Manipur
Manipur

গোষ্ঠী সংঘর্ষে ফের অগ্নিগর্ভ মণিপুর, নিহত ৫

Bengal Liberty : ফের অশান্ত হয়ে উঠল মণিপুর। ননি জেলায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে অন্তত তিন জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। দুই সশস্ত্র দলের মধ্যে গুলির লড়াইয়ে নিহত তিন কুকি যুবক। ঘটনাটি ঘটেছে কেকরু নাগা গ্রামে। কুকিদের সংগঠন ‘কুকি ইনপি মণিপুর’-এর দাবি, নিহতরা গ্রামের পাহারাদার ছিলেন এবং নাগাদের সশস্ত্র দল তাঁদের খুন করেছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, দু’টি সশস্ত্র গোষ্ঠীর মুখোমুখি সংঘর্ষেই মৃত্যু হয়েছে তাঁদের।

ঘটনাস্থল থেকে বন্দুক, গুলি, ড্রোন ও বেশ কয়েকটি বোমা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এছাড়াও একই সম্প্রদায়ের দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের নাম থাংলেনসাং সিংন, থাংখোসেই হাওকিপ এবং লামিনসাং কিপগেন। তাঁরা সকলেই চূড়াচাঁদপুর জেলার বাসিন্দা। ২৯ অক্টোবর থেকেই ওই এলাকায় গুলির লড়াই চলছিল। বর্তমানে ওই এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। কুকি সংগঠনটির অভিযোগ, এলাকায় আগে থেকেই নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কার কথা জানানো সত্ত্বেও গা করেনি প্রশাসন।

ফলে সাধারণ মানুষ এলাকা পাহারা দিতে অস্ত্র হাতে রাস্তায় নামতে বাধ্য হন। স্থানীয়রা এই ঘটনার জন্যে মণিপুর সরকার ও প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তাকেই এর জন্য দায়ী করেছেন। শনিবারই মণিপুরের রাজধানী ইম্ফলে বিরাট মিছিল করেছিল মেতেই এবং নাগা সম্প্রদায়। তাদের অভিযোগ, কুকি জো সম্প্রদায়কে ব্যবহার করে রাজ্যে ছায়াযুদ্ধ চালাচ্ছে কেন্দ্র সরকার।

ওই বিরাট মিছিলের জেরে কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে যায় ইম্ফল। তবে এই হিংসার ঘটনাটি ঘটেছে মিছিলের কয়েকঘন্টা আগে। জানা গিয়েছে, শনিবার সকাল ৯টা নাগাদ নাগা অধ্যুষিত রংমেই জেলার তাজেইকাইফুন গ্রামে। নাগাদের গুলিতেই তিনজনের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে খবর। কুকিদের সংগঠন কুকি ইনপি মণিপুরের তোপ, কুকি অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে নিরাপত্তা দিচ্ছে না সরকার। কোনওরকম উসকানি না থাকা সত্ত্বেও নাগা হামলা চলছে কুকিদের উপর।

সংগঠনের অভিযোগ, ইচ্ছাকৃতভাবে নিরাপত্তা দিচ্ছে না সরকার। কুকিদের উপর পরিকল্পিতভাবে নির্যাতন চলছে। উল্লেখ্য, দিনকয়েক আগে দুষ্কৃতীদের গুলিতে দুই গ্রামবাসীর মৃত্যুতে উত্তাল হয় ইম্ফল। ইম্ফল ইস্ট ও কাংপোকপি জেলার সীমান্তে খোংবাল সুনুরোক উয়োক এলাকায় সম্প্রতি জঙ্গলে কাঠ কুড়োতে গিয়েছিলেন ১৬ জন গ্রামবাসী। তখনই পাহাড় থেকে নেমে এসে তাঁদের উপর এলোপাথাড়ি গুলি চালায় সশস্ত্র জঙ্গিরা।

এই ঘটনায় দু’জনের মৃত্যু হয়। তারপর পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর আকার নেয় যে, প্রতিবাদ স্বরূপ খোদ মুখ্যমন্ত্রীর বাংলোর গেটের সামনে মৃতদেহ ফেলে যায় ক্ষুব্ধ জনতা। এই ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যাপক বাড়ানো হয় মুখ্যমন্ত্রীর বাংলোর। রাজ্যে নতুন করে হিংসা ছড়াতেই মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই খেমচাঁদ সিং সোজা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দ্বারস্থ হয়েছেন। সূত্রের খবর, রাজ্যে শান্তি ফেরাতে সবরকমভাবে মণিপুর সরকারকে সাহায্য করার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

Pushpak Bhattacharya
পুষ্পক ভট্টাচার্য

পুষ্পক ভট্টাচার্য একজন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করার পর ২০২৬-এ Bengal Liberty-তে সাংবাদিক হিসেবে তাঁর পেশাগত যাত্রা শুরু হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদ এবং ক্রীড়া সাংবাদিকতার প্রতি বিশেষ আগ্রহ। দেশ-বিদেশের সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ, আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং খেলাধুলার নানা বিষযয়ের প্রতি বিশেষ ঝোঁক। ব্যস্ততার বাইরে বই ও সিনেমা সঙ্গী।