Bengal Liberty : চোরবাগানের মর্মান্তিক পদপিষ্টের ঘটনার ক্ষত এখনও টাটকা। তার মধ্যেই সামনে কালীপুজো। মণ্ডপে মণ্ডপে হাজার হাজার দর্শনার্থীর ভিড় সামলাতে এবার আগেভাগেই সতর্ক প্রশাসন। চোরবাগানের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে দুর্ঘটনা এড়াতে কলকাতা পুলিশ ও স্বরাষ্ট্র দপ্তরের তরফে জারি করা হয়েছে একগুচ্ছ নির্দেশিকা। এবার পুজো কমিটিগুলিকে নিয়ে বৈঠকে বসছে কলকাতা পুলিশ।
উৎসবের মরশুমে কীভাবে বিষাদের অন্ধকার নেমে এসেছিল, তার জলজ্যান্ত উদাহরণ চোরবাগানের ঘটনা। কেবলমাত্র সচেতনতার অভাবেই প্রাণ হারিয়েছেন ১৯ জন। সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা মাথায় রেখেই পুলিশের জারি করা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর বা এসওপি (SOP)-তে বলা হয়েছে, মণ্ডপে ঢোকা ও বেরোনোর পথ স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করতে হবে। এই সমস্ত বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য সোমবার আলিপুরের ধনধান্য স্টেডিয়ামে কালীপুজো কমিটিগুলির সঙ্গে একটি প্রস্তুতি বৈঠকে বসতে চলেছে কলকাতা পুলিশ।
এদিকে পুলিশের SOP-তে উল্লেখ রয়েছে ভিড়ের পরিস্থিতি বুঝে ধাপে ধাপে দর্শনার্থীদের প্রবেশ ও প্রস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। অতিরিক্ত ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলে অবিলম্বে নতুন করে দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ রাখতে হবে। এবার মণ্ডপ ও সংলগ্ন রাস্তায় অতিরিক্ত স্বেচ্ছাসেবক রাখার উপরেও বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। একসঙ্গে বেশি মানুষকে ঢুকতে না দিয়ে পর্যায়ক্রমে দর্শনার্থীদের মণ্ডপ দর্শনের সুযোগ দিতে হবে।
আরও খবর
কোনোভাবেই প্রস্থান পথ দিয়ে দর্শনার্থীদের প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না। মণ্ডপ চত্বর পর্যাপ্ত আলোয় আলোকিত রাখার পাশাপাশি জরুরি নির্গমন পথের সামনে কোনো বাধা রাখা যাবে না। বিপদের পরিস্থিতি তৈরি হলে ওই পথ দিয়ে দ্রুত দর্শনার্থীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা রাখতে হবে।
পুজো কমিটিগুলিকে মাইকে ঘোষণা করার ক্ষেত্রেও বিশেষ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। এমন কোনো ঘোষণা করা যাবে না, যাতে দর্শনার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ায়। বরং স্পষ্ট, শান্ত ও নির্দিষ্ট নির্দেশ দিতে হবে। পাশাপাশি, প্রত্যেক পুজো কমিটিকে একজন করে ‘ইনসিডেন্ট কো-অর্ডিনেটর’ রাখতে হবে। এর সঙ্গে সাদা পোশাকে পুলিশ মোতায়েন, সিসিটিভি ও ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি এবং বিদ্যুৎ বিপর্যয় মোকাবিলার সুব্যবস্থাও রাখতে হবে।সব মিলিয়ে, কালীপুজো নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে নিরাপত্তা এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণের বিষয়গুলিতে এখন থেকেই বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে চাইছে প্রশাসন।


