Sheikh Hasina
Sheikh Hasina

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগ করেছিলেন রাষ্ট্রীয় সম্মানে

Bengal Liberty : কলামিস্ট: নয়ন বিশ্বাস রকি সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও সমাজসেবক, মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের কর্মী.

বাংলাদেশের ইতিহাসে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট একটি ঐতিহাসিক দিন হিসেবে লিপিবদ্ধ থাকবে। এই দিনে বঙ্গবন্ধু কন্যা, বাংলাদেশের ৫ বারের নির্বাচিত সফল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগ করেছিলেন, কিন্তু তা কোনো পলায়ন ছিল না। এটি ছিল রাষ্ট্রীয় সম্মানে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ নিরাপত্তায় একটি রাষ্ট্রীয় সফর।

তথাকথিত কিছু রাজনৈতিক দল ও স্বার্থান্বেষী মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে যে “শেখ হাসিনা পালিয়েছে”। এই শব্দটি সম্পূর্ণ ভুল, মিথ্যাচার এবং ইতিহাস বিকৃতি ছাড়া আর কিছুই নয়। একজন বৈধ প্রধানমন্ত্রী কখনো পালাতে পারেন না।

সত্যটা কী? সত্যটা হলো, দেশের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং একটি বৃহৎ রক্তপাত এড়াতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিজেই তাঁকে নিরাপদে স্থানান্তরের দায়িত্ব নিয়েছিল। সেদিন তাঁকে বহন করেছিল বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি বিশেষ বিমান। এটি ছিল রাষ্ট্রীয় প্রটোকল। কোনো পলাতক আসামিকে সেনাবাহিনী গার্ড অব অনার দিয়ে বিমানে তুলে দেয় না।

এবং অপর প্রান্তে ভারত তাঁকে গ্রহণ করেছিল কীভাবে? ভারত তাঁকে গ্রহণ করেছিল একজন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে, রাষ্ট্রীয় সম্মানের সঙ্গে। দিল্লির হিন্দন এয়ারবেসে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল নিজে তাঁকে রিসিভ করেছিলেন। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ভারতীয় পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন,

“শেখ হাসিনা অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে ভারতে এসেছেন।” কোনো দেশ একজন পলাতক ব্যক্তিকে এভাবে রাষ্ট্রীয় অতিথি হিসেবে গ্রহণ করে না। এটি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক শিষ্টাচারের অংশ।আজ প্রমাণিত হচ্ছে, শেখ হাসিনাই ছিলেন দেশের সার্বভৌমত্ব ও অস্তিত্ব রক্ষার প্রতীক। তাঁর অনুপস্থিতিতে দেশ আজ কোন পথে?

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়ে চলেছে। এটি কোনো আবেগের কথা নয়, এটি বাস্তবতা। গ্রামে-গঞ্জে, হাটে-বাজারে, চায়ের দোকানে মানুষ আজ একটাই কথা বলছে – “আগেই ভালো ছিলাম”। মানুষ আজ বুঝে গেছে, শেখ হাসিনা ছিলেন বলেই দেশ নিরাপদ ছিল, উন্নয়ন ছিল, শান্তি ছিল। তাই আজ তিনি জনগণের কাছে আরও বেশি প্রাসঙ্গিক এবং বিনয়ী নেত্রী হিসেবে ফিরে এসেছেন। তিনি এখন শুধু আওয়ামী লীগের নেত্রী নন, তিনি ১৮ কোটি মানুষের আশ্রয়ের প্রতীক।

এই বাস্তবতায় বিএনপির জন্য সবচেয়ে মঙ্গলজনক পথ কোনটি?

বিএনপির জন্য সবচেয়ে মঙ্গল হবে, আওয়ামী লীগের উপর আরোপিত অবৈধ রাজনৈতিক কার্যক্রমের নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে প্রত্যাহার করে স্বাভাবিক রাজনৈতিক কার্যক্রমের সুযোগ করে দেওয়া। গণতন্ত্রের ভাষা হলো সহাবস্থান। আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশে কখনো গণতন্ত্র, নির্বাচন বা স্থিতিশীলতা আসবে না। আওয়ামী লীগ এদেশের ৬৫% মানুষের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন, যার জন্ম বাংলাদেশের জন্মের সঙ্গে জড়িত।

ইতিহাস সাক্ষী, নিষিদ্ধ করে, দমন-পীড়ন করে কোনো আদর্শকে শেষ করা যায় না। বরং তা আরও শক্তিশালী হয়। আজ আওয়ামী লীগের লাখ লাখ নেতাকর্মী জেলে, বাড়িঘর ছাড়া, তবুও তারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ছাড়েনি।

তাই বিএনপিকে মনে রাখতে হবে, প্রতিহিংসার রাজনীতি করে ক্ষমতায় টিকে থাকা যায় না। যদি তারা আওয়ামী লীগকে তার স্বাভাবিক রাজনৈতিক অধিকার ফিরিয়ে না দেয়, যদি তারা এই অবৈধ নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখে, তাহলে এর পরিণতি ভয়ংকর হবে। এর দায়ভার বিএনপিকেই ভোগ করতে হবে। জনগণের আদালতে তাদের বিচার হবে। ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না। ৫ আগস্টের সত্যকে বিকৃত করে সাময়িক উল্লাস করা যায়, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে সত্যের জয় হবেই।

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।

Pushpak Bhattacharya
পুষ্পক ভট্টাচার্য

পুষ্পক ভট্টাচার্য একজন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করার পর ২০২৬-এ Bengal Liberty-তে সাংবাদিক হিসেবে তাঁর পেশাগত যাত্রা শুরু হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদ এবং ক্রীড়া সাংবাদিকতার প্রতি বিশেষ আগ্রহ। দেশ-বিদেশের সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ, আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং খেলাধুলার নানা বিষযয়ের প্রতি বিশেষ ঝোঁক। ব্যস্ততার বাইরে বই ও সিনেমা সঙ্গী।