Bangladesh News
Bangladesh News

শ্রমিকের রক্তে রঞ্জিত শিল্পাঞ্চল: বেতন বৃদ্ধির শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশের গুলি, নিহত ১, আহত ১০, গ্রেফতার ১০০

Bengal Liberty : কলামিস্ট: নয়ন বিশ্বাস রকি সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও সমাজসেবক মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের কর্মী.

দেশের অর্থনীতির প্রাণ, পোশাক শিল্পের চালিকাশক্তি সাধারণ শ্রমিকরা আজ দিশেহারা। চাল, ডাল, তেল, বাসা ভাড়া, সন্তানের স্কুলের বেতন – সবকিছুর দাম যখন আকাশছোঁয়া, তখন মাস শেষে তাদের বেতন বাড়ে না। সেই বেতন বৃদ্ধির ন্যায্য দাবিতে আয়োজিত শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশের বর্বরোচিত হামলায় রক্তাক্ত হয়েছে আশুলিয়া, মিরপুর ও গাজীপুরের শিল্পাঞ্চল।

কি ঘটেছে আজ?

প্রত্যক্ষদর্শী ও শ্রমিক নেতারা জানান, আজ সকাল ৯টায় আশুলিয়ার জামগড়া, নরসিংহপুর ও গাজীপুরের কোনাবাড়ি এবং মিরপুর-১৩ এর বিভিন্ন কারখানার কয়েক হাজার সাধারণ শ্রমিক বেতন বৃদ্ধি ও বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে রাস্তায় নামেন। তাদের হাতে কোনো লাঠি ছিল না, কোনো ইট ছিল না, ছিল শুধু প্ল্যাকার্ড – “আমাদের বাঁচতে দাও, বেতন বাড়াও”।

সেই শান্তিপ্রিয় মিছিলের ওপর বিনা উস্কানিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে পুলিশ। প্রথমে লাঠিচার্জ, এরপর কাঁদানে গ্যাসের শেল (টিয়ারশেল) ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করা হয়। এক পর্যায়ে পুলিশ সরাসরি গুলি চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে।

এই গুলিতে ঘটনাস্থলেই একজন শ্রমিক গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। নিহত শ্রমিকের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। এছাড়া অন্তত ১০ জন শ্রমিক গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

শুধু তাই নয়, এই ঘটনায় পুলিশ প্রায় ১০০ জন সাধারণ শ্রমিককে অবৈধভাবে গ্রেফতার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়াই টেনে হিঁচড়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন।

আজকের এই ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। এটি দেশের সামগ্রিক শিল্প ধ্বংসের চিত্রের একটি অংশ। তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক মাসে দেশে প্রায় ১৫০০ মিল, ফ্যাক্টরি, কল-কারখানা ও গার্মেন্টস বন্ধ হয়ে গেছে। সামনে আরও বন্ধ হওয়ার পথে।

শ্রমিক নেতারা বলছেন, বর্তমান বিএনপি সরকার পরিকল্পিতভাবে গার্মেন্টস শিল্পকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। বিদ্যুৎ নেই, গ্যাস নেই, ব্যাংক ঋণের সুদের হার দ্বিগুণ, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভয়াবহ। এর ফলে মালিকরা কারখানা চালাতে পারছেন না।

কারখানা বন্ধ হওয়া মানে শুধু একটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়া নয়, এর মানে কয়েক লক্ষ পরিবারের মুখের ভাত কেড়ে নেওয়া। দেশে নতুন কর্মসংস্থান নেই, পুরোনো কর্মসংস্থান ধ্বংস হচ্ছে। সর্বস্তরের সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ আজ দিশেহারা। তাদের জীবিকা কিভাবে নির্বাহ হবে, তার কোনো উত্তর সরকারের কাছে নেই।

সাধারণ শ্রমিকদের ওপর সরকারি পুলিশ বাহিনী যে নির্মম অত্যাচার ও নির্যাতন শুরু করেছে, তা নারকীয় কায়দাকেও হার মানায়। যারা দেশের রপ্তানি আয়ের ৮৫% এনে দেয়, যাদের ঘামে দেশের চাকা ঘোরে, তাদের বুকে গুলি চালানো হলো।

আজকে একজন সাধারণ শ্রমিককে গুলি করে হত্যার দায়ভার কে নেবে ? কার নির্দেশে শান্তিপূর্ণ মিছিলে গুলি চালানো হল? টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড কি নিরস্ত্র শ্রমিকদের জন্য? শ্রমিকদের দাবি অত্যন্ত ন্যায্য। দ্রব্যমূল্যের সাথে সঙ্গতি রেখে বেতন বৃদ্ধি করতে হবে। বন্ধ কারখানা খুলতে হবে। গ্রেফতারকৃত ১০০ জন শ্রমিককে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে এবং গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত ও আহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। নিহত শ্রমিকের লাশের দায় সরকারকেই নিতে হবে। অন্যথায়, এই আগুন সারা দেশের শিল্পাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়বে।

Pushpak Bhattacharya
পুষ্পক ভট্টাচার্য

পুষ্পক ভট্টাচার্য একজন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করার পর ২০২৬-এ Bengal Liberty-তে সাংবাদিক হিসেবে তাঁর পেশাগত যাত্রা শুরু হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদ এবং ক্রীড়া সাংবাদিকতার প্রতি বিশেষ আগ্রহ। দেশ-বিদেশের সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ, আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং খেলাধুলার নানা বিষযয়ের প্রতি বিশেষ ঝোঁক। ব্যস্ততার বাইরে বই ও সিনেমা সঙ্গী।