি এবং সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ গতিবিধি সংক্রান্ত গোপন তথ্য পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ও আইএসআইয়ের কাছে পাঠানো হত। এর আগে গুরনূরকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। তাঁর কাছ থেকে একটি ট্যাবলেট এবং দু’টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। অভিযোগ, ওই ডিভাইসগুলি ব্যবহার করেই সংবেদনশীল তথ্য পাচার করা হত। এমনকী, এই কাজে মাঝেমধ্যে হানিট্র্যাপেরও আশ্রয় নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি তদন্তকারীদের।
শিলিগুড়ির আদালতে পেশ রাজবীরকে
গ্রেফতারের পর রাজবীরকে পঞ্জাবের ফাজিলকা আদালতে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাগডোগরা বিমানবন্দরে বিমানের প্রযুক্তিগত ত্রুটি দেখা দেওয়ায় নির্ধারিত সময়ে তাঁকে পঞ্জাবে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী, গ্রেফতারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তকে সংশ্লিষ্ট আদালতে পেশ করতে হয়। সেই কারণেই শুক্রবার তাঁকে শিলিগুড়ির অতিরিক্ত মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পেশ করা হয়। আদালত দু’দিনের ট্রানজিট রিমান্ড মঞ্জুর করেছে।আগামী ১ নভেম্বর রাজবীরকে ফাজিলকা আদালতে পেশ করার কথা রয়েছে। অন্যদিকে, এই তথ্য পাচার চক্রের সঙ্গে আরও কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখছে পঞ্জাব পুলিশ। সেনাবাহিনীর নিরাপত্তা সংক্রান্ত এত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য কীভাবে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার কাছে পৌঁছল, তা নিয়েও তদন্ত চলছে।


